August 4, 2018 7:21 pm A- A A+

জেডিসির ফরম পূরণে গলাকাটা ফি আদায়

বানী ডেস্কঃ

জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগ রয়েছে,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ওই পরীক্ষার ফি এবং কেন্দ্র ফিসহ ২৫০ টাকা ধার্য করলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতায় নানা অজুহাত দেখিয়ে দুই-তিনগুণ বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।৯ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএম মোর্শেদ বিপুলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে,গত ৩০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে জেডিসি পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে।এবার জনপ্রতি ওই পরীক্ষার ফি ১০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ১৫০ টাকা ধার্য করা হয়।১২ আগস্ট ২৫ টাকা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের শেষ দিন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ১১টি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার উত্তর কাজির হাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী জানান,জেডিসির ফরম পূরণে তাদের মাদ্রাসায় জনপ্রতি ১০০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।নির্ধারিত অংকের এই টাকা দিয়েই তাদেরকে ফরম পূরণ করতে হচ্ছে।সেক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না।ওই মাদ্রাসার সুপার আবদুল বারেক বলেন,‘রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪৫ জন ছাত্রছাত্রী।এর মধ্যে কিছু কম কিংবা সবাই ফরম পূরণ করতে পারে।ফরম পূরণের ফি’র সঙ্গে পেছনের বকেয়া বেতন,সেশন,স্কাউট ফিসহ ৭০০-৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। কারণ অনলাইন-কম্পিউটার,ফাইনাল লিস্ট,টট লিস্ট বের করা ও সাবমিশনে খরচ লাগে।এসব ফি সরকারি রশিদ দিয়ে নেয়া হচ্ছে।’খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ধার্যকৃত ফি ২৫০ টাকা হলেও নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে উপজেলার চরমোন্তাজ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা,উত্তর কাজির হাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদ্রাসা,সাজির হাওলা আকবারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও আমলিবাড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসাসহ ১১টির মধ্যে বেশিরভাগ মাদ্রাসায় জেডিসির ফরম পূরণে শিক্ষার্থীপ্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় দুঃস্থ-অসহায় পরিবারের শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকের মধ্যে রয়েছে।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ,কেবল ফরম পূরণের সময় এলেই বেতন,সেশন,খেলাধুলাসহ ইত্যাদি ফি’র অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাড়তি টাকা আদায় করে মহাবাণিজ্য করছে।কিন্তু শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের রশিদ দিচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা এসব জেনেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের এ উদাসিনতাকে পুঁজি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাণিজ্য করে যাচ্ছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়সারাভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মোকলেছুর রহমান বলেন,‘যারা টাকা দেয়,তারাও যদি না বলে তাহলে কিভাবে ব্যবস্থা নেব।’

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 69 বার