August 12, 2018 5:00 pm A- A A+

সুবিধাভোগের চিন্তা এঅঞ্চলের সাংবাদিকতার ধারাকে পিছিয়ে দিচ্ছে

বানী ডেস্কঃ
এস এম তুষারঃ

সুবিধাভোগের চিন্তা এঅঞ্চলের সাংবাদিকতার ধারাকে পিছিয়ে দিচ্ছে-আমাদের কলম আছে সেখানে,যেখানে খড়ের গাদার গন্ধ এখনও শুকিয়ে যায়নি আলোচিত লাইনটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।পড়ে থাকে অবহেলায়।কলম এখন দালালিতে ব্যস্ত নেতাদের,ক্ষমতাবানদের,টাকাওয়ালাদের চাটুকারিতায় নিমগ্ন।বরিশালের সাংবাদিকতার জগত ফুলে ফেপে বাংলা সিনেমার জাম্বু সাইজ হয়েছে এবং হচ্ছে।কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে স্বাস্থ্য ভালো না শরীরে পানি জমেছে।আর যাদের স্বাস্থ্য ভালো তাদের মেদ-ভূঁড়ি;কি করি যন্ত্রনা!বিসিসির নির্বাচন এবার ২০১৮ তে হলো।দু’একটি বাদে আর কোন পত্রিকা মনেই করেনি যে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে।স্বল্পমাত্রায় না ব্যাপকভাবে সেটা বিতর্কের বিষয়।তবে হয়েছে এটা সত্য।মনীষার হাত ভাঙ্গার কারনটা সচিত্র জানলেই কথার সত্যতার প্রমান পাওয়া যাবে।অবশ্যই আমরা বলছিনা যে বরিশালের সাংবাদিকরা ভীরু বা তারা সাংবাদিকতা জানেনা।বরং অনৈক্য,অসংহতি,ক্ষমতার চর্চা করার প্রবনতা এসবই নেতিবাচক হিসাবে আমাদের সামনে উঠে আসে।তবে সকল সাংবাদিক না কোন কোন সাংবাদিক।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যিনি প্রভাষক তিনিও অধ্যাপক আর যিনি অধ্যাপক তিনিও।বরিশাল শহরে তিনটা প্রেসক্লাব,ডজনে ডজনে দৈনিক পত্রিকা,শত শত সাংবাদিক মাশাআল্লাহ!যেন সুলতান ইব্রাহীম লোদি,কিন্তু জহিরুদ্দিন বাবর মাত্র কিছু সৈন্য নিয়েই পাহাড় টলিয়ে দেয়।এখন সাংবাদিক নামে পাবলিক যে ঠোঁট বাকা করে তা এইসব কিছু দালালদের জন্য।যার জন্য বিভিন্ন মহল সাংবাদিকদের কলার ধরার মনোবল রাখে।এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে এখানকার সাংবাদিকদের নৈতিক অবক্ষয়,যারা রাজনৈতিক তেলবাজিতে ব্যস্ত।তারা সাদেকনামা,সাদেকবন্দনায় অস্থির।তো সাদেকনগরের সাংবাদিক আর তাদের পত্রপত্রিকাগুলো যাদের কাছে নির্বাচনের অনিয়মগুলো মোটেও নজরে আসেনি।আসলে যদি সাদেক আবদুল্লাহ গোস্যা করেন!পন্ডিতগন তাদের থেকে দূরে থাকেন যারা অত্যাধিক সম্মান দিতে যেয়ে অত্যাধিক লজ্জায় ফেলে দেন।একটা প্রবাদ আছে,যে রাজা পন্ডিতের কাছে যায় সে উৎকৃষ্ট রাজা,আর যে পন্ডিত রাজার কাছে যায় সে নিকৃষ্ট পন্ডিত।সাদেকের দয়া করুনা লাভে কত সাংবাদিকদের যে দেখি কালিবাড়ি রোডের আশেপাশে ঘুর ঘুর করছে,দেখে আমরা লজ্জা পাই।তবে সাদেক বলে কথা নয়।আসল বিষয় হচ্ছে ক্ষমতার আশেপাশে থাকা,এক আধটু ওম নেয়া।অথচ সাংবাদিকতার মানে হচ্ছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা।জনসম্পৃক্ততা এখানে বড় নিয়ামক।কিন্তু এখানকার ব্যাপক সাংবাদিকদের কোন পাবলিক ফাংশন নেই।বরং আছে স্যান্ডো গেঞ্জির বুক পকেট।ডিসি দাওয়াত দিলেন কিনা,পুলিশ সুপার চেয়ার দিলেন কিনা এসবের দিকে কড়া দৃষ্টি।তাদের হাতে যখন নেতৃত্ব থাকে বা চলে আসে তখনতো কোন কাউন্সিলরের গাফিলতিতে অসহায় নুরুল হক কিংবা আম্বিয়া বেগম সরকারী চাল পায়নি সেটা কোন ধর্তব্যেরই বিষয় নয় বরং কাউন্সিলরের তেল চকচকে ছবির নিচে ক্যাপশন ছেপে দেয় গরীবদরদী,এমন কাউন্সিলরইতো ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দরকার।সমস্যা শুধু গরীবদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি না ওটা বড়লোকদেরও আছে।কিন্তু আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত বড়লোকদের পাশে এমন সব সাংবাদিকদের পাওয়া যাবেনা।এই মনস্তাত্বিক সুবিধাভোগের চিন্তা এঅঞ্চলের সাংবাদিকতার ধারাকে ক্রমশই পিছিয়ে দিচ্ছে।বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মী যারা আছেন তারা মুখ খুলছে না,কলম ধরছে না।কারনটা অনিবার্য বা অজ্ঞাত।সাদেক বলে কথা নয়।জোয়ারের নায়ে তারা বাদাম দেয়।সাদেকের বদলে যদি পারস্যের সম্রাট নাদের শাহ থাকে তবে সুবিধা দিলে তার পক্ষেও লিখবে।সাদেক বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির যোগ্য উত্তরসূরী কিনা সেটা সময় বলবে।যাক না আরো অন্ততঃ ৫/১০ বছর।গাছ মাত্র চার ইঞ্চি,এখনই যদি বলা হয় এই ভাবিবৃক্ষ এক্ষুনি সাড়ে চারশত ফল দিবে তবে কলম আর বিচক্ষনতা থাকলো কোথায়?

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 199 বার