August 16, 2018 8:01 pm A- A A+

ঈদে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ৩০ বিলাসবহুল লঞ্চ

বানী ডেস্কঃ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে বড় ও বিলাসবহুল ৩০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন লঞ্চ চালু হতে যাচ্ছে।আগামী শনিবার (১৮ আগস্ট) থেকে এই লঞ্চ সেবা চালু হবে।ঢাকা-বরিশাল রুটে শনিবারের পর থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে পারে এমন চিন্তা থেকে এই সার্ভিস চলু করা হচ্ছে।ফিরতি যাত্রার জন্যে ঈদের পরদিন থেকে এক সপ্তাহ অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ এই সার্ভিস চালু থাকবে।বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল অফিস সূত্র এসব তথ্য বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছে।এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি’র জাহাজ বাঙালী ও মধুমতি ছাড়াও স্টিমার সার্ভিসে পিএস মাহসুদ,লেপচা,অস্ট্রিচ,টার্ন নামের ৬টি নৌযান থাকছে।যারা ১৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে যাত্রীসেবা দেবে।বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ ও নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে-যাত্রীদের নিরাপত্তায় বিগত সময়ের মতো এবারও নানা পদক্ষেপও নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।এবারও বরিশাল নদী বন্দরে ২২টি লঞ্চ বার্থিং (পার্কিং) সুবিধা দেওয়া হবে।যাত্রীর চাপ অনুযায়ী এসময় চলবে বিভিন্ন লঞ্চের ডাবল ট্রিপ।বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ ও নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়,চালকদের পাশাপাশি,মালিক ও যাত্রীদের উদ্দেশে ১৫টি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ নির্দেশ দিয়েছেন।এসব সতর্কতার মধ্যে রয়েছেঃঅতিরিক্ত যাত্রী নৌযানে না ওঠানো,প্রশিক্ষিত ক্রু দিয়ে নৌযান চালানো,আবহাওয়া পূর্বভাস লক্ষ্য করা,অপরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক না করা,আকাশে আলো না দেখা দেওয়া পর্যন্ত নৌবন্দর ত্যাগ না করা ইত্যাদি।বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়,বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটে সরাসরি যাত্রীসেবা দেবে বেসরকারি মালিকানাধীন এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১,৯,কীর্তনখোলা- ২,১০,সুরভী-৭,৮,৯,সুন্দরবন-৮,১০,১১,পারাবত-৮,৯,১০,১১,১২,কালাম-১,দীপরাজ,ফারহান-৮,টিপু-৭,কালামখান-১,গ্রীন লাইন-২,৩।এই ২২টি সরাসরি চলাচলকারি লঞ্চ ছাড়াও ভায়া হিসেবে বরিশাল নদীবন্দর হয়ে আরও আটটি লঞ্চ বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীদের সেবা দেবে।বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন,‘ঈদের সময়ে লঞ্চে মালামাল পরিবহন অনেকটাই বন্ধ রাখা হয়।এসময় লঞ্চগুলো মালামাল পরিবহন বন্ধ রেখে লোড-লাইনের ওপর ভিত্তি করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করে।’আজমল হুদা আরও জানান,নৌ-পথের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে বরিশালের আওতাধীন নৌ-রুটে বিকনবাতি-বয়াসহ সার্বিক সকল নিরাপত্তা সাইন চেক করা হয়েছে।সবগুলো ঠিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।পাশাপাশি মাস্টারদের বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম মেনে লঞ্চ চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে-এরই মধ্যে যাত্রীদের নিরাপত্তায় বরিশাল নদীবন্দরকে ঘিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।এগুলোর মধ্যে রয়েছে নদী বন্দর এলাকায় যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ,আর্চওয়ে গেট বসানো,ঢাকামুখী নৌযানের বার্থিং (পার্কিং) প্লেস সম্প্রসারিত করা,ঈদের আগে ও পরে সাত দিন করে ১৫ দিন বাল্কহেডসহ ঝুকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা,নদীতে ফায়ার সার্ভিস,নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র টহল নিশ্চিত করা।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে-মেরিন ক্যাডেট,স্কাউট,গার্লস গাইডের সদস্যরা যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামাসহ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।থানা,নৌপুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা বন্দর এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।অসুস্থদের উদ্ধার কাজে ফায়ার-সার্ভিসের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যানবাহনসহ বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।ভাড়ার হারের বিষয়ে বরিশাল-ঢাকা রুটের সুন্দরবন লঞ্চ মালিক আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু দাবি করেছেন- ১৬৯ কিলোমিটার নৌরুটের জন্য সরকার নির্ধারিত হারেই তারা ভাড়া নেন।সে হিসেবে ঈদ মৌসুমের আগে-পরে মিলিয়ে ১৫ দিনে একমুখী ভাড়ার হার হচ্ছে ডেক ২৬০-২৮০ টাকা,সোফা-৬০০-৮০০ টাকা,কেবিন সিঙ্গেল ১২০০-১৫০০ টাকা,ডাবল ২৫০০-৩০০০ টাকা,সেমি-ভিআইপি ২৮০০-৩০০০ টকা ও ভিআইপি ৬০০০-১০০০০ টাকা।এই আওয়ামী লীগ নেতার দাবি-দুই ঈদ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে তারা ৩০-৪০ ভাগ হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রতিযোগিতামূলক হারে যাত্রী পরিবহনের লোকসান এ সময়ে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য-সচিব এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন–বরিশালের যাত্রীরা নৌযান মালিকদের হাতে জিম্মি।মালিকরা তাদের একচেটিয়া ব্যবসায়ে লোকসানের ধুয়া তুললেও তাদের নৌযানের সংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছরেই।আর ভাড়া বাড়ালেও সাধারণ যাত্রীসেবার মান বাড়ছে না।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 111 বার