August 29, 2018 5:33 pm A- A A+

গ্যাসে ভাসছে দ্বীপজেলা ভোলা

বানী ডেস্কঃ

একের পর এক গ্যাস আবিস্কার আর বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান মিলছে দ্বীপজেলা ভোলায়।যেন প্রাকৃতিক গ্যাসে ভাসছে ভোলা।এ গ্যাসের ওপর নির্ভর করেই একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার অপেক্ষায় রয়েছে।এতে একদিকে যেমন জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।বাপেক্স জানিয়েছে-জেলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ৪টি কূপ ছাড়াও শাহবাজপুর ইস্ট এবং ভোলা নর্থ নামে আরও একটি গ্যাস ক্ষেত্রের ২টি কূপে মোট গ্যাসের মজুদের পরিমান ১.৫ টিসিএস (ট্রিলিয়ন কিউবিট ফিট)।এর মধ্যে নতুন আবিস্কৃত শাহবাজপুর ইস্ট কূপে মজুদ রয়েছে ৭’শ বিসিএফ এবং ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রে রয়েছে ৬’শ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাস।বাকি সব রয়েছে গ্যাস রয়েছে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রে।ভোলার শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ইনচার্জ মো:হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন-জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে আরও একটি স্থানে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।এবং এ বছরই নতুন ওই স্থানে কূপের খনন কাজ শুরু হবে।শুধু তাই নয়,নতুন আরও একটি গ্যাস কূপ খননের চিন্তা রয়েছে। যা এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।হতে পারে সেটি দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র।ইনচার্জ আরও জানিয়েছেন,জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের যে মজুদ যা ভবিষ্যতে মোট মজুদের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এতে বলা চলে গ্যাসে ভাসছে ভোলা।বাপেক্স জানিয়েছে-তবে বর্তমানে ভোলাতে যে পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে তার মধ্যে প্রতিদিন উত্তোলন হচ্ছে ৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট।এর ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ বছর এ গ্যাস ভোলার মানুষ ব্যাবহার করতে পারবে বলেও জানান তিনি।বাপেক্স’র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে- বর্তমানে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন ৬৫টি বিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে,যা ব্যবহার হচ্ছে ২২৫ পাওয়ার প্লান্ট,৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাড়ে ৩৪ ক্ষমতা সম্পন্ন রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে।সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন-ভোলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এতে শুধু ভোলা নয়,দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুতের কোন সমস্যা থাকবে না।এছাড়াও ভোলাতে বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।দ্বীপজেলা ভোলাকে মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত করতে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মাণের কাজ এ বছরই শুরু হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।তিনি আরও বলেন-বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম জেলা হবে ভোলা এবং যা হবে দেশের সিঙ্গাপুর।এদিকে বাপেক্স প্রকল্প পরিচালক বজলুর রহমান জানান,শাহবাজপুর ইষ্ট নামের একটি কূপ এবং নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাসের মজুদ থাকলেও সেখান থেকে আপাতত কোন গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে না।তবে এসব ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।নতুন কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র না থাকায় গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।এ জেলায় আরও গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি।সাতটি উপজেলা,৫টি পৌরসভা ১০টি থানা এবং ৬৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দ্বীপজেলা ভোলার আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৪০৪ বর্গমিটার।এখানে গ্রাম রয়েছে ৭৭৩টি।এ জেলার জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।এক হাজার ১৩৩দশমিক ৪৬ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনা,তেতুলিয়া এবং ইলিশা নদী।এছাড়াও ২৭ হাজার ৫২৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে বনাঞ্চল রয়েছে।এদিকে ভোলার গ্যাস ব্যবহারের মধ্যেদিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান হলে আগামী কয়েক বছর পর একটি উন্নয়নশীন জেলায় রুপান্তিত হবে ভোলা এমনটিই মনে করছেন ভোলাবাসী।তাদের দাবি,গৃহস্থালি কাজেও গ্যাস সংযোগ দেয়ার।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 98 বার