September 4, 2018 7:10 pm A- A A+

ফসলের জমিতে বিদ্যুত প্লান্ট নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিলের দাবি

বানী ডেস্কঃ

তিন ফসলিসহ বসতভিটার জমিতে আশুগঞ্জ ও সেনাকল্যান সংস্থার তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে ধানখালীর সোমবারের বাজার সড়কে হাজারো নারী-পুরুষ মানবন্ধন,প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া,ধানখালী,ছইলাবুনিয়া,নিশানবাড়িয়া,চম্পাপুর ও দেবপুর গ্রামের মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।কৃষকরা জানান,এসব গ্রামগুলোয় কমপক্ষে এক হাজার একর তিনফসলী জমি রয়েছে।অন্তত দেড় হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে।কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঅ রয়েছে ১৯টি।রয়েছে একাধিক সাইক্লোন শেল্টার।কমিউনিটি ক্লিনিক,পরিবার পরিকল্পনা অফিস,কৃষি গুদামঘর,পুরনো বাজার রয়েছে।অন্তত ১০টি এনজিও রয়েছে।দেড় শতাধিক পুকুরসহ অসংখ্য মাছের ঘের রয়েছে।চার শ’ বছরের পুরনো দিঘী রয়েছে।সহস্র বছরের স্মৃতিবিজড়িত ধানখালীর প্রতি ইঞ্চি জমিতে ১২ মাস কোন না কোন ফসল উৎপন্ন হয়।শুধুমাত্র শত কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয় এই ইউনিয়ন থেকে।সারা বছর পরিপুর্ণ থাকে কৃষিশস্যে।সবুজের সমারোহে বিভোর থাকেন কৃষক।অংশগ্রহনকারীরা জানান,ইতোমধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণকাজ সম্পন্নের পথে।এছাড়া আরপিসিএল ১৩২০ মেগাওয়াট,আশুগঞ্জ ১৩২০ মেগাওয়াট,সিমেন্স ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত প্লান্ট করতে প্রায় তিন হাজার একর কৃষিজমিসহ বসতভিটা অধিগ্রহণ করেছে।এখন সেনাকল্যান সংস্থা আরও এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করলে ফসলী জমি থাকবেনা।ধানখালীর মানুষের দাবি তিনফসলী কৃষিজমিসহ বসতভিটা এলাকায় বিদ্যুত প্লান্ট না করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে,তাও মানছেন না এসব কোম্পানির কর্মকর্তারা।তাদের অভিযোগ,জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০০১ এবং কৃষি জমি সুরক্ষা আইন ২০১৫ উপেক্ষা করে বিদ্যুত প্লান্ট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।বক্তারা বলেন,শিল্পনীতি অনুসারে জনবসতি এলাকায় কোন শিল্প,কলকারখানা,ইটের ভাঁটা নির্মাণ করা যাবেনা।কিন্তু সব উপেক্ষা করা হচ্ছে।সর্বোপরি এসব জমিতে বিদ্যুত প্লান্ট করা হলে পেশাচ্যুত হবেন হাজারো কৃষক পরিবার।তাই মানবন্ধনে অংশ নেয়া লোকজন এই এলাকা থেকে অন্যত্র কোন অনাবাদি জমিতে বিদ্যুত প্লান্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন।মানববন্ধনে অংশ নেয়া নারী-পুরুষরা ‘আশুগঞ্জ-সেনাকল্যান ফিরে যাও’ লেখা সংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।মানববন্ধন পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আতাউর রহমান মিলন উকিল,দলিল উদ্দিন মাতুব্বর,ফরিদ উদ্দিন তালুকদার,আব্দুস সালাম মোল্লা,বাহাদুর সরদার,বেগম সাহিদা আফজাল প্রমুখ।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 125 বার