September 8, 2018 7:46 pm A- A A+

ভিডিও কলে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রীর কাছে যৌন আবেদন ববি রেজিস্ট্রারের

বানী ডেস্কঃ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে।বরিশালের একটি সরকারি কলেজের স্নাতক পড়ুয়া চাকরি প্রত্যাশী এক ছাত্রীকে চাকরি পাইয়ে দিতে সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে গভীর রাতে নির্জন বাসায় ডাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।খোঁজখবর নিঢে জানা গেছে-গভীর রাতে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে ভিডিও কল দিয়ে যৌন আবেদনময়ী অশালীন অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগ উঠেছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন যৌন হয়রানির অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরিশালের সুশীল সমাজ।কে এই মনিরুল?মনিরুল বিতর্কিত ক্যামব্রিয়ানের একটি শাখায় কিছুদিন চাকরি করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কীভাবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হয়েছেন তা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে রয়েছে নানা কানাঘুষা।জানা যায়,মনিরুলে স্ত্রী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী।গত নয় বছর যাবত তিনি ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের উপপরীক্ষা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সনদ শাখায় প্রেষণে চাকরি করেছেন।সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়।এদিকে একের পর এক নৈতিক স্খলনের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কাছে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।তখন উপাচার্য তাদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।অন্যদিকে শুধু এই ছাত্রীকেই নয়,এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানিসহ তাকে তার সাথে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে।ওই ঘটনায় ওই নারী শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিলো কর্তৃপক্ষ।কিন্তু তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তা উপাচার্যের বিরুদ্ধে।একজন নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির ঘটনা চেপে যাওয়ায় উপাচার্যের প্রশ্রয়ে দিনদিন রেজিস্ট্রার মনিরুল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ অনেকের।এছাড়াও রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে এলাকাপ্রীতিসহ লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে-তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।এক বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়।মা অনেক কষ্ট করে তাকে গ্রামের স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করিয়ে বরিশাল নগরীর একটি সরকারি কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।মাকে একটু স্বস্তি দিতে স্নাতক অধ্যায়নের পাশাপাশি তিনি একটি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানীর বিভিন্ন প্যাকেজ প্রকল্পে পার্টটাইম চাকরি করতেন।একই সাথে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন করতে থাকেন তিনি।ইতিপূর্বে ২ বার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির আবেদন করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।কিন্তু তার চাকরি হয়নি।এরপর তৃতীয় দফায় গত মে মাসে আবারও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদন করেন তিনি।কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার হলে এন্ড্রয়েড মুঠোফোন ব্যবহারসহ নানা সুবিধার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে চাকরি স্থায়ী করায় তার চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর।এই সময়ে ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.মনিরুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয় তার। প্রথম দিকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে সালাম ও কুশল বিনিময় হতো মাত্র।সময় গড়ানোর সাথে সাথে নম্বর চেয়ে নিয়ে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে কল দিতে থাকেন মনিরুল।জানতে চান ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয়।ওই ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার নিয়মকানুন জানতে চান।ওই ছাত্রীর দুর্বলতার সুযোগে রেজিস্ট্রার মনিরুল গত রমজানের শুরুর দিকে একপর্যায়ে তাকে রাতে ভিডিও কল দিতে শুরু করেন।তিনি রূপাতলী হাউজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা বাসায় একা থাকেন এবং সরকারি কলেজে চাকুরে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন বলে জানিয়ে নিজের একাকিত্ব প্রকাশ করেন।নিজের একাকিত্বের কথা বলে ওই ছাত্রীর অনুগ্রহ পাওয়ার আশা করেন এবং তাকে রূপাতলী হাউজিংয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আমন্ত্রণ জানান।ফেসবুক মেসেঞ্জারে এবং ভিডিও কলে ওই ছাত্রী ভয়ে তার বাসায় যেতে চায় না বলে তার ভয় ভাঙানোর চেষ্টা করেন।শুধু রাতে ভিডিও কল দিয়েই নয়,রমজান মাসের শেষের দিকে দিনেও বিভিন্ন স্থানে দেখা করার জন্য ডাকতেন ওই ছাত্রীকে।কিন্তু ওই ছাত্রী নানা কারণ-অজুহাতে এড়িয়ে চলতেন।এতে বিমুখ হয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুল ওই ছাত্রীকে মুঠোফোনে ভিডিও কলে বলেন-‘তুমি আমার জন্য কিছুই করোনি,একা থাকি জেনে তুমি এড়িয়ে চলো’।এসব কথা বলতে বলতে রেজিস্ট্রার মনিরুল নিজের আবেগ সংবরন করতে না।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 179 বার