September 22, 2018 10:37 pm A- A A+

ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল জল্লা

বানী ডেস্কঃ

উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে (৪০) শুক্রবার রাতে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।তিনি ওই এলাকার সুখলাল হালদারের পুত্র।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,রাত আটটার দিকে কারফা বাজারের নিজের কাপরের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হেলমেট পরিহিত তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে অর্তকিতভাবে চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন করে।এসময় নিহার হালদার (৩৫) নামের এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।নিহার ওই এলাকার নকুল হালদারের পুত্র।তাকে রাত ১১টার দিকে শেবাচিম হাপসাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই বাজারে বিদ্যুৎ ছিলো না।থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান,চেয়ারম্যানের বুকে ও পায়ে তিন রাউন্ড গুলি লেগে তিনি গুরুত্বর আহত হন।ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা মুর্মুর্ষ অবস্থায় চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে উদ্ধার করে প্রথমে পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতলে নিয়ে আসেন।রাত সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসকরা বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এদিকে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।স্থানীয় কারফা বাজারের ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধরা।খবর পেয়ে বরিশাল এবং উজিরপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস এবং গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে পথিমধ্যে তাদের বাধা দেয় স্থানীয়রা।এসময় গোয়েন্দা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করে তারা।এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ স্থানীয় কয়েক জন আহত হয়েছে।তারা স্থানীয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. সাঈদকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গ্রেফতার ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন।হত্যার ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য পান্না,আইয়ুব আলী ফরাজী,হরষিত রায়সহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার রাতে ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।ঘটনার পর নান্টু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো.ইউনুস এমপির ব্যক্তিগত সহকারী সাঈদ জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান,হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজিরপুরের কারফা বাজারের ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং প্রবাসী খোকন সরদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।খোকন সরদারের ভাই সোহাগ সরদার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেলা ২টায় লাশ ময়না তদন্ত শেষে নান্টুর লাশ এলাকায় নিয়ে আসলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা এম.পিসহ তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সাইদ দায়ী করে সকল খুনিদের গ্রেফতার পূর্বক ফাঁসির দাবী জানান।এ সময় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন,খুনীরা যত শক্তিশালী হউক না কেন,কেউ পার পাবে না।তাদের এই মাটিতেই বিচার করা হবে।এদিকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে উজিরপুরের জল্লা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচাজ (এসআই) মিজানও এবি ইউসুফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান,বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলে খুন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় র্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান,শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সিরাজ সিকদার,ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম পান্না,আইয়ুব আলী,হরষিত রায়সহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।তিনি আরও জানান,বিভিন্ন বিষয় সামনে বেরিয়ে আসছে।সবগুলো বিষয় আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি।এছাড়া ইউনিয়নের কুড়ুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান ও এবি ইউসুফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।নিহতের বাবা সুখলাল হালদার বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উজিরপুরের ইচলাদীতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা আ’লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠন,এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।মানববন্ধনে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,রাজনৈতিক অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরধরে এ হত্যাকান্ডটি ঘটেছে।ঘটনার সূত্র ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়াকে নিয়ে স্থানীয় এমপি ইউনুস ও উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল এর মধ্যে দন্দের সূত্রপাত।ঐ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান এর ঘনিষ্ট সহচর নান্টু মনোনিত হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয় এমপি সমর্থিত উর্মিলা বাড়ৈ।শুরু হয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে দন্ধ সংঘাত।পবিত্র রমজানে ইফতারিকে কেন্দ্র করে নান্টুর সমর্থকদের উপর হামলা চালায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন শাহসহ কতিপয় সদস্য।পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে গত ৭ জুলাই এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক, পৌর মেয়রসহ সকল নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জল্লা আইডিয়াল কলেজে এক বর্ধিত সভায় উভয়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়।সেখানেই থেমে নেই। এক মাস পূর্বে নান্টুর সমর্থক ছাত্রলীগ নেতা মিঠু বেপারীকে ইয়াবা সহ পুলিশে ধরিয়ে দেয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এমপি সমর্থিত মামুন শাহ্। ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফ এর ৪০বস্তা চাল আটক করে মামুন শাহর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।ওই ঘটনায় গোডাউনে ৪০ বস্তা চাল সিলগালা করে প্রশাসন।কয়েকদিন আগে মিঠু জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাসানো মূল পরিকল্পনাকারী এমপি সমর্থিত তাইজুল ইসলাম পান্নাকে মারধর করে।আহত পান্না উজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়।এমপি ইউনুস ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থকদের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রকাশ্যে দন্দ সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 63 বার