September 24, 2018 6:56 pm A- A A+

তবুও অজেয় বিশ্বের মাওবাদীরা..

বানী ডেস্কঃ
এস এম তুষারঃ

সম্প্রতি মার্কীন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক প্রতিবেদনে বিশ্বের ৪র্থতম ভয়ঙ্কর সংগঠন হিসাবে মাওবাদীদেরকে চিহ্নিত করেছে।মার্কীন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মাওবাদীদের সংগঠন হিসাবে বোঝে সিপিআই,এম-এল আর তাদের সশস্ত্র শাখা জনযুদ্ধ গোষ্ঠীকে।রিপোর্টে তারা উল্লেখ করেছে ভারতের ৫৩ ভাগ নাশকতা করে এই মাওবাদী সিপিআই এম-এল।অতিচালাকের নির্বোধ কথাবার্তা।তারা হিন্দু জঙ্গীদের দেখে না যারা একটা গরুর জন্য একাধিক মানুষকে হত্যা করাটা পূন্যের কাজ বলে মনে করে,রাম-রহিম সিংদের মত গুরুবাবাদেরকে দেখে না,দেখেনা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে।তারা মাওবাদীদেরকে ভয়ঙ্কর মনে করে কারন চলমান বিশ্বে একমাত্র মাওবাদীরাই বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের জুলুম-আধিপত্যের বিরুদ্ধে কার্যকরী শক্তি।আর তাই বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল হিসাবে মার্কীন প্রশাসনের একটা দ্বায়িত্ব(!)মাওবাদীদেরকে যেনতেনভাবে সন্ত্রাসী হিসাবে প্রচার চালানো,মাওবাদীরা কেবল ভারতে নয় বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশসমূহে রয়েছে এবং জনগনের মধ্যে থেকে তার দ্রুত বিকাশও ঘটছে।৯০ দশকের শেষভাগ পর্যন্ত মাওবাদীদের আন্তর্জাতিক ঐক্যর সংগঠন আর.আই.এম অধিভুক্ত সংগঠনগুলো মাওবাদী গণযুদ্ধের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়েছে। যার মধ্যে-নেপাল মাওবাদী কমিউনিষ্ট পার্টি-মশাল,নিউজিল্যান্ড রেডফ্ল্যাগ গ্রুপ,ইরানিয়ান কমিউনিষ্টস সারবেদারান,বাংলাদেশের মাওবাদী পূর্ব-বাংলার সর্বহারা পার্টি,আমেরিকার মাওবাদী বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি,হাইতির বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন,ডোমিনিকান বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি,পেরুভিয়ান শাইনিংপাথ,ভারতের মাওবাদী জনযুদ্ধ গোষ্ঠী ইত্যাদি।নতুন বিশ্ব পরিস্থিতির সাথে মোকাবেলায় বিশ্ব মাওবাদীরা নয়া জনগনতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইন নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।আর সেজন্যই দুইশত বছর পূর্বে ইউরোপ যেমন কমিউনিজমের ভূত দেখেছে তেমনি আজ আমেরিকাসহ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ মাওবাদের ভূত দেখছে।তবে মাওবাদীরা ভূতপূর্ব কিছু নয়,সবসময়েই বর্তমান,অতীতের সারসংকলন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎের পথ নির্মান করে।মাওবাদীরা বলেছেন-ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল তবে জনগন পানি বিপ্লবীরা মাছের ন্যায়।যেখানেই নির্যাতিত গরীব কৃষক মেহনতী জনগন সেখানেই মাওবাদীরা,৬০এর দশক অর্থাৎ মাওসেতুংএর মহাবিপ্লবের পর থেকে এটাই বিশ্বের অন্যতম বড় সত্য।জনগনের মধ্যে পার্টির ভিত্তি না থাকলে মাওবাদীরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই করে কিভাবে?মাওবাদীরা সাধারনের উপর নাশকতা করে এটা তার শত্রু রাজনীতিও বলবে না,মাওবাদীরা যুদ্ধ করে প্রতিক্রীয়াশীল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে,তাদের নির্বিচার নাশকতার পাল্টা যা করনীয় মাওবাদীরা তাই করে।তবে হ্যাঁ এটা সত্য যে বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দেশ হিসাবে ভারত মাওবাদীদের অন্যতম প্রধান আঁকড়ে ধরা একটা দেশ।ভারতের মাওবাদী বিপ্লবীদের স্ফূলিঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্বে আগুন ধরাবার সাহসী ভূমিকা রাখবে।এই দুনিয়ায় যতদিন সাম্রাজ্যবাদী শোষন,নির্যাতন থাকবে ততদিন তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য মাওবাদী বিপ্লবীরা থাকবে। এটাই জনগনের ইচ্ছা,প্রকৃতির ইচ্ছা!

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 86 বার