September 24, 2018 6:24 pm A- A A+

বরিশাল অঞ্চলে ১০ আসন চাইবে জাতীয় পার্টি:দুটি আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

বানী ডেস্কঃ

কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপি নয়,দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও।বরিশালের দুটি নির্বাচনী এলাকায় বিরোধ চলছে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দল ওয়ার্কার্স পার্টিতে।বরিশাল ২ ও ৩ আসনে মনোনয়নকেন্দ্রিক এ দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি মিছিল সমাবেশের পাশাপাশি গণপদত্যাগের হুমকির কথা শোনা যাচ্ছে।এদিকে মহাজোটে গেলে আওয়ামী লীগের কাছে বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মধ্যে ১০টি চাইবে এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি।এ ১০ আসনের মধ্যে ৩টিতে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছে।৯০ পরবর্তী সময়ে এমপি ছিলেন আরও একজন।বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা আমীন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার।এর আগে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন।পটুয়াখালী-১ আসনে আছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য রহুল আমীন হাওলাদার।এছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে পিরোজপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হওয়া রুস্তুম আলী ফরাজী সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।এ হিসেবে বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মধ্যে ৩টিতে এমপি আছে জাতীয় পার্টির।এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদে এমপি ছিলেন জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম কিবরিয়া টিপু।এ ৪টি আসনের পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চলের আরও ৬টি আসন আওয়ামী লীগের কাছে চাইবে জাতীয় পার্টি।দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন,‘বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনেই প্রার্থী দেয়ার সক্ষমতা আছে আমাদের।তেমন প্রস্তুতিও রয়েছে।কিন্তু মহাজোটের অংশীদার হয়ে নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগের কাছে আমাদের দাবি থাকবে ১০টি আসন।এগুলো হচ্ছে- বরিশাল-৩, ৫ এবং ৬,পটুয়াখালী-১ ও ৪,ভোলা-৩, পিরোজপুর-১ ও ৩,ঝালকাঠি-২ এবং বরগুনা-১।’এসব এলাকায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কারা রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘বরিশাল-৩’এ সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।বরিশাল-৫ এ আমি নিজে এবং আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন তাপস দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছি।বরিশাল-৬ এ প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি নাসরিন জাহান রতনা আমীন,পটুয়াখালী-১ এ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার,পটুয়াখালী-৪ এ সাবেক এমপি রাজ্জাক খানের ছেলে হুমায়ুন কবির মাসুম খান,পিরোজপুর-১ এ দলের জেলা সভাপতি মুকুল আহম্মেদ বাদশাহ,পিরোজপুর-৩ এ বর্তমান এমপি রুস্তুম আলী ফরাজী,ঝালকাঠি-২ এ আনোয়ার হোসেন আনু, ভোলা-৩ আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কেফায়েত উল্লাহ নজিব ও নূর নবী খান মাসুমের মধ্যে যে কোনো একজন এবং বরগুনা-১ আসনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুনসুর আহম্মেদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এসব আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থান খুবই ভাল।’মহাজোটের আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে জাতীয় পার্টির যখন এমন অবস্থান ঠিক সেই মুহূর্তে মহাজোটেরই আরেক অংশীদার ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে চলছে তীব্র বিরোধ।৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই অঞ্চলে ওয়ার্কার্স পার্টিকে কোনো আসন দেয়নি মহাজোটের নেতৃত্বে থাকা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটি দেয়া হয় এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে।তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে এমপি হন ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো.টিপু সুলতান।মহাজোট প্রশ্নে আসছে নির্বাচনে এ আসনটি আওয়ামী লীগ কাকে দেবে সেটি এখন চূড়ান্ত না হলেও এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দ্বন্দ্ব সংঘাত।এখানে বর্তমান এমপি শেখ টিপু সুলতানের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে মাঠে আছেন যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান।কিছুদিন আগে ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে টিপু সুলতানের নাম ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ার্কার্স পাটির ছাত্র সংগঠন ছাত্র মৈত্রীর জেলা সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বাবুল বলেন,দল এককভাবে নাকি মহাজোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবে সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়।এ আসনটি মহাজোটের অংশীদার হিসেবে আমরা পাব কিনা তাও স্পষ্ট হয়নি।সর্বোপরি ঘোষণা হয়নি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল।এরই মধ্যে জেলা কমিটি কি করে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম মৃধা বলেন,‘নানা কারণে দারুণভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন বর্তমান এমপি টিপু সুলতান।নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা,বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এমনকি গণকবর প্রকল্পের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।তাই আমরা এবার তার মনোনয়নের পক্ষে নেই।’এসব বিষয় নিয়ে আলাপকালে এমপি টিপু সুলতান বলেন,দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরও কেন তিনি (আতিক) মনোনয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন সেটা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।তাছাড়া তিনি যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি। ওয়ার্কার্স পার্টির ইতিহাসে নেই যে মূল দল ছাড়া অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেউ কোনো দিন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছে বা নির্বাচন করেছে।সে যা করছে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।এসবের কোনো দায়দায়িত্ব দল নেবে না। বরিশাল-৩’র মতো বরিশাল-২ এ মনোনয়ন নিয়ে বিবাদ বিসম্বাদ চলছে ওয়ার্কার্স পার্টির দুই মনোনয়ন প্রার্থীর মধ্যে।তারা হলেন-কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন এবং কিছুদিন আগে ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেয়া জহিরুল ইসলাম টুটুল।নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে বেশ ক’বছর ধরেই মাঠে আছেন সুজন।তবে কিছুদিন আগে এখানে দলীয়ভাবে টুটুলকে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্র।এই ঘোষণা নিয়েই এখন দলের মধ্যে চলছে গোলমাল।এরই মধ্যে মনোনয়নের প্রতিবাদে উজিরপুরে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী। উজিরপুর উপজেলা যুব মৈত্রীর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন,মাত্র দু’বছর আগে বিএনপি থেকে ওয়ার্কার্স পার্টিতে আসা জহিরুল ইসলাম টুটুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে দল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে তার এখনও সখ্য রয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মন্টুলাল কুন্ডু বলেন, ‘প্রার্থী ঘোষণা তো হতে হবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায়। একতরফাভাবে কোনো ঘোষণা দেয়ার সাংগঠনিক বিধান নেই। সে কারণেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এত ক্ষোভ।মনোনয়ন প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন,‘যতদূর জানি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে ওয়ার্কার্স পার্টি।আমিও জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার কোনাে খবর আমার জানা নেই। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি সেটাই মেনে নেব।’জহিরুল ইসলাম টুটুলের বক্তব্য জানার জন্য ফোন দেয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।তবে তার মনোনয়নের সমর্থক উজিরপুর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফারহান বালী বলেন,‘দলীয়ভাবে জহিরুল ইসলাম টুটুলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।এ নিয়ে বির্তক কিংবা বিক্ষোভের কোনো সুযোগ নেই।নির্বাচনে প্রার্থী হলে আমরা জহিরুল ইসলাম টুটুলকে নিয়েই ভোটের মাঠে নামব।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 61 বার