September 26, 2018 8:28 pm A- A A+

পাক শিবিরে টাইগারদের হানা:পাত্তাই পেলো না পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্কঃ

মুশফিক-মিথুনের ব্যাটে চড়ে পুঁজি ২৩৯ রান,কিন্তু বল হাতে পাকিস্তানের ইনিংস রীতিমত ধসিয়ে দিলেন বাংলাদেশের বোলাররা।এক মোস্তাফিজ একাই নিলেন চার উইকেট।বাকিদের দারুণ ভূমিকা মিলিয়ে পাকিস্তানকে ৩৭ রানের ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পা রাখল টাইগাররা।ফাইনালে তাদের সঙ্গী ভারত।২৪০ রানের মাঝারি সংগ্রহ নিয়েও শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা।ইনিংসের প্রথম ওভারেই একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মাশরাফি।অধিনায়কের আস্থার জবাব হাতেনাতেই দেন মিরাজ।ওভারের শেষ বলে পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামানকে রুবেল হোসেনের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত করেন এই অফ স্পিনার।দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নেন পেসার মোস্তাফিজ।ওভারের দ্বিতীয় বলেই বাবর আজমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ‘ফিজ’।নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজকেও তুলে নেন মোস্তাফিজ।এরপর পাকিস্তানের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন শোয়েব মালিক।কিন্তু ৫১ বলে ৩০ রান করা মালিককে বিদায় করেন রুবেল হোসেন।তবে উইকেট পাওয়ার পেছনে বড় অবদান মাশারাফির।তার ‘সুপারম্যান’ ক্যাচেই বিদায় নিতে হয় শোয়েবকে।মালিকের বিদায়ের পর ৯৪ রানে পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট হিসেবে লিটন দাসের ক্যাচ হয়ে বিদায় নেন শাদাব খান (৪)।বোলার সৌম্য সরকারের প্রথম ওয়ানডে উইকেট এটি।তবে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকেন ওপেনিংয়ে নামা ইমাম-উল-হক ও আসিফ আলী।এই দুজনের ৭১ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ।৪৭ বলে ৩১ রান করা আসিফকে লিটন দাসের স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।আসিফের পর ক্রিজে জাঁকিয়ে বসা ইমামকে (৮৩) বিদায় করেন মাহমুদউল্লাহ।এবারও লিটনের ক্ষিপ্র স্ট্যাম্পিং।মূলত তার বিদায়েই লড়াইয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।এরপর দ্রুত পাকিস্তানের লো অর্ডার ব্যাটসম্যান নওয়াজ আর হাসান আলীকে তুলে নেন মোস্তাফিজ।তবে ৪৬তম ওভারেই শেষ হয়ে যেতো পাকিস্তানের ইনিংস।কিন্তু মোস্তাফিজের অসাধারণ বলে ক্যাচ তুলে দিয়েও উইকেটরক্ষক লিটন দাসের বদান্যতায় বেঁচে যান পাকিস্তানের লো অর্ডার ব্যাটসম্যান শাহেন শাহ আফ্রিদি।নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকের বদলে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো লিটন ক্যাচ মিস করেছেন আরও একবার।সেবারও বোলার ছিলেন মোস্তাফিজ।৩৪তম ওভারে আসিফ আলীর ব্যাটের কানায় লেগে লিটনের গ্লাভসে ধরা দিলেও একহাতে বীরত্ব দেখাতে গিয়ে মিস করেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে নিশ্চয়ই তার এসব ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায়।কারণ ম্যাচটা যে বোলারদের বীরত্বে জিতে গেছে বাংলাদেশ।তাও বেশ বড় ব্যবধানে।১ উইকেট হাতে রেখেও ২০২ রানেই থেমেছে পাকিস্তানের ইনিংস।আর ৩৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে বাংলাদেশ।এর আগে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচের শুরুতেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের না খেলার ধাক্কা সঙ্গী করেই মাঠে নামে বাংলাদেশ।তার বদলে দলে ফেরেন মুমিনুল হক।বাদ দেয়া হয় আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকেও।আনা হয় পেসার রুবেল হোসেনকে।টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়ে ইনিংসের শুরুতেই সেই পুরানো চেহারা বাংলাদেশের।মাত্র ১২ রানেই নেই ৩ উইকেট।ত্রানকর্তা হয়ে ওঠেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন।তাদের ব্যাটে ভর করেই ২৩৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।মুশফিক এক রানের জন্য পাননি এশিয়া কাপের তৃতীয় সেঞ্চুরি।ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরিত পূর্ণ করে ৬০ রানে ফেরেন মিঠুন।এর আগে ব্যাট করতে নেমে জুনায়েদ খানের করা তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে ফেরেন এক বছর পর ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকার।স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে ক্যাচ নেন ফখর জামান।তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন মুমিনুল হক।পরের ওভারের চতুর্থ বলে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে দুর্দান্ত এক শটে ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি হাঁকান মুমিনুল।কিন্তু পরের বলেই আফ্রিদির অসাধারণ এক ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হয়ে ৪ বলে ৫ রান করে ফেরেন মুমিনুল।পরের ওভারে ফেরেন ওপেন করতে নামা লিটনও।১৬ বলে মাত্র ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।বাংলাদেশের দলের ওপেনিংয়ের সেই পুরানো দৃশ্য।মাত্র ১২ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতনে উইকেটে আসেন মিঠুন।চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সাথে মিলে গড়েন শতরানের জুটি।৬৬ বল খেলে মাত্র ৩ চারের মারে পূরণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি।ইনিংসের ৩৪তম ওভারের চতুর্থ বলে বোলারের হাতেই ক্যাচ দিয়ে বসেন মিঠুন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন মুশফিক।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ১ রানের জন্য ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি।৯৯ রানে গিয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক।এরপর আর কেউই বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 93 বার