September 26, 2018 6:47 pm A- A A+

স্কুলছাত্রকে নির্যাতনে ইউপি সদস্য-যুবলীগ নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

বানী ডেস্কঃ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দোকান চোরের নাম বলতে না পারায় আল আমিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের পূর্ব চরমোন্তাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় মঙ্গলবার ওই স্কুলছাত্রের মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।আসামিরা হলেন পূর্ব চরমোন্তাজ (৮নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য আলমগীর মাল,একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নজরুল মাল ও স্থানীয় মোস্তফা হাওলাদার।নির্যাতনের শিকার আল আমিন চরমোন্তাজ এ ছত্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়,গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিয়নের পূর্ব চরমোন্তাজ গ্রামের মোসলেম মৃধার দোকান চুরি হয়।পরদিন বাদী খাদিজা বেগমের বাড়ির পশ্চিম পাশে তার ছেলে আল আমিন ব্যক্তিগত কাজে রওনা হয়।এমন সময় আসামিরা লোকজন নিয়ে একত্র হয়ে আল আমিনকে আটকে বলে,‘মোসলেমের দোকান যারা চুরি করছে তুই নাকি তাদেরকে চিনিস?আমাদের কাছে তাদের নাম বল।’এ সময় আল আমিন বলে,‘আমি আপনাদের কথা কিছুই বুঝি না।আর দোকান চুরির সম্পর্কে কিছুই জানি না।’এ কথা বলার পর আল আমিনকে ধরার জন্য আসামি আলমগীর মাল (ইউপি সদস্য) নির্দেশ দেন।এ নির্দেশের পর আলমগীরসহ অন্য আসামি নজরুল (যুবলীগ নেতা) ও মোস্তফা মিলে আল আমিনকে এলোপাতাড়ি কিল,ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারাত্মক জখম করে।আল আমিনের চিৎকারে তার মা (বাদী) এসে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও মারাত্মক মারধর করা হয়।পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের রক্ষা করেন।তবে বর্তমানে বাদীর পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে।এদিকে স্থানীয়রা জানায়,স্কুলছাত্র আল আমিনকে ছাড়াও মোসলেম মৃধার দোকান থেকে টাকা চুরির অপবাদে স্থানীয় সুলতান মিয়ার ছেলে ৮ বছরের শিশু হানিফ হোসেনকেও ইউপি সদস্য আলমগীরের নির্দেশে দিনভর বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়।হানিফ পূর্ব চরমোন্তাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।পরপর এই গ্রামে দুই স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আলমগীর মাল বলেন,‘আল আমিন ও হানিফ এক বৃদ্ধের দোকান চুরি করেছিল।পরে ওই বৃদ্ধের দোকান চুরির ঘটনাটি আমাকে জানালে হানিফ ও আল আমিনকে ডেকে আনাই।আল আমিন না বসে বারবার উঠে যায়।এ কারণে আল আমিনকে দুই-তিনটা থাপ্পড় দিয়েছি।হানিফকেও থাপ্পড় দিয়েছি।’চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন,‘ঘটনাটি শুনেছি।এটি খুবই দুঃখজনক।’

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 76 বার