November 7, 2018 2:42 pm A- A A+

বরগুনার আওয়ামী লীগ ও একজন সাংবাদিক……..

সম্প্রতি বরগুনা ০১ (সদর-আমতলী-তালতলী)আসনের মাননীয় সাংসদ অ্যাডভোটকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিক “দৈনিক কালের কণ্ঠ” অসত্য ও মনগড়া ভিত্তিহীন প্রতিবেদন করা হয়েছে। এমন অভিযোগে ওই প্রত্রিকাটির দ্বায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন ওই সংসদ।প্রকাশিত প্রতিবেদন গুলো পড়ে মনে হয়েছে সংবাদগুলো একপেশে। যা ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার অপপ্রয়াস মাত্র পাশাপশি সাংবাদিকতার এথিকসের সম্পূর্ণ বিপরীত। দেখে নেয়া যাক প্রতিবেদনগুলোর কোথায় কোথায় অসঙ্গিত রয়েছে। প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ১১ মার্চ। ‘পারিবারিক লীগে’ শম্ভু ফুলেফেঁপে’ এই শিরোনামে। চলুন প্রতিবেদনটির ময়নাতদন্ত করি। প্রতিবেদন বলা হয়েছে ২৫ বছর ধরে শম্ভুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এখানে দোষের কি? শুধু শম্ভুর নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতদিন ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি আছেন? গঠনতান্ত্রিকভাবে যদি তিনি থাকতে পারেন তবে একই প্রক্রিয়ায় শম্ভু কেন নয়? প্রতিটি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে শম্ভু সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।এছাড়া তার স্ত্রীকে মাধবী দেবনাথকে বানিয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এটাও অভিযোগ। বাস্তবতা কি বলে? কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ সম্মেলেনর মধ্য দিয়েই মাধবীকে সভাপতি নির্বাচিত করে। আর এ জন্য শম্ভুকে দায়ী করাটা যুক্তি যুক্ত তা পাঠকরাই ভালো বলতে পারবেন। পাঠক একটু বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের ছেলে জুবায়ের আদনান অনিক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তাহলে সেটা কি পারিবারিক নয়? আর তার ভাই, ভাইপো, ভাগ্নেরা কে কোন পদে আছেন? এবার বলুন সত্যিকারের পারিবারিক লীগ কার….

এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রভাব খাটিয়ে আয়ের বিষয়টি। শম্ভুর বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রে অনিয়ম-দুর্নীতির ২৪টি অভিযোগ লিখিতভাবে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।অভিযোগগুলো হলো, দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীদের যোগসাজশে নৈশপ্রহরী থেকে শুরু করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শম্ভু। অভিযোগ কারা করলেন ? ওই নেতারাই। নেতারা দুদকে না গিয়ে অভিযোগ কেন করছেন সে প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়। তার মানে দাঁড়ালো বিষয়টি স্বার্থের সংঘাত। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলো তিনি ভুয়া মুক্তিযুদ্ধো। উপমন্ত্রী থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখান এমপি শম্ভু। তবে কেউ তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ করতে দেখেননি। কে দেখেন নি? তিনি হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান। যদি তিনি এর আগে ও এক মুক্তিযোদ্ধাকে ডাকাত বলায় তার বিরুদ্ধে বরগুনা শহরে মিছিল হয়েছিলো। (কেউ কেউ তাকে লিঙ্গ সন্ত্রাস হিসেবেও আখ্যা দেয়। কেন এটা পাঠকদের বিবেচ্য) মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থাকতে কেন এই শাহজাহানের মন্তব্য নেয়া হল? এখানে ও কিন্তু আগের অভিযোগের মতো প্রতিবেদক নিরপেক্ষ ও দ্বায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেননি। তার মানে একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নিউজ করেছেন। আর শাহজাহানের অভিযোগের কারণ পৌরসভায় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান নি । কেন পান নি তার কারণ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করেছেন তিনি । এবার আসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে। অভিযোগ গেল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের লীগের মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদেরই লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন জেলা সভাপতিকে। আবার মনোনয়ন পেয়েও দাবি অনুযায়ী ঘুষ না দেওয়ায় কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে। পাঠক মনোনয়নের ব্যাপারটা কিন্তু সভাপতির একার হাতে না। তৃণমূলের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র তাদের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। কেন্দ্র চুড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। এবার বলুন মনোনয়ন বাণিজ্য’র কোনো সুযোগ এখানে ছিল কিনা? তারপর ও যদি ধরেই নেই মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে, তবে সেটা কি শম্ভু একা করেছেন? ঘুষ দিয়ে কারা পেয়েছেন আর কারা পাননি এমন কোন তথ্য নেই প্রতিবেদন। তবে একজনের অভিযোগ আছে। তিনি হলেন ঢলুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন সাহেব । তার বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠকের নামে সাধারণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অন্ত নাই। সম্প্রতি তিনি কোটি টাকার লোভে নিজের শিশু কণ্যাকে তার সম বয়সী এক প্রবাসীর কাছে বিয়ে দিয়ে দেড় মাসের মাথায় ওই প্রাবাসীর অর্থ সম্পদ লোপাট করে মেয়েকে দিয়ে ডিভোর্স দিয়েছেন। এই যার চরিত্র সে কি মন্তব্য করে আর তার মন্তব্য কে গ্রহন করে…..। এবার একটু ভিন্ন ভাবে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা করি। আমার বাড়ি যেহেতু বেতাগী উপজেলায় তাই বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় বেতাগীতে থাকার সুবাধে অনেক ইউনিয়নের লীগ প্রার্থীদের সাথে কথা হয়েছে। কেউ একবারের জন্য ও অভিযোগ করেন নি। বরঞ্চ শম্ভুর অনেক কাছের মানুষ মনোনয়ন পান নি। তার মধ্যে বেতাগী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উল্লেখযোগ্য। তাহলে মনোনয়ন বাণিজ্যের সংবাদটি ও মিথ্যা…………..

এরপরের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২৯ এপ্রিল সুনামের দুর্নাম” নামে। যেখানে বলা হয়েছে মাদকের বিনিময়ে মিছিলে যায় তরুণরা এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক ও সাধারণ সম্পাদক তানভির হোসাইন। ইয়াবার জন্য ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে নেতাদের নামে অপপ্রচার চালায় ওই সব তরুনরা। নেতা কারা যারা সংবাদ সম্মেলেন করলেন তারা। আর এজন্য দায়ী করা হচ্ছে শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথকে। তারা জানান, সুনাম বরগুনার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন কিন্তু কিভাবে, কাদের নিয়ে? তার সুনির্দষ্ট কোন ব্যাখা যেমন প্রতিবেদনে নেই তেমনি ওই দুই নেতা সুনামের মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনোরকম তথ্য প্রমানও দিতে পারেননি। এখানে একটা ঘাপলা কিন্তু থেকে যায়। আর তা হলো এ অভিযোগে কোন মামলা হয়েছে কি? ধরে নিলাম সুনাম মাদক ব্যবসা করেন! তাহলে তা দমনে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা পুলিশ কি করছে। তার কোন ব্যাখা নেই প্রতিবেদক ও সংবাদ সম্মেলনকারীদের কাছে। এবার আসি অভিযোগ প্রসঙ্গে। অভিযোগটা কাদের জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের। তবে দু মাস আগে ফেনসিডিল সেবন সহ ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো তানভির হোসাইনের। তার মানে কি দাঁড়লো, সর্ষের মধ্যেই ভূত। এছাড়া সম্প্রতি আমতলি ও তালতলী উপজেলার কমিটি করেছেন যুবায়ের আদনান অনিক ও তানভীর। আমতলীর সভাপতি যাকে বানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে ৫ কেজি গাঁজা পরিবহনের মামলা আছে। আর তালতলী ছাত্রলীগের সভাপতির বাবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামী তার এক আপন চাচাত ভাই। একই কাজ হয়েছে বেতাগীর কমিটির ক্ষেত্রে। এছাড়াও সম্প্রতি বামনা, সৈয়দ ফজলুল হক কলেজ ও কাকচিড়ার কমিটি দেয়ার পর অভিযোগ উঠেছে বিপুল অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি করেছেন ওই দুই নেতা। পাঠক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী ছাত্রলীগ নেতাদের চরিত্র বুঝতে পারছেন তো? তৃতীয় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৮ মে শম্ভুর বিপুল বিত্ত আ. লীগ ঘরহীন নামে। পাঠক এবার এই প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা করি , আগের প্রতিবেদনে ২৫ বছর বলা হলে ও এবার বলা হয়েছে ২৬ বছর ধরে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আছেন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এরপর লিখেছে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের ও অবস্থান পাল্টে নিলেও পরিবর্তন আনেননি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টির। বরগুনায় আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। এখানে একটি প্রশ্ন অফিস করার দ্বায়িত্ব কি শুধু সভাপতির? তবে পার্টি অফিস কিন্তু রডের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর। আমি নিজেই একবার নিউজ করছিলাম সিলেট মহানগরীতে আ,লীগের কোন অফিস নেই। খুঁজলে হয়তো আর ও দুই একটা জেলা পাওয়া যাবে। তার মানে দাঁড়ালো। শম্ভু বাবুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এরকম প্রতিবেদন………

অভিযোগ কাদের। ওই আগের নেতারাই তার মানে নতুন বোতলে পুরানো মদ।পাঠক চলুন এবার দুর্নীতির অভিযোগগুলো দেখি, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, ধুপতি-ভুতমারা এলাকায় সরকারের প্রায় ১৫ একর খাসজমি রয়েছে। কিছুদিন আগে ওই জমি দখলের জন্য পাঁয়তারা চালিয়েছিলেন এমপি শম্ভু ও তাঁর ছেলে সুনাম। স্থানীয়রা তাঁদের প্রতিহত করেন। যে জমির কথা প্রতিবেদক উল্লেখ্য করেছেন সে জমির মালিক মৃত জ্ঞান রঞ্জন ঘোষ। যার দানকৃত জমিতে বরগুনার কলেজসহ বড় বড় অনেক জনকল্যাণমুলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উল্লেখিত ওই জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের ওয়ারিশদের সাথে মামলা চলমান…….
ওই প্রতিবেদনে সাংবাদিক সাহেব লিখেছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমপি শম্ভুর স্ত্রী মাধবী দেবনাথের নামে খাগদন ভাড়ানী খালসংলগ্ন সরকারি জমি দখল করার অভিযোগে একটি উচ্ছেদ মামলা রয়েছে। আসলে কোনো মামলাই নেই। বরং জমি বন্দোবস্ত নেয়া আছে এবং একইভাবে সেখানে অন্তত অর্ধশত বন্দোবস্তের জমি রয়েছে। এ ছাড়া তালতলীর বড়বগী ইউনিয়নের নয়া ভাইজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আবদুস সালামের বাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ চালিয়ে তাঁর ১৮ একর জমি দখল করে নেয় স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। ওই জমিতে টাঙিয়ে দেওয়া হয় এসএসডি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি কোম্পানির সাইনবোর্ড। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসএসডি এন্টারপ্রাইজ এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ এই নামে সুনাম দেবনাথ বা তার পরিবারের কারোরই কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেই। প্রথমে লিখলো স্থানীয় ভূমিদস্যুরা আর পরক্ষণে নাম আসলো সুনামের। মুলত এটিও আইডিয়া সর্বস্ব চড়িয়ে দেয়া হয়েছিল সুনামের ঘাড়ে…….
এবার অভিযোগ কেন? তা জানা যাক । প্রথমেই আসছি বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ প্রসঙ্গে। এই ভদ্রলোক পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ও নির্বাচিত হন নি। নিজের জনপ্রিয়তার কথা নিজেই বুঝেছিলেন, আর এ কারনেই নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের সার্থে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আহত হন তিনি। সেই থেকে মহারাজের খ্যাত হন ভোটকাটা মহারাজ হিসেবে। এবার অভিযোগকারী আরেক মহান নেতা! তিনি হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মশিউর রহমান শিহাব। মূলত এর আসল নাম বাবুল। চোরা বাবুল হিসেবে খ্যাতি পাওয়া কথিত শিহাব মাত্র ৮ম শ্রেণি পড়েছেন কলেজিয়েটে। এক বাসায় গৃহশিক্ষক থাকাকালীন প্রেমে জড়িয়ে বিষপান করে বেঁচে গিয়ে উধাও ছিলেন তিনি । মহা টাউট এই বাবুল গাড়ির ব্যবসার নাম করে টাকা হাতিয়ে ধরা পরে সালিশ করে দেন বরগুনার আর এক নেতা খলিলুর রহমান। বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় জালটাকা সহ ধরা খেয়ে জেল খেটেছেন। এখানেই শেষ নয় কুইক রেন্টাল বিদ্যু প্রকল্পে বাগিয়ে মাশাল্লাহ ব্যাপক কামাচ্ছেন। যদি তার কোন শিক্ষাগত সনদপ্রত্র নেই। অভিযোগ আছে তার নামটি ও ভুয়া………
এবার আর এক অভিযোগকারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির। গত বারের আগেরবার উপজেলা নির্বাচনে (অব. কর্নেল) খালেকের কাছে হেরেছেন চরমভাবে । এছাড়া জাহাঙ্গীর সাহেবের বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ আছে। এছাড়া তিনি ১৯ বছর ধরে জেলা বণিক সমিতির সভাপতি। আর তা নিয়ে ও কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। আঞ্চলিক পত্রিকায় নিউজ ও হয়েছে। যার শিরোনাম ছিলো ‘বরগুনা চেম্বার অব কর্মাস এর ১৯ বছরের দুর্নীতির হিসাব চান ব্যবসায়ীরা” এছাড়া গেল জেলা সম্মেলনে তিনি তার বিরোধী পক্ষ সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর কবিরের বিপরীতে গোলাম সরওয়ার টুকু প্রস্তাবকারী হিমু মোল্লা ও আনোয়ার হোসেনের বাস ভবনে জাহাঙ্গীর কবিরের ছোট ছেলে বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের আদনানের বাহিনী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তবে তার বিরোধীতার মূল কারণ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সর্মথন না পাওয়া এর এ জন্য তিনি দায়ী করছেন জেলা সভাপতিকে………………..

এবার যিনি নিউজটি করেছেন সেই মহান সাংবাদিককের চরিত্রের একটু ময়নাতদন্ত করি। মতাদর্শে তিনি বরাবরই সুযোগপন্থি। কালের কন্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনকে বেওয়ারিশ শিশু দিয়ে মন কেড়েছেন প্রথমে। অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকা আসছিলেন সম্প্রতি। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমান শিহাব ওরফে বাবুলের সাথে দেখা করেন তিনি। এরপরই তার উসকানিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময় একের পর এক মিথ্যা মনগড়া নিউজ করতে থাকেন সোহেল হাফিজ। এবার এই সাংবাদিক যে কতটা ধাঁন্ধাবাজ তা নিয়ে একটু আলোচনা করি। জেলা গাইড নামে একটি ফোন ডায়েরি বের করে বিজ্ঞাপণের নামে চাঁদাবাজি করেছেন ব্যাপক। সম্প্রতি বরগুনায় জোছনা উৎসবের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই প্রকৃতি প্রেমিক কিন্তু অন্য নারীদের ও ভালোবাসেন জোছনার মতো। আর জন্য ধরা ও খেয়েছেন বউ এর হাতে। এছাড়া অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে আরেক নারীর স্বামীর হাতে ও আটক হয়েছিলেন এই জোছনা প্রেমিক। পরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সহায়তার ছাড়া পেলেও ওই নারীর সংসারটি আর টেকেনি। এ বার তার ধাঁন্ধাবাজীর আরেকটি চিত্র পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর ভাগ্য বিড়ম্বিত এক দম্পতির স্বপ্ন : ছোট্ট একটি মুদি দোকান আর দুটি দুধেল গাই নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কালের কণ্ঠে। এরপর ওই দম্পতিকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন জন সোহেল হাফিজের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠায় যার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজারে। ওই টাকা ও তিনি মেরে দেয়ার জন্য একবছর ঘুরিয়েছেন । পরবর্তিতে ওই দম্পতি টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করে এবং এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হলে পরেরদিন টাকা একাউন্টে জমা দেন। আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচবার মনোনয়ন পেয়ে চারবার এমপি হয়েছেন শম্ভু। একবার খাদ্য উপমন্ত্রী এবং আরেকবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে শম্ভু যাতে দল থেকে মনোনয়ন না পান এজন্যই চক্রান্তে নেমেছে বিরোধী গোষ্ঠীরা। আর এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পদলোহী কিছু সাংবাদিক নামের সাংঘাতিকদের………………
সজল আল মাহমুদ
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 36 বার