বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, রাত ১:৩৬

মুক্তিযুদ্ধের এক অকথিত ইতিহাস “কপিলমুনি “ পর্ব – ২

মুক্তিযুদ্ধের এক অকথিত ইতিহাস “কপিলমুনি “ পর্ব – ২

dynamic-sidebar

কপিলমুনি!
পর্ব-দুই
৩.
আংরেজ কোন ঘটনা না, ঐ গুলান আপদ, আসল বিপদ দেশীয় বিশ্বাসঘাতকরা। মীরন খান আর মীর কাশিমের গুপ্তচর-সৈন্যরা গিজ্ গিজ্ করছে জনপদে। উড়িষ্যাতো হিসাবের বাইরে, বিহার মোটামুটি মীর কাশিমের দখলে, আসল বিপদ আসবে বাংলার পূর্বাঞ্চল থেকে- এই ব্যাপারে মীরন-কাশিমরা একমত। বজরা অনেক ঘুরপথে গৌরনদী পৌছাবে। যে কেউ দেখলে এমনকি ভালোভাবে দেখলেও কাঠ, গোলপাতা আর মধু ব্যবসায়ী ভাববে আয়াত গাজী আর মনু হাজারির বজরাখানি দেখে। কিন্তু তল্লাশী চালালে বিপদ। একটা মৃতপ্রায় আতঙ্ক চুপচাপ শুয়ে আছে দুজনের বুকের মধ্যে, পানি দেওন লাগবোনা দুচার ফোঁটা শিশিরে তা জ্যান্ত হবে। আতঙ্ক নিজেদের জানের মায়া না, গোলাগুলান ঠিকভাবে পৌছাতে না পারলে বিপদে পড়বে উস্তাদ ইমামউদ্দিনের যোদ্ধারা। আকাশে চাদঁ উঠছে। দিনে ঝড় বৃষ্টি উড়ায়া নিতে চাইলো অখন ফক্ফকা, কিরম চান্নিপসর রাইত। কাশিম-মীরনের ফৌজী আতঙ্ক না থাকলে গান গাইতো মনু হাজারী এমুন রাইতে। কিন্তু এখন বাঘের মত সতর্কতা, বাঘ য্যান সুন্দরবনের। বজরা চলছে যশোহর অঞ্চলের দিকে। অঞ্চলটা সম্পর্কে জানা নেই মনু হাজারির। গাজীভাই জানতে পারে, পারে না নিশ্চয়ই জানে, বিস্তর ঘোরাঘুরি গাজীভাইয়ের কত অভিজ্ঞতা। হাজারী, গলা চড়ায় গাজী, সামনে ফৌজী। বজরার ভিতরে চূলা জ্বালাচ্ছিলো বিজন। ধোঁয়া বেরুনোর ঘুলঘুলি বেশ বড় যাতে ধোঁয়া বিস্তর জায়গা নিয়া ছড়ায়, মানুষ বুঝুক এরা ব্যবসায়ী আর গেরস্থ , রাজনীতি যুদ্ধ কিচ্ছু বোঝেনা। নদীর ডান কুলে মশাল জ্বলছে বিন্দু বিন্দু, কিন্তু অখনি তা বড় হবে। এক নজর দেখে বিজনকে তাগাদা দেয় মনু হাজারি। ও বিজন তুই সামনে দাড়া আমি জ্বাল দিচ্ছি। ফৌজীগোরে কি কইবি? কইবি মোহনলালের ফৌজীগো আমরা দুলে পাড়ায় জায়গা দিছিলাম না, কিন্তু বড় মীর্জা পূর্নিয়া যাইতে বড় বেশী তাড়াহুড়া করতেছিলো। বিজন ঘাড় কাত করে.. অর্থাৎ তৎসময়ে বাংলার ব্যাপক হিন্দুরা মুর্শিদাবাদ তথা নবাব আলিবর্দী খান এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার উপর ক্রুদ্ধ ছিলো। তাদের এই রাগের যৌক্তিকতা-যথার্থতা নিয়ে আলোচনা করবে ইতিহাস-ন্যায়শাস্ত্র আমরা শুধু ঘটনাগুলো বলে যাচ্ছি। খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে- এই বর্গী মানে দক্ষিন ভারতের দূর্ধর্ষ মারাঠা দস্যূ। বাংলার উত্তরে বর্গী আর দক্ষিনে মগ হার্মাদ জলদস্যূ! এদের অবর্ণনীয় অত্যাচারে বাংলা বিরানভূমিতে পরিনত হবার পথে। বিহারের উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রন থাকলেও উড়িষ্যায় বর্গীদের শাসন, আর তাদের নেতা ভাস্করপন্ডিত। অতিশয় ধূর্ত এবং সাহসী পন্ডিতজীকে কিছুতেই ধরা যাচ্ছেনা, মুর্শিদাবাদের সৈন্যরা সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কিন্তু বর্গীরা অতর্কীতে হামলা করে, গেরিলা কায়দায়। বর্গীরা কোথায় যে ঘাপটি মেরে থাকে আর কোথা থেকে যে আচমকা হা-আ-আ-আ শব্দে চারদিক থেকে নৃশংস আক্রমন করে বোঝা সাংঘাতিক মুশকিল। অবশেষে নিরুপায় নবাব আলিবর্দী খান তার প্রিয় নাতি মীর্জা মুহাম্মদ জংকে সাথে নিয়ে ভাস্কর পন্ডিতের জন্য ফাঁদ প্রস্তুত করে, এই মুহাম্মদ জংই পরবর্তীতে সিরাজউদ্দৌলা..
৪.
খান এ সবুর সাহেব উত্তেজিত এই মর্মে যে- নিশানটা বড় বিষয় না ওয়ালি খান-গাফ্ফার খানরাওতো পাক নিশানের তলে থাকে সেজন্যি কি ইসলামাবাদ তাদের উপর খুব বেশী ভরসা করবে ? না তা করবে না। যারা ঘন ঘন চাঁনতারা চাঁনতারা কয় তাগারে বৈঠকখানায় বসায়া এক গেলাস শরবত পান করায়ে বিদায় দিতে হবে। আসল কর্ম বেত্তান্ত। কি করবো কেন করবো কিভাবে করবো? পাকিস্থান অবশ্যই থাকবে কথা হইতেছে কাগোরে নিয়া থাকবে? হিন্দুরা সমস্যা না কমুনিষ্টরা হিšদুগো উস্কায়া দেয় বিনিময়ে হিন্দুরা কমুনিষ্ট হয় অরা কমুনিষ্ট হয়া থূতি পেন্দে কিন্তু নসীব, বদ নসীব মোসলেমরা কমুনিষ্ট হয়া টুপি পড়েনা উল্টো টুপি দাড়িরে গাইলমন্দ করে, করে যারা তাগো গায়ে সুরাবর্দীর বাতাস লাগছে মনে কয়, সুরাবর্দী মোসলেম; দাড়ি টুপি নামায কালাম ছাড়া, হ্যার অইসব লাগেনা কারন হ্যার রাজনীতি দাস পাল আর ঘোষগো লগে- খুলনায় এক উঠান বৈঠকে খান সাইবে বক্তৃতা তাড়াতাড়ি শ্যাষ করে । ঢাকা যাওয়াটা জরুরী, আইজকা দুপুরে খাওন দাওনের পর যাত্রা। পূর্ব-পাকিস্থানের রাজনীতিতে খান আর চৌধুরীগো রেষারেষি ম্যালা বড় হইতেছে, বিষয়টা ভালো লক্ষন না, নমোরা একসাত হইতেছে, নাপতাবাড়িতে ঠাকুরে বেগুনভাজা দ্বারা ভাত খাইতে যায় এইসব ভালো লক্ষ্মন না ! মনে কয় বিপদ ঘনাইতেছে পূর্ব পাকিস্থানের আসমানে- (চলবে) এস এম তুষার।।

Count currently

  • 9742Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

Shares
Show Buttons
Hide Buttons