রবিবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, রাত ৩:৪৯

বর্তমান বাস্তবতায় বিতর্ক

বর্তমান বাস্তবতায় বিতর্ক

dynamic-sidebar

অন্য অনেক কিছুর মতো বিতর্কের শুরু ও গ্রিক সভ্যতা থেকে। তখন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ভালো-মন্দ বিচার কিংবা সুপারিশ হতো জনসম্মুখে বিতর্ক করে। অংশ নিতেন ক্লিওন, ডায়োডটাস, সিসেরোর মত গুনীরা।দুহাজার বছর পরে ও কমেনি এর গুরুত্ব। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক থেকে শিক্ষার্থীরা সবাই যুক্ত হয় বিতর্কের সঙ্গে। তবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

সংসদ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই চলে এসেছে গায়ের জোরে নিজেকে জাহির করার প্রবণতা। যুক্তি বাদ দিয়ে নিজের মতামত দাঁড় করাতেই বেশি আগ্রহী। প্রশ্নটা চলেই আসে, বিতর্ক কি তাহলে গুরুত্ব রাখে এখনো? একটা সময়ে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান বা দুজন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের আলোচনাটা ছিলো স্বাভাবিক। দুঃখের বিষয় হলো, এর সাথে সাথে আনুপাতিক হারে কমেছে যুক্তি দিয়ে ভাবাদের সংখ্যা। তাহলে এর জন্য কে দায়ী? শাসকগোষ্ঠী, না রাজনৈতিক সংস্কৃতি? চলুন বর্তমান বাস্তবতায় একটু আলোচনা করি।  সময়ের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ উন্নয়ন। সেই কথিত উন্নয়নকে গ্রাস করছে সামাজিক- রাজনৈতিক নৈরাজ্য। এর সাথে নৈতিক অবক্ষয়,গণতান্ত্রিক মূল্যেবোধের ঘাটতি, গুম খুন সন্ত্রাস এর মতো নানা ঘটনা। হত্যা নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা বাড়লে ও এসব দূর করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।আর সমাজে সহমর্মিতা তো প্রায় অনুপস্থিত।কারণ যুক্তিবাদী চেতনার চর্চা সংকুচিত। এর সুবিধা ভোগ করছে রাজনৈতিক কর্মীরা। অবরুদ্ধ হচ্ছে গণতান্ত্রিক চেতনা। যার জন্য সমাজিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে প্রতিনিয়ত। এর প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন যুক্তি নির্ভর প্রজম্ম

সম্প্রতি সড়ক আন্দোলনের সময়ের গুজবের কথা যদি বলি।যুক্তিবাদী মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না। আবার  আন্দোলনের যৈাক্তিতা নিয়ে প্রশ্ন ও তুলবে না । কারণ সে দলকানা নয় নিজের চিন্তাভাবনা যুক্তির নিরীখে সামগ্রিক বিষয়ে নিয়ে মতামত দিবে। সমস্যার গভীরে গিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করবে। আর এ খানেই একজন তার্ককি জনসাধারণের চেয়ে নিজকে আলাদাভাবে পরিচয় দেয়।

এবার বিতর্ক এর সাথে সাথে জড়ানোর গল্পটা বলি। কোন ক্লাসে পড়ি ঠিক মনে নেই । সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণি। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে কোন কিছু না ভেবেই নাম দেই বক্তৃতাতা প্রতিযোগিতায়। প্রসঙ্গ ছিলো ভাষা আন্দোলন। সমাজ বিজ্ঞান স্যারের সহযোগিতা চাইলাম স্ক্রিপ্ট এর জন্য। তিনি এড়িয়ে গেলেন।  আর অংশ নেই নি। নাম ডাকা সময় মাথা নিচু করে বেড়িয়ে আসছিলাম অনুষ্ঠানস্থল থেকে। এইচএসসি পর্যন্ত আর সাহস হয় নি। বিএম কলেজে অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষ এ পড়ার সময় সুযোগ আসে একটি বেসরকারী সংস্থার আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার। দল হারলে ও শ্রেষ্ঠ বক্তা হই। সেই শুরু…

এরপর সংগঠন (বিএমসিডিসি),অযোগ্যদের নেতৃত্ব, দলাদলি,শিক্ষকদের অপছন্দ এসব কারণে পিছনের দিকে থাকলে ও বিতর্ক ছাড়িনি।অংশ নিয়েছি ১৯তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক এ।বিশ্বাস করেছি সময় আসবেই। ভিন্নমত থাকলে ও অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি লালন করি নি।অপছন্দের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে বা নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার  নিয়ম তখন সংগঠনে ছিলো। অনেকে তো রাগ করে বেড়িয়ে আর একটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছেন। কারণ ক্লাবে বিতর্ক এর মান নেই। তারপর ও মেনে নিয়েছে। কারণ মতপ্রকাশের  বিষয় ফরাসি পণ্ডিত ভলতেয়ারের একটি মন্তব্য মেনে চলি আর তা হলো আমি তোমার মতের সাথে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তুমি যাতে তোমার মত অবাধে বলতে পারো, তার জন্য আমি নিজের প্রাণ অবধি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

নতুনদের জন্য অনুরোধ থাকবে, নিজেকে বিক্রি করবেন না। ঘটনার দু’দিকই জানার চেষ্টা করবেন। আর পড়তে হবে সবকিছুই। সবাইকে শুভ কামনা।

আল আমিন হোসেন সজল
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
6Shares

Count currently

  • 35565Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

error: Content is protected !!