রবিবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, রাত ৩:২৯

সাগরদী ইসলামিয়া মাদ্রাসা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা!

সাগরদী ইসলামিয়া মাদ্রাসা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা!

dynamic-sidebar

স্টাফ রিপোর্টার

 

নগরীর ঐতিহ্যবাহী সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠাকালীন পর থেকেই মাদ্রাসাটি সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারি। ইতিমধ্যে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সফল ভাবে শিক্ষা অর্জন করে বিভিন্ন স্তরে পৌছে গেছে। তাদের এই অর্জন ধারাবাহিকভাবেই শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়েই চলেছে। আর তার দ্বায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন এ মাদ্রাসার বর্তমান উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হালিম। গতকাল সরেজমিনে ঐ মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলাপকালে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। মাদ্রাসার প্রাপ্ত তথ্য মতে, অধ্যক্ষ না থাকায় ২০১৭ সাল থেকে ২ পদে দ্বায়িত্ব পালন করছে উপাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম। তবে দ্বায়িত্ব পালনে তিনি অবিচল এবং নিষ্ঠাবান। ২টিপদে দ্বায়িত্ব সঙ্গত কারনেই অত্যন্তু জটিল কষ্টকর হলেও মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম নিরলসভাবে পালন করে আসছেন। বর্তমানে মাদ্রাসিটির এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেন ২৯জন। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১৫০। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে আছে ৬ জন। ওয়ান অর্থাৎ কামিল থেকে , মাস্টার্স ফাযিল পর্যন্ত শিক্ষাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে অত্র মাদ্রাসাটিতে। জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দ্বায়িত্ব পালনের পর থেকে অর্থাৎ ২০১৭ সালে ইবতেদায়ী ও আলিম পরীক্ষায় আঠারোজন ছাত্র পরীক্ষা দেয়, তার মধ্যে ষোলোজনই বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আর জেডিসি পরীক্ষায় ৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ+ পেয়েছে ৫জন, এ-১৮, এ-৩ বি পেয়েছে ২১ জন। এছাড়া দাখিল ৪৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫জন উত্তীর্ন। আর আলিম পরীক্ষায় ৭৯জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় তার মধ্যে ৭১জন সফলতা অর্জন করে। ২০১৮ সালে দাখিল পরীক্ষায় ৬৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪জন আলম পরীক্ষায় ৬১জনের মধ্যে ৪৫জন ছাত্র-ছাত্রী উত্তির্ন হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদান এবং সার্বিক তত্বাবধান সকল ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ প্রধান ভুমিকা পালন করেন। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ৫ম শ্রেনীর বৃত্তির টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে সরাসরি মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের নামে চেক আসে। এই টাকা যথাযথভাবেই সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেনীর ক্ষেত্রে উপবৃত্তির টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নামে ব্যাঙ্কেই জমা হয়, সেখান থেকে সে বা তারা উত্তোলন করে নেয়। মাদ্রাসাটিতে এ নিয়ম যথারীতিতে থাকলেও সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল এসব কার্যক্রম ভিন্নখাতে প্রবাহিত করাসহ মাদ্রাসা ধ্বংসের পায়তারা চালাচ্ছে। মাদ্রাসিটিতে গভর্ণিং বডির বিধিমোতাবেক কমিটি না থাকলেও ২৯১৭ সালে সরকারী বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এস এম কাউইমউদ্দিনকে সভাপতি এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাহ আলম হিরা মল্লিককে সহ-সভাপতি , সাধারন সম্পাদক(পদাধিকার বলে) আব্দুল হালিম, দাতা সদস্য ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদসহ শিক্ষক প্রতিনিধি ৩জন, অভিভাবক সদস্য ৩জন চিকিৎসক ১জন ও বিদ্যোৎসাহী ৩জনকে সদস্য করা হয়। এই কমিটি অনুমোদনের জন্য ্সলামী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠানো হলে ১ সদস্যর নাকচ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিন তদন্ত করে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন অদ্যবদী জমা দিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের ভিতরে কমিটি অনুমোদন দেয়া বা না দেয়ার বিধান রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের , কিন্তু প্রতিবেদনে তা আটকে রয়েছে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে উপাধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল হালিম বলেন, সাংবিধানিক বিধি মোতাবেক গভর্ণিংবডির সম্পূর্ন কমিটি গঠন না হলে অধ্যক্ষ’র নিয়োগ দেবার কোন নিয়ম বা এক্তিয়ার নেই। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এই মাদ্রাসার সামগ্রিক পর্যায়ে আয় হয়েছে ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৩ টাকা। এই আয়ের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কেই জমা রাখা হয়। মাদ্রাসার কোন খাতে টাকার প্রয়োজন হলে বিধি মোতাবেক ফাইন নোটের মাধ্যমে অর্থ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যাঙ্ক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে খরচকৃত টাকা গভর্ণিংবডির সভায় প্রস্তাব উত্তোলন করলে সঙ্গত বিবেচনায় সেটি পাশ হয়। ফলে মাদ্রাসার একটি টাকাও আত্মসাৎ করার কোন উপায় বা সুযোগ থাকেনা। কিন্তু একটি বিশেষ মহল আমার অর্জিত সুনাম ক্ষুন্নসহ প্রশংসিত মাদ্রাসাটির মূল্যায়ন ভূলুন্ঠিত করার অপচেষ্টায় নেমেছে।

10Shares

Count currently

  • 35565Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net

error: Content is protected !!