বুধবার, ২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং, দুপুর ২:৫৪

মুক্তিযুদ্ধের এক অকথিত ইতিহাস “কপিলমুনি “ ৩

মুক্তিযুদ্ধের এক অকথিত ইতিহাস “কপিলমুনি “ ৩

dynamic-sidebar

শান্তি আলোচনার কথা বলে নবাব আলিবর্দী খান ভাস্কর পন্ডিতকে দাওয়াত করেন। বিশ্বাস করে ভাস্কর পন্ডিত মুর্শিদাবাদের নেমন্তন্ন রক্ষা করেন। কিন্তু হন্তারক হয়ে তারা ভাস্কর পন্ডিতকে হত্যা করে। তার পাল্টা প্রতিক্রীয়ায় নবাব আলিবর্দী খানের উত্তরসূরী মীর্জ মুহাম্মদ জং ওরফে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকেও একই পরিনতি ভোগ করতে হয়। অর্থাৎ দেশীয় বিশ্বাসঘাতক চক্র নবাবের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের বিশ্বাস, বঙ্গরাজ্যে ছত্রপতি শিবাজীর জাতীয়তাবাদী নিশান উড়তো কিন্তু সিরাজউদ্দৌলার ষড়যন্ত্রের কারনে তা আর হয়ে ওঠেনি। সেই প্রতিশোধে হিন্দু শক্তির একটা অংশ মুীর্শদাবাদ প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আরো জমাট করে তোলে। সে অন্য ইতিহাস। নবাব সিরাজউদ্দৌলার গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান মীর মর্দান অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ। পলাশীর যুদ্ধ শুরু হয় জুন মাসের দিকে, তখন কাল বৈশাখীর মওসুম, সাথে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষনে মীর মর্দানের গোলা-বারুদ ভিজে যায়। স্বয়ং মীর মর্দান সিক্ত গোলা-বারুদ কামানে ভরে অগ্নি সংযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কামান তাতে সচল হয়নি বরং বিস্ফোরিত হলে মীর মর্দান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কথত মতে, এটা মীর জাফরদের সামরিক রাজনীতির প্রথম ষড়যন্ত্র যাতে তারা সফল হয়, এর দরুন বিশ্বাসঘাতকদের অন্যান্য সফলতার দ্বারগুলোও উন্মেচন হয়। অবশিষ্ট সেনাপতি মোহনলাল একাই যুদ্ধ করে। তিনি পদাতিক বাহিনীর সেনাপতি। প্রধান সেনাপতি মীর জাফর মুর্শিদাবাদের মুল শক্তি নিয়ে চুপচাপ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মোহরলালের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় নৌবেসিং হাজরার লাঠিয়াল যোদ্ধারা। তখন চলছিলো স্রেফ প্রতিরোধ যুদ্ধ ! পিছু হটছিলো মোহনলালের বাহিনী। কিন্তু পূর্নিয়ার স্বঘোষিত এবং নিহত নবাব মীর্জা শওকত জং‘র সেনাপতি ইয়ার লতিফের সৈন্যরা মোহনলালকে ঘিরে ধরলে মীরজাফর-ইংরেজদের পক্ষে বিনা প্রতিরোধে মুর্শিদাবাদের পতন ঘটানো সহজ হয়। এই সময় নাটোরের রানী ভবানী নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাহায্যার্থে একদল সৈন্য প্রেরন করেন কিন্তু তারা রণাঙ্গনে প্রবেশের পূর্বেই মুর্শিদাবাদের পতন ঘটে।
রক্ত। য্যানো নহর, লোহুর দরিয়া ! তা ধুয়ে নিচ্ছে দেদার পানি। বালতি বালতি পানি মেরে সব গড়িয়ে দচ্ছে রাজাকাররা। কমান্ডার জাফর মিয়া এক কোমরে হাত রাখে আর এক হাতে রাইফেল ঠিক করে। র্ভ দুপুরের আগেই কপিলমুনি দূর্গবাড়িতে নিশান ওড়ে, চাঁনতারা নিশান। খুশি হয় খান এ সবুর, ফকা চৌধুরি, মোনেম খান গং। সুবহানাল্লা। পূবর্-পাকিস্থানে সাচ্চা মুজাহিদ সৃষ্টি হবার জন্য ভূমি প্রস্তুত। গা ঢাকা দেয় সালাম মোড়ল, শাহাদাৎরা। শক্তিশালী পাঞ্জাব আর বালুচ রেজিমেন্ট সারা দেশব্যাপী বাঙ্গালী আর হিন্দু আর আওয়ামী লীগ আর কমিউনিষ্টদের নিধনের জন্য ছড়িয়ে পড়ছে।(চলবে)- এস এম তুষার

0Shares

Count currently

  • 67902Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net