বুধবার, ২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং, বিকাল ৩:০৯

মারিয়াম (আ.)-এর নামে কোরআনের একটি সুরা

মারিয়াম (আ.)-এর নামে কোরআনের একটি সুরা

dynamic-sidebar

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

১. কাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ;

২. এটি তোমার রবের রহমতের বিবরণ তাঁর বান্দা জাকারিয়ার প্রতি। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১-২ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : এখান থেকে সুরা মারিয়াম শুরু হয়েছে। বর্তমান ধারাক্রম অনুযায়ী এটি পবিত্র কোরআনের ১৯ নম্বর সুরা। তবে অবতরণের ধারাক্রম অনুযায়ী এটি পবিত্র কোরআনের ৪৪ নম্বর সুরা। এর মধ্যে আছে ৯৮ আয়াত ও ছয় রুকু। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে এটি মক্কি সুরা।

এই সুরার নাম সুরা মারিয়াম রাখার কারণ হলো, এই সুরায় মারিয়াম (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। মারিয়াম (আ.)-এর পবিত্র গর্ভে ঈসা (আ.) আল্লাহর হুকুমে অলৌকিকভাবে পিতাবিহীন জন্মগ্রহণ করেছেন। এই বিস্ময়কর ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে আলোচ্য সুরায়। যদিও আরো বহু বিষয়ে এই সুরায় আলোচনা রয়েছে, তথাপি গুরুত্বের বিবেচনায় মারিয়াম (আ.)-এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।

এটি একমাত্র সুরা, যে সুরা কোনো নারীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। যদিও ‘নারী’ (নিসা) নামে পৃথক একটি সুরা আছে। আবার ‘আলে ইমরান’ নামে আরেকটি সুরা আছে। ওই সুরায় মারিয়াম (আ.)-এর মা সম্পর্কে বিভিন্ন ঘটনা আছে। এ ক্ষেত্রে নারীর প্রতি ইসলামের সম্মান ও মর্যাদা লক্ষ করার মতো। বলা যায়, এটি নারীর প্রতি ইসলামের উদারতা। আর যেহেতু মারিয়াম (আ.)-এর গর্ভে খ্রিস্টানদের নবী ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই এটি খ্রিস্টানদের প্রতি ইসলামের উদারতা।

এ সুরায় বিশেষভাবে মারিয়াম (আ.)-এর নাম ও তাঁর পরিবারের প্রসঙ্গ আনার কারণ হলো, এর মাধ্যমে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বিভিন্ন বিশ্বাস খণ্ডন করা হয়েছে। আহলে কিতাবের একটি দল মারিয়াম (আ.)-এর পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অনেকে মারিয়াম (আ.)-কে মহান আল্লাহর ‘স্ত্রী’ সাব্যস্ত করে (নাউজুবিল্লাহ)। তৎকালীন আরবের রীতি ছিল, পুরুষরা তাদের স্ত্রীর নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করত না। বর্তমানেও বহু সমাজ ও সংস্কৃতিতে এই রীতি আছে। সেই আলোকে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মারিয়াম (আ.)-এর প্রসঙ্গ তাঁর নামসহ উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মারিয়াম (আ.) আল্লাহর স্ত্রী ছিলেন না। মহান আল্লাহ স্ত্রী-সন্তান থেকে পবিত্র। এ বিষয়ে সুরা ইখলাসে এসেছে, ‘বলে দাও, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। তাঁর সমতুল্য আর কেউ নেই।’

আলোচ্য সুরার সঙ্গে আগে বর্ণিত সুরা কাহফের নিবিড় সম্পর্ক আছে। উভয় সুরায় আশ্চর্যজনক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। সুরা কাহফে এমন একদল যুবকের কথা বলা হয়েছিল, ঈমান রক্ষার তাগিদে যাঁরা গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ৩০৯ বছর ঘুমিয়ে আল্লাহর হুকুমে জাগ্রত হয়েছেন। আবার সেখানে মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর অলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সুরা মারিয়ামে পিতাবিহীন অলৌকিকভাবে ঈসা (আ.)-এর জন্মগ্রহণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃদ্ধ বয়সে জাকারিয়া (আ.)-এর সন্তান জন্ম দেওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবেই অলৌকিক ঘটনার বিবেচনায় উভয় সুরার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

43Shares

Count currently

  • 67902Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net