বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১০:৩৪

জিনের সাথে বসবাস

জিনের সাথে বসবাস

dynamic-sidebar

আমি শাহনেওয়াজ, পেশায় একজন ক্রাইম রিপোর্টার। ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর, সেও একজন সাংবাদিক এবং কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ। তার নাম রুদ্র খান । ৬০’র দশকের মধ্যভাগে তার দাদাজান বরিশাল শহরের কাউনিয়ায় একটি বসত বাড়ি ক্রয় করে কাঠ এবং টিনের তৈরী বাড়িটির পাকা মেঝে এবং বেশ মজবুত। দাদাজানে তার স্ত্রী অর্থাৎ আমার বন্ধুর দাদীকে নিয়ে নির্বিঘে বসবাস করতে লাগলেন। এক শেষ রাতে ফযর নামাজ পড়বার জন্য ওযু করতে কলতলায় যান, এমন সময় তার মনে হলো নারী কণ্ঠে কেউ যেন কাদঁছে, দাদাজান আশপাশে তাকালেন, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না এবং কিছুক্ষন পর কান্নার শব্দও আর পাওয়া যাচ্ছেনা। দাদাজান ভাবলেন হয়তো মনের ভুল , নয়তো পাশের বাড়ির কেউ হবে হয়তো। যাই হোক দাদাজান এ নিয়ে আর ভাবলেন না। যথারীতি নামাযে দাড়ালেন। পরদিন একই সময়ে অর্থাৎ ফযরের নামায পড়বার জন্য ওযু করতে বসামাত্র সেই কান্নার আওয়াজ। এইবার দাদাজান বিষয়টাকে গুরুত্ব দিলেন, ভাবলেন আশপাশের বাড়ি বলতে সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশীর বাড়িটাও ৫০ গজ উত্তরে এবং পূব দিকে বড় রাস্তা আর রাস্তার ওপাড়ে হরিজন পট্টি।

দাদজান উঠে হেরিকেনটা উচূঁ করে উঠানের দিকে তাকালেন। উঠানের এক কোনে একটা বড় জাম গাছ। হেরিকেনের আলো অতদুর ভালোভাবে পৌছায় না তবে সেই ক্ষীন আলোয় দেখলেন যেন খোলাচুলের এক নারী মূর্তি মাথা নিচু করে ঝুকেঁ আছে। দাদাজান বেশ সাহসী মানুষ ছিলেন, তিনি কলতলা থেকে উঠানে নেমে কয়েক কদম আগালেন এমনসময় লক্ষ্য করলেন জাম গাছের নিচটা শূন্য, কেউ নেই সেখানে। দাদজানে মনে মনে কিছু দোয়া-দরুদ পড়ে ওযু শেষে নামাযে দাড়ালেন, সকাল গড়িয়ে দুপুরের মূহুতে দাদাজানে সে বাড়ির আগের মালিক যার কাছ থেকে দাদাজানে বাড়িটি ক্রয় করেছেন তার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করলেন। আগের মালিক দেশে নেই বাড়ি বিক্রী করে বিদেশ চলে গেছে। দাদাজানে বেশ করে ধরলেন তার বাইকে, বললেন, ভাইসাহেব সত্যি করে বলেন তো মালেকসাহেবের কাছ থেকে যে বাড়িটা ক্রয় করলাম সেইটায় কোন আছোর আছে? মালেক সাহেবের ভাই কিছু ক্ষন চুপ থেকে তারপর বললেন, হ্যা জনাব সত্যি বললে আছর একটা আছে বা থাকতে পারে। বষয়টা হচ্ছে আপনি বাড়িটা ক্রয় করার পূর্বে অনেকদিন যাবৎ সেটা খালি পড়ে ছিলো, তারও পূর্বে সেখানে এক কাঠমিস্ত্রী তার পরিবার নিয়া ভাড়া থাকতো। পরিবার বলতে সে এবং তার স্ত্রী। একবার সেই মিস্ত্রী শহরতলীতে কাজে যায়, দু’তিন দিন পর কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে দেখে অনেক লোকজনের ভীড়, এবং কিছ ুপুলিশ।

ভীড় ঠেলে মিস্ত্রী জানতে পারে তার সন্তানপ্রসবা স্ত্রী যেভাবেই হোক মিস্ত্রী যেদিন কাজে যায় সেদিনই সে মারা যায়। ভিতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তাৎক্ষনিক বিষয়টা জানা যায়নি। এরপর যেদিন মিস্ত্রী বাড়ি ফেরে তার ঘন্টা দুই পূর্বে বিকট দূর্গন্ধে হরিজনপট্টি থেকে লোকজন এসে চৌকিদারকে খবর দেয়, চৌকিদার পুলিশ নিয়ে আসে। এই ঘটনা শুনে দাদাজানে বাড়ি ফিরে দোয়া-দরুদ পড়ে তার মত করে, তার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী বাড়িটাকে শুদ্ধ করে। তারপর থেকে উঠানে কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়নি। তার মাসখানেক পর থেকে দাদাজানের মনে হতে লাগলো যে তার স্ত্রী অর্থাৎ বন্ধুর দাদীজানকে জ্বীনে ধরেছে। এবং এটা তিনি অবস্থাদৃষ্টে মনে করতে লাগলেন। তখনতো ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হ্যালোসিনেশন, সিজোফ্রেনিয়া এসব ছিলো দূর্বোধ্য বিষয়, অনেকে এসবের নামও জানতোনা, এমন কি কমবেশী এখনও, তারা বিশ্বাস অনুযায়ী জ্বীনের কাজ বা আছোর বলে মনে করতো। এবং সেই সাথে গুরুত্ব দিয়ে এটা ভাবতো যে জ্বীনটা বদ্জ্বীন কিনা। দাদাজানে এক পর্যায়ে মোটামুটি নিশ্চিত হয় যে জ্বীনটা ভালো , উপকারী। এভাবে চলছিলো। ৮০‘র দশকের মধ্যভাগে আমার সেই বন্ধুটি , লিমন খান সেই বাড়িতে থাকা শুরু করলো। কয়েকদিন পর থেকে সে লক্ষ্য করতে লাগলো যে চৌবাচ্চায় পানি থাকেনা, থাকেনাতো থাকেনা তা একেবারে শুকনো খটখটে।

মধ্যরাতে কারো গোসলের শব্দ পাওয়া যায়, রাতবিরাতে হঠাৎ হঠাৎ সাৎ করে যেন একটা ছায়ামূর্তির মতন সরে যায়। কখনও স্বাভাবিক উচ্চতায় কখনও তা যেন ছাদ স্পর্শ করে। আর্ধেক ভয আত্ক এবং বাকীটা কৌতূহলে লিমন খান তার স্বাভাবিক জ্ঞান অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারে যে বিষয়গুলো জ্বিনের কান্ড। সে তখন জ্বীনকে ভারােভাবে দেখার এবং পারলে তাকে ধরে বশ করার পায়তারা করে, দিন কয়েক বাদে দাদাজানে টের পান যে তার নাতীর বিপদজনক প্রবনতার ঝোঁক চেপেছে এবং সে আছে একটা ঘোরের মধ্যে। এরপর দাদাজানে আর দেরী করলেন না নাতিকে যেভাবেই হোক বাকেরগঞ্জ পাঠিয়ে দিলেন। বাকেরগঞ্জ একটা থানা সেখানের ভরপাশা গ্রামের প্রভাবশালী আকন বাড়িতে লিমন খান থাকতে শুরু করে। সেটা তাদের নিকটাত্মীয়ের বাড়ি মানে খালা বাড়ি। এখানে কিছু কথা বলে রাখি তাতে পরবর্তী ঘটনাগুলো বুঝতে সুবিধা হবে। ভরপাশা গ্রাম যেখানে লিমন খানের খালাবাড়ি তা দুই দিকে বড় দুইটা নদী যা পূর্ব বাকেরগঞ্জকে পশ্চিম বাকেরগঞ্জ থেকে আলাদা করেছে। দক্ষিনের নদী বাকেরগঞ্জকে বরিশালের সাথে নৌপথে যুক্ত করেছে। উত্তরের নদীটা খয়রাবাদ নদী। 

চলবে ….

35Shares

Count currently

  • 102111Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net