বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১১:২৩

কালা যাদুর ধরনটা কি?

কালা যাদুর ধরনটা কি?

dynamic-sidebar

আকাশে বেশ শক্তিশালী চাঁদ, মেঘের কোন চিহ্ন নেই, থাকার কথাও না, জ্যোৎস্না তাই বেজায়

তাকে খুব সম্ভব কালা যাদু করা হচ্ছে। রুদ্র খানের ডান কাঁধে একটা ঝোলা ব্যাগ ছিলো। ব্যাগটার ভিতরে টুকিটাকি কিছু জিনিষপত্রের সাথে ছিলো একটা গ্রন্থ। সেটা বের করে ডান হাতে ধরে রাখলো। বইটি কি সে বিষয়ে একটু পরে আসছি। অনেকটা পথ হাটায় ঘাম ঝড়েছে বেশ এবং তখন রুদ্র খান লক্ষ্য করলো সে যেখানে এসেছে জায়গাটা সে চিনে না। কোথায় ভরপাশা? আকাশে বেশ শক্তিশালী চাঁদ, মেঘের কোন চিহ্ন নেই, থাকার কথাও না, জ্যোৎস্না তাই বেজায়, সে আলোয় রুদ্র খান লক্ষ্য করলো তার সামনে ভরপাশা

আকনবাড়ির বদলে আনারসের বাগান। বেশ জোরালো স্মৃতি হাতড়ে সে তখন মনে করতে লাগলো যে, বৃহত্তর বাকেরগঞ্জে আনারসের বাগান নেই। এক সময় সে অনেক আগে আনারসের চাষ করতো পর্তূগীজ-ফিরিঙ্গীরা। রুদ্র খান এইবার যথাসম্ভব দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ম করে দেখতে চেষ্টা করে জায়গাটা পাদ্রী শিবপুর কিনা, উপনিবেশিক আমলে এই অঞ্চলটায় ছিলো পর্তূগীজ কুঠিবাড়ি। কারো কারো মতে, চন্দননগর থেকে কিছু ফরাসী কুঠিয়ালরা গোপনে যোগাযোগ রাখতো পর্তূগীজদের সাথে। রুদ্র খানের চিন্তা এসব অবশ্য বেশীক্ষন জায়গা পেলোনা, সে তখন এক মনে বড় মামার কথা মনে করবার চেষ্টা করলো। তার হাতে ঘড়ি আছে কিন্তু সময় দেখতে পারছেনা। পাতলা ঘড়ি কিন্তু জ্যোৎস্নার বেশ চিকন আলো। দক্ষিন খয়রাবাদ থেকে ভড়পাশায় পৌছাতে বেশী সময় নিবেনা এই বিবেচনায় দেশলাই মোমবাতির গরজ অনুভব করেনি। উপরন্তু সে ভেবেছিলো উত্তর-পূর্ব ভড়পাশায় তার এক প্রিয় বান্ধবের বাড়িতে রাত কাটিয়ে সকালে ভড়পাশায় খালা বাড়ি হাজিরা দিয়ে তৎক্ষনাৎ রওয়ানা হবে পাদ্রী শিবপুরের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এখন কেন যেন মনে হচ্ছে এক দুই ছাড়াই তিনচার সামনে এসে লাফালাফি করছে। বিষয়টা আদৌও ভালো ঠেকছেনা।

ঘোরতর সময়ে সাহসের সাথে বুদ্ধিও চলে যায় সে সময়ে কোনমতে একটা ফিরে পেলে অপরটিকেও পাওয়া যায়। রুদ্র খান কোন বিবেচনায়ই আনতে পারলোনা বুদ্ধিটা সাহসের পিছনে গেছে নাকি তার উল্টোটা? এখানে আরো কিছু কথা বলে রাখি, রুদ্র খানেরর পূর্ব পুরুষদের সাথে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। যদিও রুদ্র খানদের পূর্বপুরুষ আফগান বীর শের খান, যার সাথে ২য় মুঘল স¤্রাট হুমায়ূন’র যুদ্ধ হয়েছিলো। কড়াপুরের ঐতিহ্যবাহী মুঘল আমলের মিয়াবাড়ির মসজিদ রুদ্র খানদের বাপ-চাচাদের জিম্মায়। রক্ষনশীলতা এবং প্রগতিশীলতার মাঝামাঝি রুদ্র খান আর তাদের একান্নবর্তী পরিবারের অবস্থান। তার বড়মামা যখন একা থাকেন তখন আশপাশ ভালোভাবে দেখে একটু শব্দ করে বেশ দরদ দিয়ে বারকয়েক নিজের সাথে বলেন, কম জানলে ঘুমটা জমে। একবার না কয়েকবার ঘটনাচক্রে বিষয়টা জেনেছে রুদ্র খান। এক সময়ে বই পড়ে জেনেছে যে, কথাটি রুশ লেখক মাক্সিম গোর্কীর বইয়ের ভাষা। তবে প্রিয় পাঠক, রুদ্র খানের ডান হাতে যে বইটি ধরা সেটা কিন্তু গোর্কীর মা বইটি না যেখানে কথাটি লেখা। সে বইটি কি তা পরে বলছি। বড় মামার পড়াশুনা, জানাশুনার মান ভালো। তবে এখন সে সব সে বেশী গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেনা,

সে ভাবছে তাকে কালাযাদু করা হলে তার ধরন কি এবং বড়মামা বাকেরগঞ্জ আছেন কিনা? এতক্ষন অঞ্চলটার চারপাশে ছিলো স্রেফ চাদঁনি। এখন মনে হচ্ছে দূরে, বহু দূরে না, দু’এক জায়গায় আলো জ্বলছে। একটা আলোর উৎস লক্ষ্য করে হাটা ধরে রুদ্র খান।

(চলবে)

5Shares

Count currently

  • 102123Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net