বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১১:২০

একুশের চেতনাকে স্পর্শ

একুশের চেতনাকে স্পর্শ

dynamic-sidebar

তৌকীর আহমেদের সিনেমা মানেই যেন মুগ্ধতার আবেশ। এর আগে ‘জয়যাত্রা’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’ সিনেমায় নিজের জাত চিনিয়েছেন। এবার হাজির হলেন নতুন ছবি নিয়ে। গতকাল শুক্রবার সারাদেশের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তৌকীরের নতুন সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এবার ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৌকীর নির্মাণ করলেন এই ছবিটি। এটি তৌকীরের ছয় নম্বর সিনেমা। ছবিটিকে ঘিরে নির্মাতা তৌকীরের প্রত্যাশা সব শ্রেণির মানুষের হৃদয় জয় করবে ফাগুন হাওয়ায়। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হলেও ছবিটির গল্প ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে নয়। নির্মাতা জানান, আমি এমন একটি ছবি নির্মাণ করেছি যা কিনা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে স্পর্শ করবে। পাশাপাশি সিনেমাটিতে একটা অনবদ্য প্রেমের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সব বয়সের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে ছবিটি। মূলত ভালোবাসা, হাস্যরসাত্মক, বিদ্রোহ, দেশপ্রেমসহ সব উপাদান একীভ‚ত হয়ে আছে চলচ্চিত্রটিতে। অভিনেত্রী তিশাকে একজন মফস্বলের মেয়ে হিসেবে দেখা যাবে। অন্যদিকে এলাকার তরুণরা দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটি মঞ্চস্থ করছে।
ছবিটি করতে গিয়ে পরিচালক এবং অভিনেতাদের কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তৌকীর আহমেদ বলেন, বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল ৬৬ বছর আগের বাংলাদেশের ওই সময়টাকে পুনর্নির্মাণ করা। ওই সময়টাকে তুলে আনতে গিয়ে সেভাবেই সেট তৈরি করতে হয়েছে, লোকেশন খুঁজে বের করতে হয়েছে। নিজের সিনেমা নিয়ে খুব বেশি ঢাক পেটান না তৌকীর। তবে এবারের ছবিটি নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন এই নির্মাতা। তৌকীর বলেন, আগে আমি মনে করতাম, সিনেমা নির্মাণের কাজ আমার। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া কিংবা প্রচারণার বিষয়টি প্রযোজক-পরিবেশকের। এটা ভাবতে গিয়ে আগের ছবিগুলোর ফল ভালো হয়নি। এই ছবিটির প্রচারণা একটু গুছিয়ে করার চেষ্টা করছি। টিটু রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় নির্মাণের পাশাপাশি ছবিটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তৌকীর আহমেদ।
চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে তৌকীর বলেন, খুব পরিশ্রম করে ছবিটা বানিয়েছি। ছবির গল্পটা ভীষণভাবে হিউমারাস, অনেক কমিক উপাদান রয়েছে এর মধ্যে। একদল তরুণ ছেলেমেয়ে তাদের মধ্যে অনেক দস্যিপনা রয়েছে। অনেক বাঁদরামো রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একটু অন্যভাবে বানিয়েছি। দর্শক যেন দেখে মজা পায়। ২০০৪ সালের দিকে হাফিজুর রহমানের লেখা ‘বউ কথা কও’ নামে একটি গল্প পড়েছিলেন তৌকীর আহমেদ। তখন থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন, এ ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। দুই পাতার গল্পের মূল ভাষ্য ছিল, একটা পাকিস্তানি পুলিশ অফিসার একটা মফস্বলে পোস্টিং পায়। তারপর থেকে সে নানা ধরনের অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড করতে থাকে। সেটা পড়েই চিত্রনাট্য রচনা করেন তৌকীর। চান অনুদানও। কিন্তু পাননি। কিন্তু দমে যাননি। চিত্রনাট্য সংযোজন-বিয়োজন করতে থাকেন। সবশেষে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সঙ্গে আলাপ করে নির্মাণে হাত দেন। তৌকীর বলেন, আমি শুধু বলতে চাই, ২১ ফেব্রুয়ারির কোনো তথ্যচিত্র নির্মাণ করিনি, কোনো ইতিহাসও রচনা করতে যাইনি। আমি শুধু ওই সময়ের একটা ঘটনা দিয়ে একুশের চেতনাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছি। যেখানে প্রেম আছে। চেতনা আছে। একটা মিষ্টি গল্প আছে।

21Shares

Count currently

  • 102122Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net