সোমবার, ২০শে মে, ২০১৯ ইং, সকাল ৯:১০

ঝাড়ুদার শাহিন এখন পত্রিকার সম্পাদক

ঝাড়ুদার শাহিন এখন পত্রিকার সম্পাদক

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিনিধি

 

বরিশাল নগরীর আলোচিত রোগীর দালাল শাহিন হাওলাদার ওরফে ঝাড়ুদার শাহিন এখন পত্রিকার সম্পাদক। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আড়ালে নিজের দালালি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, নগরীর এক সময়ের আলোচিত রোগীর দালাল কালুশাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা শাহিন সিকদার। নগরীর সদর রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকেই নামের আগে ঝাড়–দার উপাদী পায় শাহিন। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝাড়ুদারের চাকুরীকালিন সময় দালালদের সাথে সক্ষতা গড়ে ওঠে তার। এমনকি পরবর্তীতে নিজেই দালাল সাম্রাজের গডফাদার বনে যায় ওয়ার্ড যুবদল নেতা ঝাড়ুদাড় শাহীন। নগরীর সদর রোড, রূপাতলী, লঞ্চঘাট এবং রূপাতলী এলাকায় রয়েছে তার বিশাল দালাল বাহিনী। এদিকে দালালদের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে এক সময় নিজেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হয় ঝাড়–দার শাহিন। নগরীর সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা সাহাবুদ্দিনকে সাথে নিয়ে শেফা ডায়গনস্টিক সেন্টার নামে রোগী ঠকানোর ফাঁদ পাতে শাহীন। সেখানে রোগীদের ধরে এনে সর্বস্ব লুটে নেয় সে। অপরদিকে ২০১৩ সালের ২১ জুন শেফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শেবাচিম হাসপাতালে মাদকাশক্ত অবস্থায় ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করে ঝাড়ুদার শাহিন ও তার সহযোগিরা। এ নিয়ে তখন ঝাড়ুদার শাহীনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তবে পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় শাহীন। এদিকে ওই ঘটনায় শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়ার পরে একই স্থানে নতুন নামে শুরু হয় শাহীনের ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালী ব্যবসা। তবে তাও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু থেমে থাকেনি ঝাড়ুদার শাহীন। এবার নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোডস্থ আগরপুর রোডে দী মুন মেডিকেল সার্ভিসেস নামে প্রতারনার ফাঁদ পেতেছে সে। বিশাল দালাল বাহিনীর মাধ্যমে দুর দুরন্ত থেকে আসা রোগীদের ধরে তাদের সর্বস্ত হাতিয়ে নিচ্ছে শাহীন। দী মুন মেডিকেল সার্ভিসেস এর সামনেই প্রতিদিন বসে দালালদের হাট। দালালরাই সেখানে কলেজ ছাত্রীদের ইভটিজিং এর পাশাপাশি ঘটাচ্ছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে ঝাড়ুদার শাহীন নিজেই। তার সাথে দালাল নির্ভর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সহযোগি হিসেবে রয়েছে শেবাচিম হাসপাতালের প্যাথালজী বিভাগের টেকনোলজিস্ট মজিবর রহমান। যিনি সরকারি চাকুরী নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধ প্যাথালজি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সদর রোডস্থ আগরপুর রোডের প্রবেশদ্বারে হোটেল ম্যালডি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দালাল নির্ভর তথা কথিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দালালির সাম্রাজে টিকিয়ে রাখতে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে দালালের গডফাদার ঝাড়ুদার শাহীন। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে বরিশাল থেকে প্রকাশিত আন্ডারগ্রাউন্টের পত্রিকা ‘বরিশাল ক্রাইম’ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হয়েছেন তিনি। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিজের নাম গোপন করতে লিখেছেন মো. হোসেন শাহিন। বিনিময়ে পত্রিকার প্রকাশক এইচএম শাহআলম শাহকে দিচ্ছেন মাসে মোটা অংকের টাকা। নাম লিখতে কলম ভাঙা ঝাড়ুদার শাহীন নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং দালালি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমের আশ্রয় নেয়ায় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

117Shares

Count currently

  • 100910Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net