শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, সন্ধ্যা ৭:২২

অর্থ পাচার ঠেকাতে আইন পরিবর্তন

অর্থ পাচার ঠেকাতে আইন পরিবর্তন

dynamic-sidebar

অর্থ পাচার ঠেকাতে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অ্যাক্ট ২০১২’ এর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিধি জারি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় (এমওএফ) তদন্তকারীদের কর্মক্ষেত্র সংজ্ঞায়িত করে এই বিধি জারি করেছে। এই বিধির আলোকে দুর্নীতির তদন্তের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজ নিজ তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে চার্জশিট জমা দেয়ার কর্তৃত্ব পেয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই আইনের অনুপস্থিতের কারণে সরকারি সংস্থাগুলো আগে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সমস্যায় পড়ত। এর আগে শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ আরো কিছু শাখা অর্থ পাচার মামলার তদন্ত শেষ করার পরে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। নতুন বিধির মাধ্যমে অর্থ পাচার আইনে মন্ত্রণালয় সরকারের কোন সংস্থাগুলো কোন ধরনের দুর্নীতির তদন্ত করবে সে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন পাসের সাত বছর পর এবং সংশোধনের তিন বছর পর সরকার এই বিধি জারি করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) ‘মানি লন্ডারিং রুল-২০১৯’ জারি করেছে।
জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আইনের নতুন বিধি জারির ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবে। আমরা আশা করি নতুন জারি করা বিধিমালা মানি লন্ডারিং আইনের বাস্তবায়ন আরো সহজ করবে।
আইন বাস্তবায়নের নির্দেশিকাগুলো এই বিধিমালায় পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালা জারির জন্য এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য কোনো আইনের সঙ্গে যাদে সাংঘর্ষিক না হয় তার জন্য বিধি জারিতে সময় নেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় নিয়মগুলো যত্ন সহকারে তৈরি করেছে যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ঝামেলামুক্ত পরিবেশ উপভোগ করেন। বিধি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় মানি লন্ডারিংসংক্রান্ত ২৭ ধরনের দুর্নীতির শ্রেণীকরণ করেছে। সংস্থাগুলোর মধ্যে ফৌজদারি তদন্ত বিভাগকে ২৭টির মধ্যে ২১ ধরনের দুর্নীতি, আলাদাভাবে বা অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ অন্যান্য তদন্ত কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এই আইন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কাস্টমস কমিশনার ড. মঈনুল খান বলেন, জারিকৃত বিধির অভাবে তদন্তকারীদের চার্জশিট দাখিল করতে অসুবিধা হচ্ছিল।
মানি লন্ডারিং বিধিমালায় দুর্নীতির বিস্তৃত এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা আরো সংক্ষিপ্ত করা উচিত। আইনে দুর্নীতি, ঘুষ, জাল মুদ্রা লেনদেন, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, আত্মসাৎ, অবৈধ অস্ত্র, মাদক দ্রব্য বা আসক্ত পণ্য ট্রেডিং, চোরাচালান, হাইজ্যাক, অপহরণ, খুন বা গুরুতর শারীরিক আঘাত, নারী ও শিশু পাচার, মজুদ, কালোবাজারি, স্থানীয় এবং বিদেশি মুদ্রা পাচার, চুরি, ডাকাতি এবং মানব পাচার।
যৌতুক, কর ও কাস্টমস সম্পর্কিত দুর্নীতি, মেধা সম্পদ অধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, প্রাপ্তবয়স্কদের পণ্য উৎপাদন, পরিবেশগত অপরাধ, যৌন নির্যাতন, পুঁজিবাজার সম্পর্কিত দুর্নীতি (অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় এবং বাজার ম্যানিপুলেশন), সংগঠিত অপরাধ এবং হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
জারিকৃত বিধি অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে জাতীয় কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। প্রসঙ্গত, সরকার ২০১২ সালে চার থেকে ১২ বছরের জেলের বিধান রেখে মানি লন্ডারিং আইন প্রণয়ন করেছিল। ২০১৫ সালে এনবিআর, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে এটি সংশোধন করা হয়েছিল। এর আগে মানি লন্ডারিং অপরাধের তদন্তের জন্য দায়িত্ব ছিল শুধু দুদকের হাতে। দুদক প্রয়োজন মনে করলে অন্য সংস্থা তদন্তে যোগ দিতে পারত।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়- শুধু ২০১৫ সালে বাণিজ্যে কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। বাণিজ্যের মাধ্যমে কারসাজি করে অর্থ পাচারের তালিকায় বিশ্বের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

4Shares

Count currently

  • 181289Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net