শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, রাত ৮:২৫

নতুন আর কোনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হবেনা

নতুন আর কোনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হবেনা

dynamic-sidebar

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

 

মিয়ানমারের থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা নতুন আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। খবর রয়টার্সের

বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কাউন্সিলকে জানাচ্ছি যে, মিয়ানমারের নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে আর আশ্রয় দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশ।

শহীদুল হক বলেন,বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে গেছে। তিনি এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
শহীদুল হক আরও বলেন, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মিয়ানমার। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব কাউন্সিলকে আরও বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজনও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ্রহ দেখাননি। তাদের দাবি মিয়ানমারে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নেই।

পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা-প্রণোদিত, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন ব্যতীত আর কিছুই চাই না। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আমরা নিরাপত্তা পরিষদের অব্যাহত অভিভাবকত্ব প্রত্যাশা করি।

এসময় পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার জন্য তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এগুলো হলো- ১. কফি আনান অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের অগ্রগতি বিধানের সহায়ক হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে রেজুলেশনটি আবারও আলোচনার টেবিলে আনা যাতে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা যায়।

২. নিরাপত্তা পরিষদের পুনরায় কক্সবাজার ও রাখাইন স্টেটের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন।
৩. মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত অসামরিক ‘সেফ জোন’ সৃষ্টি করা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে গত ১৮ মাসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এরও আগে থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করতেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

0Shares

Count currently

  • 181308Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net