বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১১:১৪

নির্বাচনী সংস্কৃতি ও ডাকসু নির্বাচন

নির্বাচনী সংস্কৃতি ও ডাকসু নির্বাচন

dynamic-sidebar

নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় যতই হোক না কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা মানে ডাকসু নির্বাচনের ভোটাররা 
নিরাপদে, স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারবেন কিনা? এই স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? হলগুলোতে সব সংগঠনের নিরাপদ সমপ্রচারণার
সুযোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা সামনে আনা এই মুহূর্তে খুবই জরুরি।
কেননা এতে ভোটারদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও আবাসিক হলগুলোতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১১ মার্চ। ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে তফসিল। ঢাকসুকে নিয়ে আলোচনা চলছে সব জায়গায়ই। দশটি প্যানেলভুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রকাশ করছেন নির্বাচনী ইশতেহার।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলোর মুরব্বি দলগুলোও ব্যস্ত। তারাও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোও প্রতিদিনই ডাকসু নির্বাচনের নতুন নতুন খবর নিয়ে হাজির থাকছে। ডাকসুকে ঘিরে এক ধরনের টান টান পরিবেশ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। আশার কথা ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে এখনো কোনো ধরনের অঘটন ঘটেনি।

কেন ডাকসু নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ? কেনইবা ছাত্ররাজনীতি আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এত গুরুত্বপূর্ণ? ১৯৪৭-এর দেশ ভাগের পর থেকেই মূলত পরের বছর থেকেই দানাবাঁধে ভাষার লড়াই, যার দফারফা মূলত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং যেটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিক ও ছাত্ররা। সেখানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা ছিল মূলে।

এর পরের ষাটের দশকজুড়েও ছিল ছাত্ররাজনীতির লড়াকু ভূমিকা। পাকিস্তান সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বারবারই লড়েছে ছাত্র সমাজ, যে কারণে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে প্রথম টার্গেট করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে সে সময়কার ছাত্রনেতাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশ স্বাধীনের পরও দেশ গঠনে ছাত্ররা ভূমিকা রাখেন। ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক শাসন জারির প্রথম দিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই বছরেই মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম পোস্টার লাগানো হয় এবং বাম সংগঠনগুলো ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধেই স্লোগান দেয় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন, কালক্রমে যেটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

সে সময়ের শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান ১৯৮২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একটি নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব করেন। এই নীতি ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশে একমাত্র সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লড়েছেন ছাত্ররা। পুরো আশির দশকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি লাশ পড়েছে।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেনাশাসক এরশাদের সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচলন হয় এবং বর্তমানে যা আধিপত্য হিসেবে পরিচিত।
ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড়সড় জায়গাজুড়েই আছে। এর কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই এখানকার ছাত্রদের রাজনৈতিকে নড়াচড়া পুরো বাংলাদেশকেই নাড়িয়ে দেয়।

আমরা দেখেছি ২০০৭ সালের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও প্রথম প্রতিবাদ এসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তবে বর্তমান ছাত্ররাজনীতির ধারা একটু বদলেছে। ছাত্ররাজনীতির মূলে একসময় যেখানে ছিল প্রতিষ্ঠান (এস্টাবলিশমেন্ট অর্থে) বিরোধিতা, এখন সেটি অনেক বেশি ক্ষমতাকেন্দ্রিক। আগে যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ দেখা হতো, এখন সেখানে দেখা হয় দলীয় স্বার্থ। তাই রাষ্ট্র, সরকার এবং ছাত্ররাজনীতির উদ্দেশ্য একই জায়গায় মিল খায়।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, কিন্তু এর এক বছরের মাথায় মৃত্যু ঘটেছিল ডাকসুর। অথচ এর উল্টোটিই হওয়ার কথা ছিল। এই ২৮ বছর ধরে নানাভাবে জিইয়ে থাকা ডাকসুর দাবি, শেষ পর্যন্ত রিটে গিয়ে ঠেকেছিল। গত ২৮ বছরে চারবার ডাকসুর তফসিল ঘোষণা করার পরও ডাকসুর নির্বাচন হয়নি, হতে পারেনি।

এমনকি ১৯৯৪ সালে ভোটকেন্দ্র ইস্যুতে তফিসল ঘোষণা করার পরও নির্বাচন করতে পারেনি তৎকালীন প্রশাসন। সে সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা ছাত্রলীগ ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে রাখার দাবি জানায়। কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা ছাত্রদল হলে ভোটকেন্দ্র রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এ বিষয় নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হয়নি ডাকসু নির্বাচন। ক্ষমতা পাল্টায়। তখন নেতাদের সুরও পাল্টায়। বর্তমানে এ দুটি সংগঠন আগের অবস্থানের বিপরীতে কথা বলছে, অর্থাৎ ছাত্রলীগ ভোটকেন্দ্র হলের ভেতরে রাখার পক্ষে আর ছাত্রদলসহ অন্যরা এর বিপক্ষে। দেখা যাক এই প্রশাসন শেষতক কতটুকু শ্যাম-কূল রাখতে পারে।

১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে ডাকসুর অস্তিত্ব রয়েছে। রয়েছে ডাকসুর আলাদা গঠনতন্ত্র। সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছরই ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেখানে প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেখানে বাংলাদেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে মাত্র সাতবার সেই নির্বাচন হয়েছে।

তবে ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলগুলোতে রাখার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘সাম্প্রতিক’ পরামর্শ ‘হলেই ভোটকেন্দ্র থাকবে’ আবারো তলানিতে ঝুলের মতো টিকে থাকা স্বায়ত্তশাসনের গৌরবকে শুধু যে ম্লান করেছে তা নয় বরং ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারকেই ইঙ্গিত করছে। ওবায়দুল কাদের নিশ্চিতভাবেই জানেন কেন ১৯৯৪ সালে ডাকসু নির্বাচন হতে পারেনি।

এবারের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকেই সতর্ক আওয়ামী লীগ। শেষমেশ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে লড়ছেন। হলগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখে সংগঠনের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এই নির্বাচনকে। এর নানা কারণও রয়েছে।

গত দশ বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের নানা কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এর পাশাপাশি গত বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত আন্দোলনে ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের থেকে দূরে সরে গেছে। বরং আন্দোলনগুলোকে ট্যাকেল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ বরাবর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে এবং দমন-নিপীড়ন করেছে। এর বাইরে হল দখল, হলগুলোতে ভিন্নমতের সংগঠনের ছাত্রনেতাদের দমন-পীড়নসহ নানা ঘটনায় শিক্ষার্থীরা কতটা ছাত্রলীগকে ভোট দেবেন, সেটি প্রধানমন্ত্রীকেও ভাবাচ্ছে।

কেন ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করা দাবি এতটা যৌক্তিক হয়ে উঠেছে? এর প্রধান কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো সবই সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রলীগের দখলে এবং নিয়ন্ত্রণে। সেখান থেকেই অনেক আগেই বিতাড়িত হয়েছেন ছাত্রদলের নেতারা। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এর বিপরীত চিত্র ছিল। অর্থাৎ ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে ছিল হলগুলো। কোন কোন হলে হল প্রশাসন অনেকটাই ছেড়ে দেয় ক্ষমতাসীন সংগঠনের হাতে। সিট বণ্টন থেকে শুরু করে বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণই তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে এই চিত্রই চলছে, তাও কয়েক যুগ হলো। বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থাও যে সম-অবস্থানের তা নয়। বরং কমনরুম, টিভিরুমে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে ক্ষমতাসীন সংগঠনের হাতে হেনস্থা হওয়ার ঘটনাই বছরজুড়ে চলমান থাকে। আর যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম সংগঠনের নেতৃত্বে কোনো ধরনের আন্দোলন হয় তাহলে এই হেনস্থা শারীরিক নিপীড়নে ঠেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। সরকারি ছাত্র সংগঠনের মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়ার চাপ অনেকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আনন্দকে চুপসে দেয় অনেকখানিই। হলগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় আসার আগে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকার কারণে হলগুলোতে তারা চাপের মুখে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন সংগঠনের দাপট এতটাই যে, বছর দুয়েক আগে সামান্য একটি ক্যালকুলেটরের জন্য চোখ হারিয়েছিলেন একজন ছাত্র।

এই পরিস্থিতির কোনোটাই আমাদের কাছে অপরিচিত নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের দাবিই বরং অচেনা, যেখানে বারবার বলা হচ্ছে সব সংগঠনের সহাবস্থান রয়েছে, যা ডাকসু নির্বাচনের অন্যতম রাজনৈতিক শর্ত। হলে ভোটকেন্দ্র হলে কী কী সমস্যা হতে পারে? প্রথম প্রশ্নটিই হলো- ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন নিয়ন্ত্রণাধীন হলে আসলে সব শিক্ষার্থী কী নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে? হলে ক্ষমতাসীন সংগঠনের নেতারা ‘চিনে রাখছি’ কিংবা ‘খবর আছে’ ধরনের ভয় বা হুমকির মধ্যে রাখবে না তো হলে থাকা শিক্ষার্থীদের? ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভয়, মানসিক চাপের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবেচনায় রাখছে তো?

দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি হলের বাইরে থাকা, কিন্তু হলের সঙ্গে সংযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ শতাংশ ছাত্র হলের বাইরে থাকেন। তারা হলের এ ধরনের সরকারি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এবং হলের এই পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতও নন। সে ক্ষেত্রে ভয়, ভীতি কিংবা চাপের কারণে তারা হলের কেন্দ্রে ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন।

তবে নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় যতই হোক না কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা মানে ডাকসু নির্বাচনের ভোটাররা নিরাপদে, স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারবেন কিনা? এই স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? হলগুলোতে সব সংগঠনের নিরাপদ সমপ্রচারণার সুযোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা সামনে আনা এই মুহূর্তে খুবই জরুরি। কেননা এতে ভোটারদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

পাল্টেছে ছাত্ররাজনীতির রঙ। প্রথমদিকে পরোক্ষ নির্বাচন হলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। তবে প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দেশ স্বাধীনের পর ভোট হয়েছে মাত্র সাতবার। সবশেষ ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসু নির্বাচন হয়। তবে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন শেষে দেশে গণতন্ত্র আসার পর মানে ১৯৯০ সালের পর আর কোনো ডাকসু হয়নি। হয়নি রাজনৈতিক কারণেই। সেই দিক থেকে এবারের ডাকসুর ওপর সবার নজর। তবে ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি ডাকসুর কর্মপরিধিও নতুন রূপ লাভ করবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডাকসু নির্বাচন ভিন্ন অর্থ তৈরি করে, কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে খুব অঙ্গাঙ্গীভাবে আছে এ দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস। সেই বায়ান্ন থেকে একাত্তর। বাংলাদেশে হিরণ্ময় দিনগুলো এসেছিল ছাত্ররাজনীতির ঝাঁঝালো দাপটে। বাংলাদেশের বর্তমান অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের বেশিরভাগই তাদের রাজনীতির মেজাজী সময়ের ডাকসুর ভিপি কিংবা জিএস ছিলেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন মানেই আমাদের কাছে ভিন্ন মর্জির সম্ভাবনা।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে আমাদের ভিন্ন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সন্ত্রাসের সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার পথ ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হবে বলে মনে হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে ডাকসু নির্বাচন থেকেই শিখে নেবে কিছু… শিখবে তো?

জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

7Shares

Count currently

  • 102122Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net