শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, সন্ধ্যা ৭:৪৬

অপরাজিতা নারী শুভ্রা দাস

অপরাজিতা নারী শুভ্রা দাস

dynamic-sidebar

 

বাউফল প্রতিনিধি:

 

১৯৮৬ সালে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ্রা দাস। পরিবারে বড় সন্তান হিসাবে জন্ম নেন তিনি। আজকের এইসব সফলতা মাটি হয়ে যেতো যদি ৮ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় সেদিন দাদু-ঠাকুমা’র ইচ্ছায় আর পাড়া-প্রতিবেশীদের পরামর্শে বিয়ে হয়ে যেতো তাঁর। তবে সেদিন তাঁর বাবার ঐকান্তিক ইচ্ছায় বিয়ে ভেঙে যাওয়া শুভ্রা আজ প্রশাসন ক্যাডারের স্বনামধন্য কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালন করেছেন পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে। তাঁর স্বামী পিজুস চন্দ্র দে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সমাজে যখন কন্যা সন্তানকে বোঝা ভাবা হয়, সেখানে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে তাঁর বাবা তাকে নিয়ে নিয়মিত স্বপ্ন বুঁনেছেন, সাহস যুগিয়েছেন নিরন্তর। পুরুষ শাসিত সমাজে মেয়েকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন আত্মনির্ভরশীল করে। অন্য দশটা ছেলের সাথে তালমিলিয়ে বাজার করা, ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত করা, পরিবারের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাসহ পারিবারিক বিভিন্ন কাজকর্মে নিযুক্ত রেখেছেন নিয়মিত। ফলে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছেন আগামীর পথে।

শুভ্রা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙখিত ইংরেজি বিভাগে চান্স পেয়ে যান। ইচ্ছা ছিলো শিক্ষক হয়ে মানুষের জীবন গড়ে দিবেন। কিন্তু এবারো বাঁধ সাধলেন বাবা। তিনি ভর্তি করে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। তারি ফলে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করে ক্যারিয়ার শুরু করেন একজন আইনজীবী হিসাবে। পরবর্তীতে আইনি ও সালিশ কেন্দ্রে দেশবরেণ্য মানবাধিকার কর্মী বেগম সুলতানা কামালের সহচর এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসাবেও কাজ করেন এই ক্ষুদে আমলা।

যাই হোক অবশেষে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই ৩০তম বিসিএস-এ যোগদান করেন প্রশাসন ক্যাডারে। শুধু শুভ্রা নয় সমানভাবে প্রতিষ্ঠত হয় তার ছোট বোন মাধবী দাস যিনি বর্তমানে একজন চিকিৎসক হিসাবে কমরত। আজকের এই অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভ্রা জানান নিজের সৌভাগ্যের কথা। জানান বর্তমানে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি যে সাপোর্ট তাকে দেন যে কারনেই আজ কর্মক্ষেত্রে তাঁর এই সুনাম। সময় দিতে পারেন মানুষের জন্য।শুভ্রা দাসের স্বামী, বাউফল উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিজুস চন্দ্র দে বলেন, ‘স্ত্রীর সকল কাজকেই আমি নিজের কাজের সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমার মা ও কর্মজীবী ছিলেন, চাকরি করেছেন বিভিন্ন এনজিও তে। ফলে কর্মজীবী মেয়েদের অসুবিধাগুলো উপলব্ধি করতে পারি। আমি চাই সংসারের জাঁতাকলে শুভ্রা যেন নিজের ক্যারিয়ারে পিছিয়ে না পড়ে। তাঁর কাজের সাফল্য ও মানুষের মুখে তাঁর প্রশংসা আমাকে প্রাণিত করে। আমি চাই, তাকে দেখে কর্মস্থলে সাধারণ মেয়েরা উজ্জীবিত হোক।’

শুভ্রা দাস প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে পৌছাতে চান, কাজ করতে চান ছাত্রজীবনে প্রিয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।

68Shares

Count currently

  • 181290Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net