সোমবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং, বিকাল ৪:১৬

৩১ জনের দখলে ১২৩ একর খাস জমি

৩১ জনের দখলে ১২৩ একর খাস জমি

dynamic-sidebar

খাস জমির দলিল-পর্চাসহ পর্যাপ্ত প্রমান  রয়েছে। অতিসম্প্রতি তা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

বরিশালে সরকারি খাস জমির নামে বেনামে বিভিন্ন ভাবে একাধিক ক্ষমতাবান চক্র দখল করে নিয়েছে এবং নিচ্ছে। বর্তমানে বরিশালে খাস জমির দখলদার ৩১ জনের নাম প্রকাশ করেছে ভূমিহীনদের সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন নামের একটি সংগঠন। ওই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১২৩ একর খাস জমি জবর দখলের অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্র, ভূমি মন্ত্রণালয়, সচিবলায়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছেন ওই সংগঠনের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দরা। স্মারকলিপিতে দখলকৃত খাস জমি উদ্ধার পরবর্তী প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে সুষ্ঠু বন্টনের দাবী করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নদীর চর ও সরকারি খাস জমি কতিপয় প্রভাবশালী অবৈধভাবে দখল করে শিল্প কারখানা, মিল ইন্ডাষ্ট্রিজ, ইটভটা, ডকইয়ার্ড, সীমানা প্রাচীর, বহুতল ভবন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলেছে।

সূত্রমতে, নগরীর রূপাতলীর দপদপিয়ার সাবেক ফেরিঘাটের পশ্চিম-উত্তর পাশে প্রান কোম্পানী ১০ একর, একই এলাকার পশ্চিম পাশে অপসোনিন ক্যামিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ ১৫ একর, উত্তর পাশে থাকা এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানি পাঁচ একর, নগরীর চাঁদমারী খালের দক্ষিণ পার্শ্বের খাল ও চরের পাঁচ একর ও নামার চরে মো. শামসুল হক মিয়া নামের এক জনৈক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মানসহ দুই একর জমি, কেডিসি বালুর মাঠ বস্তি, কর্ণকাঠী নদীর তীরে ইটের ভাটা, মোহাম্মদপুর চরে ডক ইয়ার্ড নির্মানের মাধ্যমে পাঁচ একর জমি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে বিসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। এছাড়া রসুলপুরে ৮০ শতক খাস জমি দখল করে ২০টি ভিটি বিক্রি, একই এলাকায় খাস জমিতে একশ’ ঘর তুলে তা বিক্রি ও ভাড়া বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়েছে বশির আহমেদ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নগরীর ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারুন-অর রশিদের বিরুদ্ধে ৬০ শতক জমিতে ৪১টি ও কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক একর জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর করে ১০০টি ফ্লাট বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।

তাছাড়া ব্যবসায়ী এমরাজ হোসেন, খান হাবিব, শ্রমিক লীগ নেতা পরিমল চন্দ্র, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন নোমানের বিরুদ্ধে পোর্ট রোডসহ বিভিন্নস্থানে প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমি দখল, মোহাম্মদপুর চরে এমইপি এনার্জি সেভিংস ল্যাম্পস কোম্পানীর বিরুদ্ধে ১০ একর, একইস্থানে মৌসুমী খামার কোম্পানীর নামে আরও তিন একর, বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন কলেজের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এক একর ৫০ শতক, মোহাম্মদপুরে ব্যবসায়ী লাল মিয়া ও পলাশপুরে সাবেক কাউন্সিলর মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০ একর ও চরমোনাই পীরের ভাইয়ের বিরুদ্ধে খোন্নারের চরে পাঁচ একর, চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাঁচ একরসহ মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধে ১২৩ একর জমি বিভিন্নভাবে দখলের অভিযোগ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রভাবশালী দখলদারদের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ভূমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী হতদরিদ্র প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক-কিষানী পরিবারের মাঝে বরাদ্দের দাবী করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বরিশাল জেলার সভাপতি মো. হারুন ভান্ডারী বলেন, যে জমি ও দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার দলিল-পর্চাসহ পর্যাপ্ত প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে। খাস জমি সঠিক ভূমিহীনদের মাঝে বন্দবস্তের জন্য অনেক আগ থেকেই আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। এসব করতে গিয়ে আমরা অবৈধ দখলদারদের তালিকা খুঁজে পাই। অতিসম্প্রতি তা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। 

15Shares

Count currently

  • 70122Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net