শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, সন্ধ্যা ৭:৫৩

আত্নহত্যার মামলা তুলে নিতে হুমকি সুদ ব্যবসায়ী আউয়ালের

আত্নহত্যার মামলা তুলে নিতে হুমকি সুদ ব্যবসায়ী আউয়ালের

dynamic-sidebar

খান লিমন

 

বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের রূপাতলী এলাকার সুদ ব্যবসায়ী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্ররাচনায় এক রিকশা চালক আত্নহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে এক মহল বাদীর পরিবারকে অব্যাহত হুমকি প্রদান করে আসছে। সর্বশেষ ৮ মার্চ বাসায় গিয়ে রিকশা চালকের স্ত্রীকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দিয়ে বলছে মামলা তুলে না নিলে পরিণত হবে ভয়াবহ। ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে আগুন ধরিয়ে হত্যারও হুমকি প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মো: কালামের স্ত্রী মিনা বেগম। তার অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শালিস বৈঠকের নামে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এরা হলেন- ফিরোজ আহমেদ,আইয়ুব খাঁ, মাহাবুব আলম, নাজমুল হুদা ও খালেক। সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে- প্ররোচনায় আত্নহত্যাকারী মো: কালামের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন। রুপাতলী এলাকার লালা দিগির পাড়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। প্ররোচনায় আত্নহত্যাকারী কালামের স্ত্রী মোসা: মিনা বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলো-রূপাতলী খালপাড় সড়কের বাসিন্দা মৃত: হোসেন খানের পুত্র মো: আউয়াল খান, আউয়াল খানের স্ত্রী মোসা: পপি বেগম, মৃত: হাসেম খানের সন্ত্রী মোসা: জেসমিন বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জন। মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেছেন- আমার পারিবারিক দায় দেনার কারণে আমি বিগত ৪ মাস পূর্বে মো: আউয়াল খানের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা সুদ গ্রহন করি। পরবর্তীতে আসামীরা আমার নিকট প্রতি সপ্তাহে ১৭০০ টাকা লাভ চায়। আমি উক্ত আসামীর সুদের টাকা খেয়ে না খেয়ে নিয়মিত পরিশোধ করে আসছি। সম্প্রতি উক্ত আসামীর নিকট কেউ বলে আমি টাকা না দিয়ে পালিয়ৈ যাব। ফলে আসামীরা গত ২৮ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে আমার ঘরে এসে জানান-তুমি পালিয়ে যাবা। আমি তাদেরকে বলি আমি পালিয়ে যাব না। আমার স্বামী বরিশাল শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা পালিয়ে গেলে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কি খাবো। কিন্তু উক্ত আসামীরা আমার কথায় বিশ্বাস না করে পরস্পর যোগশাজসে একে অপরের সহায়তা পূবপরিকল্পিকভাবে একই উদ্দেশ্যে আমার বসত ঘরে থাকা ১টি ২১ ইঞ্চি টিভি,১টি স্টিলের তৈরি সুকেচ,২ টি বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান,১২টি পাতিল নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার স্বামী মো: কালাম গত ৩ ফেব্রুয়ারী রাত ৯টায় রিকশা চালানোর সময়ে ১ নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। তখন আমার স্বামী অনেক অনুনয় বিনয় করে আসামীদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে দোকান থেকে বিষ ক্রয় করে এেেন গত ২ ফেব্রুয়ারী রাত ২টার দিকে সেবন করে। ফলে আমার স্বামী ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক স্বাক্ষীর সহায়তায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কতর্বরত চিবিৎসক আমার স্বামীকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। প্রকৃতপক্ষে উক্ত আসামীগনের প্ররোচনায় আমার আত্নহত্যা করেছে। এদিকে আসামীরা মামলা তুলে নিতে বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে। বাদীর পরিবার বর্তমানে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছে। এরকমপরিস্থিতিতে আসামীরা দাপট প্রদর্শনে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন নিশ্চুপ থাকায় আরো শঙ্কিত বাদীর পরিবার। পাশাপাশি আসামীদের পক্ষ হয়ে স্থানীয় একটি মহল কাজ করছে। এসব প্রসঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যরা।

23Shares

Count currently

  • 181294Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net