শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, সন্ধ্যা ৭:৪০

ছাত্রলীগেই ভিড়ছেন ভিপি নুর!

ছাত্রলীগেই ভিড়ছেন ভিপি নুর!

dynamic-sidebar

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক, ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ছাত্রলীগের সঙ্গে মিলেমিশেই কাজ করবেন—এমনটি বলছেন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। তাঁরা জানান, নুরের একসময় ছাত্রলীগে যুক্ত থাকার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানানো হলে তিনিও নুরের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন। ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সরকারবিরোধী হিসেবে আখ্যা পাওয়া নুর আবারও ছাত্রলীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে যাচ্ছেন বলে আশা করা হচ্ছে। নুরের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতাও কালের কণ্ঠকে এ ধারণা জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী অন্য প্যানেলগুলো ভিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে নুরকে চাপ দিচ্ছে। তবে এর পরও ছাত্রলীগের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি অংশও ভিপি হিসেবে দায়িত্ব না নিতে নুরকে চাপ দিচ্ছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যও সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি অংশ চাইছে নুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখুক। আর ছাত্রলীগও নুরকে সঙ্গে নিয়ে ডাকসু পরিচালনায় এগোতে চায়।

গতকাল বুধবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন ডাকসু নির্বাচন বর্জনকারী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বিভিন্ন প্যানেলের নেতারা। এরপর গণমাধ্যমে ব্রিফিংকালে তাঁরা নুরকে কোনো বক্তব্য দিতে দেননি। কারণ আগের দিন মঙ্গলবার নুর গণমাধ্যমে নির্বাচন, দায়িত্ব গ্রহণ ও ক্লাস বর্জন বিষয়ে একেকবার একেক অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ নিয়ে নির্বাচন বর্জনকারী অন্যদের সঙ্গে নুরের মতপার্থক্য দেখা দেয়। এ কারণে গতকাল আর নুরকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি পরে হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। আগে এ হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন নুর। কোটা আন্দোলনের সময় তাঁকে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ। এ হলেই আবার উঠতে যাচ্ছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র বলছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে প্রশাসন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ছাত্রলীগের সূত্রগুলো জানায়, মঙ্গলবার রাত ২টার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরের সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রলীগের পাঁচ-ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরা নুরকে নিয়ে একসঙ্গে ডাকসুতে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেন। হাসপাতালটির ৫০৪ নম্বর কেবিনে রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ওই বৈঠক হয়। এর আগে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নুরের সঙ্গে দেখা করে কোলাকুলি করেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও ডাকসুুতে তাঁর কাছে পরাজিত ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

নুর যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সেখানকার এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নুরের সঙ্গে দেখা করতে আসা ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং আরো কয়েকজন ছিলেন। তাঁরা এক ঘণ্টার মতো নুরের সঙ্গে আলাপ করেন।

ছাত্রলীগের সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নুরকে সঙ্গে নিয়ে ডাকসু পরিচালনা করতে ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ীই ছাত্রলীগের নেতারা নুরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর কাছে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে কাজ করা নুর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ফলে তিনি পুনর্নির্বাচনের দাবিতে এখনো সোচ্চার থাকলেও ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব নেবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে টিএসসিতে নুরের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ভোটে নুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছে। আমরা তাকে মেনে নিয়েছি। সবাই তাকে মেনে নেবে। সে আমার বন্ধুর ছোট ভাই। এ নিয়ে কেউ কোনো সংঘর্ষে জড়াবে না।’ শোভন আরো বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার প্রতি আহ্বান, সুষ্ঠুভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনায় সহায়তা করতে হবে। তাকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আমরা স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব। আমি ভিপি হতে পারি নাই। তাতে কোনো সমস্যা নেই, নুর আমাদের সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবে।’ ওই সময় নুর বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাজ করব। আমাকে ছাত্রলীগ মেনে নিয়েছে। আমি ক্যাম্পাসে কাজ করতে শোভন ভাইয়ের সহযোগিতা চাই।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুহসীন হলের গেস্টরুমে নুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি এখন ডাকসুর কাজ এগিয়ে নিতে হলে তো আমাকে ছাত্রলীগের সহযোগিতা নিতেই হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি হলের ১১৯ নম্বর কক্ষে থাকতাম, কিন্তু বের হয়ে যেতে হয়েছে। আমি খুব শিগগিরই আবারও হলে উঠব।’

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সে আমাদের আদর্শিক কর্মী ছিল। সে একটি হলের উপসম্পাদক ও হলের গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থী ছিল। কিন্তু কোটা আন্দোলনের সময় তাকে ভুল বুঝিয়ে মাঠে নামায় একটি পক্ষ। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি জানিয়েছি। নুর আমাদের আদর্শিক ছোট ভাই। তাকে সংগঠনে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নুর নিজেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আশা করছি, নুর নিজেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবে।’

রাব্বানী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা—ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে কঠোর মনোভাব জানিয়েছেন নেত্রী। প্রয়োজনে ছাত্রলীগকে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে বলেছেন। ডাকসুকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।’

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি স্বীকার করে রাব্বানী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা দেখা করতে গিয়েছিলাম। সে একসময় আমার সঙ্গে রাজনীতি করত। সে আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আগে থেকেই তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে।

2Shares

Count currently

  • 181290Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net