বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১১:৩২

বাউফলে জামায়াত নেতার দখলে মাদ্রাসা

বাউফলে জামায়াত নেতার দখলে মাদ্রাসা

dynamic-sidebar

বাউফল প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ‘ফাতেমা জহুরা বালিকা মাদ্রাসা’ দখল নিয়ে অনিয়ম আর দূর্নীতির আখড়াঘরে পরিনত করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াত ইসলামীর উপজেলার নেতা, ওই মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাও. শেরে আলী ও তার ভাই স্বঘোষিত সুপার মো: আব্বাস আলী। ওই মাদ্রাসায় আরো কর্মরত আছেন তাদের পরিবারেরই ৭জন।
জানা যায়, সাবেক সুপারের স্ত্রী মোসা: লালমন বেগম, মেয়ে মাহফুজা বেগম, আব্বাস আলীর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন। এবং শেরে আলীর আরেক ছোট ভাই আবদুল্লাহ অফিস সহকারী ও তাদের পরিবারেরই মো: ফিরোজা বেগম নামের এক মহিলা ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে আছেন ।
সম্প্রতিক বাউফলে জামাতের এক গোপন বৈঠকে বাংলাদেশ শিবিরের সাবেক সভাপতি, রাষ্ট্রদ্রোহী একাধিক মামলার আসামী ড. সফিকুল ইসলাম মাসুদের সাথে শেরে আলীর এক ছবি প্রকাশ হয়। আর আব্বাস আলী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের জামাতের আমীর পদে থেকে সংগঠনের কার্যপরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ আছে।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) অত্র মাদ্রাসায় গিয়ে দেখায় যায়, স্বঘোষিত সুপার মাও. আব্বাস অনুপস্থিত। মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায় তিনি (আব্বাস আলী) এই মাসে প্রায় ২২দিন অনুপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের হাজির খাতা দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানায় হাজিরা খাতা আব্বাস হুজুরের কাছে। মাদ্রসায় খাতা রাখে না, তার সাথে রাখে।
জানা যায়, আব্বাসের বড় ভাই গত ৩১ মার্চ অবসর নেয়। তার পদে আব্বাসকে সুপার নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের ব্যাপারে অত্র মাদ্রাসার সভাপতিসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ কিছু জানে না। অপরদিকে মাদ্রাসার সভাপতি মো: আমির হোসেনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে মাও. আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসাবে দায়িত্ব দেয়।

মো: আব্বাস আলী মুঠোফোনে জানায়, আমি ছুটি আছি। এক প্রশ্নের জবাবে সে বলেন শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে ছুটির আবদেন করে ছুটি নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন,‘ জামায়াত আর মাদ্রাসা এক না।

তবে বাউফল উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, আব্বাস সাহেব কোন লিখিত ছুটির আবেদন আমি পাইনি। মৌখিক ভাবে ছুটি চেয়েছেন।
এক মাদ্রসায় দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আইন অনুযায়ী সহকারি সুপার আব্বাস আলী সুপার পদের দাবীদার। অন্যজন বৈধ না।
এব্যাপারে সমাধান কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবী করেন সেহেতু আদালত রায় দিবে কে বৈধ আর কে অবৈধ!
অত্র মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি মো: আমীর হোসেন মৃধা বলেন, শেরে আলী ও তার ভাই আব্বাস জামাতের সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত।
শেরে আলী কোন সুপার থাকাকালীন সময় তার পরিবারের সদস্যদের কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিয়োগ দেয়।
তিনি আরো বলেন, আব্বাস আলী মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় কাগজ প্রত্র বাড়িতে নিয়ে রাখেন। কোন ক্লাস না করে বেতন-ভাতা ভোগ করেন।

0Shares

Count currently

  • 102126Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net