বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, রাত ১০:৫৪

সেবার নার্স: বাউফলে ইউএনওর বাবাকে মাত্রা অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রয়োগের অভিযোগ

সেবার নার্স: বাউফলে ইউএনওর বাবাকে মাত্রা অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রয়োগের অভিযোগ

dynamic-sidebar

বাউফল প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল সদর হাসপাতালের সামনে প্রতিষ্ঠিত সেবা ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের এক নার্সের বিরুদ্ধে এবার বাউফলের ইউএনও পিজুস চন্দ্র দের বাবার শরীরের মাত্রা অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষনিক ঘটনাটি তার বাসার এক স্টাফের নজরে আসায় তার বাবা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, ইউএনও পিজুস চন্দ্র দের বাবা উপ লাল দে (৭৩) হার্টের রোগসহ শ্বাস কষ্ট ও থাইরয়েট রোগে ভূগছেন। দুই দিন আগে তিনি বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন। ঘটনার দিন রাত সারে ১১টার দিকে ইউএনও তার বাবার শরীরের ইনসুলিন দেয়ার জন্য গাড়ির ড্রাইবার ইব্রাহিম কে হাসপাতালের সামনে সেবা ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাঠান। সেখান থেকে মমতাজ বেগম নামের এক নার্স তার বাসায় আসেন। এরপর তিনি ১শ’ ইউনিট একটি সিরিঞ্জের ৬০ ইউনিট ইনসুলিন তার বাবার শরীরের পুশ করেন। এসময় তার বাসার স্টাফ জামাল হোসেন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইউএনওকে অবহিত করেন। সাথে সাথে বাউফল হাসপাতালের চিকিৎসক আক্তারুজ্জামানকে ডেকে আনা হয়। তখন ইউএনওর বাবার শরীর নিস্তেজ ও নীল হয়ে যাচ্ছিল। সাথে সাথে সুগার পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের ইনসুলিন একদম কমে গেছে। এরপর তাকে সুগার জাতিয় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ দেয়া হয়। রবিবার সকালের দিকে তিনি স্বাভাবিক হন।
ডাক্তার আক্তারুজ্জামান বলেন, ইউএনও সাহেবের বাবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ি ইনসুলিন আর ১০০ ইউনিট সকালে ৮ দুপুরে ৮ ও রাতে ৬ ইউনিট করে নিতেন। ওই নার্স ৬ ইউনিটের পরিবর্তে ৬০ ইউনিট ইনসুলিন তার শরীরে প্রয়োগ করেন। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে ধরা না পরলে প্রানহানীরমত ঘটনা ঘটতে পারতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেবা ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার কোন ডিপ্লোমাধারী নার্স নেই। সার্বক্ষনিক চিকিৎসকও নেই। এক্্ের, প্যাথলজির একজন ছাড়া, আল্ট্রা, ইসিজিসহ নানা ধরণের পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্যআলাদা আলাদা কোন সনদধারী টেকনোলজিস্ট, রেডিওগ্রাফার নেই। এমনকি সিজারের জন্য সার্জন নেই। কাগজে কলমে সব কিছু ঠিক রাখা হলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো। এপর্যন্ত এ ক্লিনিকে সিজারের সময় অনেক প্রসূতি মা ও শিশু মারা গেছে। কয়েক দিন আগে সুমি আক্তার নামের এক গৃহবধূর সিজার করার পর মারা যান।
এ ব্যাপারে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে তার বাবার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার বাবা না হয়ে, গ্রামের কোন অসহায় বাবার ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি হলে পরিনতি হতো অনিবার্য মৃত্যু। খুব শিগ্রই শহর ও শহরতলীতে গজিয়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
২৮/৪/১৯

0Shares

Count currently

  • 102117Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net