মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, বিকাল ৪:৪৯

প্রতিরাতে ঘুমের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন মিসেস শায়লা বেগম!

প্রতিরাতে ঘুমের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন মিসেস শায়লা বেগম!

dynamic-sidebar

রাতে ঘুমানোর পূর্বে ঠিকঠাক কাপড় পরেই ঘুমান, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে নিউড অাবিস্কার করেন সাথে ধর্ষণের অালামত। বড়ই অাশ্চার্য্য ও তাজ্জব বেপার! এটা কি করে সম্ভব?
মিঃ অানোয়ার (শায়লার স্বামী) অাট বছর অাগে কার accident এ মারা গেছেন। মারা যাবার পরে ওনার সমস্ত ব্যবসা দেখাশোনা করছেন শায়লা বেগম। সকাল সন্ধ্যা অফিস, ক্লায়েন্ট, মিটিং করে প্রায় দিনই রাত ৮ টার পরে বাসায় ফিরেন! তারপরে শাওয়ার সেরে সবার সাথে টেবিলে ডিনার করেন, গল্প করেন এবং টুকটাক কাজ সেরে ১২ টার পরে ঘুমাতে যান। অার ঘুমের মধ্যেই প্রতিরাতে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন! কিন্তু কে সে??
শায়লা বেগমের একক ভিলা বাড়িটাতে অাট জন মানুষের বাস! কাজের মেয়ে বুলবুলি বয়স ১৮, ড্রাইভার নাসির ৩৩, ২ মেয়ে অানিকা ২১, অনন্যা ১৬, শায়লা বেগম ৪২, অসুস্থ শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি ৬৭/৬১, অার ওনাদের সেবার জন্য একজন নার্স জেসিয়া ২৬!
সম্ভাবনার তীর শুধু ড্রাইভারের দিকে যায়, কিন্তু ঐতো বাড়ির বাহিরে ঘুমায়! শায়লা বেগম মেইন দরজা লক করে চাবিটাও নিজের কাছে রাখেন, তবে কি করে ড্রাইভার দ্বারা সম্ভব??
অার পুরুষ বলতে, শুধুই শ্বশুর মশাই বাকি! কথাটা ভাবতেই লজ্জায় কেমন একটা ইতস্তত বোধ করলেন শায়লা বেগম! না, সেটা কি করে সম্ভব?? ওনার বয়স ৬৭, তাছাড়া সারা শরীরে বিভিন্ন ব্যথাতে জর্জরিত, সাথে কিডনি ফেইল! এমনকি একা চলাফেরা করতেও অক্ষম, ৬ ঘন্টা পর পর ইনজেকশন পুশ করতে হয়, থেরাপি দিতে হয়! ওনার সাথেই একজন লোক সারাক্ষণ থাকতে হয়। তাই ডক্টরের পরামর্শে নার্স জেসিয়াকে রাখা হয়েছে।
জেসিয়ার এ বাড়িতে ৩ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। মেয়েটা যেমন স্মার্ট তেমনি দক্ষ। শুধু শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির পরিচর্যার জন্য অানা হয়েছিলো জেসিয়াকে কিন্তু গত ১ মাস থেকে শায়লা বেগমের প্রিয় পাত্রীতে পরিণত হয়েছে।
সারাদিন অফিস করে, যখন রাতে বাসায় ফিরেন শরীরটা বড্ড ক্লান্তিতে ম্যাজ ম্যাজ করে। ঘুমানোর অাগে জেসিয়ার oil message না নিলে চোখই বন্ধ হতে চাইনা! মেয়েটার হাতে যাদু অাছে, এত সুন্দর করে মেসেজ দেয়! OMG…শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়ে যায়, মনে হয় কোন পুরুষ মানুষের ছুঁয়া পড়েছে সারা অঙে! কারণ ওর ছুঁয়াতে sexual feeling চলে অাসে, তাইতো সুখের অাবেশে চোখ বন্ধ হয়ে যায়, যেন স্বর্গে ভেসে বেড়াচ্ছে!!
শায়লা বেগমের শরীরের গঠন খুবই সুন্দর! এখনো যেকোন বয়সের পুরুষের নজড় কাড়তে তিনি সক্ষম! স্লিম, বয়স ৪২ হলেও দিব্যি ৩০/৩২ করে চালিয়ে দেয়া যায়। তাতে কি? শায়লাতো কোন পুরুষকে ডাকে নি! তবে কে,, কি করে,, কেমন করে করছে এমনটি?? অনেকগুলো প্রশ্ন মাথাতে জটলা পাকিয়ে অাছে!!
যাহোক গত ১৫ টা দিন ধরে চলছে, কোন রাতেই মিস যাচ্ছে না! শায়লা বেগম অনেক চেষ্টা করছেন চোখ খোলা রেখে অথবা ঘুমের ভান করে, কাল পিট টাকে ধরার জন্য কিন্তু সারাদিনের পরিশ্রমে হয়ে উঠছে না। অার বিশেষ করে জেসিয়ার মেসেজের পর, শরীরটা এতই অবশ ও ভালোলাগা কাজ করে যে, কোন কিছুতেই চোখ খোলা রাখা সম্ভব না!!
অাজ অফিস তেমন কাজ ছিলো না, তাই অনেক প্লানিং করলেন! যে করেই হোক অাজ রাতেই একটা সুরাহা করবেন! কোন মতেই ঘুমানো যাবে না! প্রয়োজনে ঘুমের ভান করে সুয়ে থাকবেন!!
যেই কথা সেই কাজ, সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরলেন। শাওয়ার নিলেন। সবার সাথে ডিনার করে কিছুক্ষণ টিভি দেখলেন। তারপর দুই মেয়ে ও শ্বশুড় – শ্বাশুড়ির খুঁজ নিলেন নিত্যদিনের মত। অতপর জেসিয়ার সাথে গল্প করছেন অার মেসেজ নিচ্ছেন!
রাত ১২ টা, জেসিয়া দরজাটা অাস্তে করে ভিজিয়ে দিয়ে চলে গেছে! শায়লা বেগম চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরে পড়ে অাছেন। তারপর কি দিয়ে কি হলো কিচ্ছু মনে নেই, কিন্তু যখন চোখ খুললেন নিজেকে পূর্বের ন্যায় ধর্ষণ ও উলঙ্গ অাবিস্কার করলেন! অবাক হয়ে ঘড়িতে সময় দেখলেন সকাল ৫ টা!!
মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে, এটা কি করে সম্ভব? যতই ভাবছে ততই যেন পাগল পাগল মনে হচ্ছে! যাহোক শাওয়ার সেরে রেডি হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলেন। সারাদিন অফিসের কাজে একদম মন বসাতে পারলেন না। ক্ষণেক্ষণে অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছেন।
— স্লামালাইকুম ম্যাম!
ম্যানেজারের সালামের শব্দে, সংবিৎ ফিরে পেলেন। একটু ইতস্তত হয়েঃ
—– ওয়ালাইকুম। অাসুন রকিব সাহেব ভিতরে অাসুন।
— অাপনার শরীর ঠিক অাছে ম্যাম??
—- কেন বলুনতো? অামিতো দিব্যি ঠিক অাছি।
বলেই একটু নড়েচড়ে বসলেন শায়লা বেগম, যেন কিছুই হয়নি এমন একটি ভাব করলেন! অবশ্য ম্যানেজারের চোখে সবই ধরা পড়লো। তাছাড়া গত কয়েকদিন থেকেই ম্যাডামের চালচলন অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। তবে কি ম্যাডাম কারো প্রেমে পড়েছেন??
— ম্যাডাম, ৯.৩০ বাজে! প্রায় সমস্ত স্টাফ ব্রেক করেছে! অাপনি যাচ্ছেন না বিধায় অামিও wait করছি, emergency অাছে কিছু??
—– ৯.৩০!!(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) Oh my god!! 
Ok, রকিব সাহেব অাপনি যান। অামার হাতে হালকা একটু কাজ বাকি অাছে, শেষ দিয়েই বের হচ্ছি!
ম্যানেজার বের হয়ে গেলো। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিলেন শায়লা বেগম। যেন গলার কাছে শ্বাস অাটকে অাছে! অার একটু হলেই রকিব সাহেব বুঝে ফেলতেন, কতটা ধকল যাচ্ছে ম্যাডামের উপর দিয়ে! emergency ছাড়া কখনো ৮ টার পরে অফিসে থাকেন না, কিন্তু অাজ……………
রাত ১১.৩০ টা, সবাইকে good night জানিয়ে বিছানায় অাসলেন শায়লা বেগম। জেসিয়া কিছুক্ষণের মধ্যেই oil বাটি নিয়ে হাজির হলেঃ
—- জেসিয়া, তুমি কখন ঘুমাও??
— (একটু বিচলিত হয়ে) কেন ম্যাম বলুন তো??
—– না, এমনিতেই! না, মানে!! (তারপরেই ভাবলেন, জেসিয়াকে বলাটা ঠিক হবে না তাই কথা ঘুরিয়ে বললেন)! তুমি ঘুনোর অাগে অবশ্যই অামার শ্বশুড় শ্বাশুড়ির রুম হয়ে ঘুমাবে!
— জ্বী ম্যাম, অামি তাই করি!
কথা বলতে বলতেই কখন যে শায়লা বেগম ঘুমিয়ে গেলেন, টেরই পেলেন না! যখন ঘুম ভাঙলো যথারীতি পূর্বের ন্যায় রেজাল্ট। যতই প্লানিং করেন কোন কাজ হচ্ছে না। কারো কাছে share করতেও পারছে না, পাছে কে কি বলে? অবশ্য স্বামীহারা ৮ বছরের জীবনে এটা একটা টার্নিং পয়েন্টও!!
অফিসে বসে একটা ফাইল দেখছেন শায়লা বেগম। হুট করেই বমির চাপ অাসে, দৌড়ে বেসিনে যান কিন্তু বমি হয় না just অক অক! অারো ২/৩ বার এমন হলো, শায়লা বেগম ভাবলেন হয়তো ডিপ্রেশন!
যাহোক এই ঘটনার ৩ দিন পর, শায়লা বেগম নিজেই নিজের মাঝে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলে! একটা পূর্ব অভিজ্ঞতার লক্ষণ! কেমন ঘোরের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছেন, কি হতে চলছে? ভেবেই কুল পাচ্ছেন না! বাসার ভিতরে মাথা চক্কর দিয়ে পড়ে গেলেন, যখন চোখ খুললেন নিজেকে হসপিটালের বেডে অাবিস্কার করলেন!!
চিন্তাতে গলা শুকিয়ে গেলো, জানি না কি রিপোর্ট অাসছে? ফ্যামিলির অন্যান্য সদস্যরা কি জেনে গেছে? অাপাতত পাশেপাশে কাউকে দেখছেন না! পাঁচ মিনিট পর অানিকা ও অনন্যাকে নিয়ে family doctor “পুতুল হক” কেবিনে প্রবেশ করে হাসিমুখে বললেনঃ
—- চিন্তার কোন কারণ নেই, just depression!
কথাটা শুনার পর, শায়লা বেগমের নিশ্বাস সচল হলো! negative কিছু শুনলে হয়তো heart stock করতেন নয়তো নির্ঘাত Death. মেয়েরা দৌড়ে মায়ের বুকে অাসলো, অনেক অাদর করলো। তারপর অনন্যা ডক্টরকে বললঃ
— অান্টি, অাম্মুকে কখন রিলিজ দিবেন?
— এইতো মা, কিছুক্ষণের মধ্যেই দিয়ে দিব। তোমরা দুজনে cash payment করে অাসো, ততক্ষণে তোমার অাম্মুকে কিছু টিপস বলে দিচ্ছি!
অনন্যা ও অানিকা চলে যাবার পরে, ডক্টর পুতুল গম্ভীর ও অাশ্চার্য্য হয়ে বললেনঃ
— কি ব্যাপার বলুনতো? এতদিন থেকে অাপনাদের পরিবারের সাথো অাছি, কখনো ভাবতেই পারিনি!
শায়লা বেগমের নিশ্বাস অাবার অাটকে যাচ্ছে, হয়তো মাথা চক্করও দিচ্ছে! কোন রকম সামলে বললঃ
—– ঠিক বুঝতে পারলাম না!!
— অাপনি মা হতে চলছেন……
চলবে
গল্প-কাঁলো ছায়া
(১ম পর্ব)

#কাঁলো_ছায়া
#পর্ব-২

.
— অাপনি মা হতে চলছেন!!
কথাটা এমনভাবে অাঘাত করলো শায়লা বেগমকে, যেন হজারটা প্রতিশব্দ হয়ে কানে বাজতেছে। মাথাটা স্তম্ভিত হয়ে যায়! অাকাশটা ভেঙে পড়লেও এতটা ভয়, দুশ্চিন্তিত বা অাতঙ্কিত হতেন না! কি বলবেন, কি করবেন এখন?? সত্যিই’তো একবার ভাবা উচিৎ ছিলো? কোন protection ছাড়া physical চলছে, সেটা অজান্তেই হোক বা জান্তেই.. accident ঘটাবে অনিবার্য!
—- ডক্টর পুতুল, অামি মহা বিপদে অাছি! (কাঁপা কাঁপা কন্ঠে কথাটা বললেন “শায়লা বেগম”)
— সেটাতো দেখতেই পাচ্ছি, কিন্তু অাপনিতো একজন Literate & business woman..so protection এর বিষয়টি মাথায় নিয়েই physical টা করা উচিৎ ছিলো।
—– কিন্তু অাপনি যেটা ভাবছেন……..
–(ডঃ পুতুল, কথা শেষ করতে দিলেন না) শুনুন মিসেস শায়লা, এটা অামি- অাপনি- সবাই জানে এভাবে এতদিন একা একা থাকা যায় না। So একটা সঙ্গী সাথীর দরকার, কিন্তু এভাবে………
—–(এবার ডঃ পুতুলের কথা কেড়ে নিয়ে) না, এমনটি কিচ্ছু নয়! অামি একটা accident affair এ জড়িত, যাঁর কোন ভিত্তি নেই, প্রমাণ নেই কিন্তু প্রতিরাতে অামার অজান্তেই ধর্ষনের শিকার হচ্ছি!
— OMG! How possible?? অাপনি ঠিক অাছেনতো??
—– দেখুন অামি shocked খেয়েছি ঠিক তবে মানসিক রোগী বা অন্য কিছু ভাববেন না!
— কিন্তু অাপনি যা বলছেন, সেটাতো……..
—– হুম এটা abnormal কথাবার্তা! কিন্তু এটাই বাস্তবিক!!
তারপর শুরু থেকে শেষ অব্দি ডক্টর পুতুলের সাথে share করলেন! সবটা শুনার পর, পুতুলও shocked!
হতভম্ব হয়ে, অটোমেটিক মুখ হাঁ হয়ে যায়! ভাবলেন, কি unbelievable কথা? কি করে সম্ভব?? তারপর বললেনঃ
— কিন্তু অাপনি দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করে ঘুমান’নি কেন বা cc camera সেট করেন নি কেন? তবেইতো অাসল রহস্য উদঘাটন হয়ে যেত!!
—— দেখুন অামার স্বামীর accident এর সময় অানিকা, অনন্যা ছোট ছিলো বিধায় রাতের বেলা ঘুমের মধ্যেই ওরা অামার রুমে চলে অাসতো! তাই কখনো দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে পারিনি। অার সেই অভ্যাসটা এখনো বিদ্যমান, তাছাড়া দরকারো পড়েনি এতদিন। যদি হুট করেই বন্ধ করি তবে মেয়েরাও সন্দেহের চোখে দেখতে পারে যে, অাম্মু কি অন্য কিছুতে জড়িয়ে গেছে কিনা??
— অার সিসি ক্যামেরা??
—– ঐটাও মাথায় অাসছিলো, তবে বাসার ভিতরে হুট করেই……
— হুম বুঝতে পারছি!
—– এখন কি করব? অামারতো শরীর, মাথা একসাথে অবশ হয়ে যাচ্ছে!!
— অামার পরিচিত একজন গোয়েন্দা বন্ধু অাছে, ও একটা private agency চালায়! অাপনি চাইলে কথা বলিয়ে দিতে পারি। অামারো এরকম একটা ঝামেলাতে জড়িয়ে বন্ধুত্ব হয়। তবে দ্রুতই case success হয়! So brilliant!!
—– হুমম সেটাতো বুঝলাম কিন্তু এখন অামার pregnancy এর কি হবে?? অামার পরিবার/অফিস স্টাফরা জানলে Suicide করা ছাড়া অন্য কোন Option থাকবে না!
— চিন্তার কোন কারণ নেই, কারণ অাপনার family এর সাথে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জড়িত অামি.. So নাড়ীনক্ষত্র সবই জানা….
—–(ভীমড়ি খেয়ে) চিন্তার কারণ নেই? মানে??
— মানে simple! যখনই অাপনি রাত্রে মাথা ঘুরে পড়ে যান, অানিকা ফোন করার পর বাসায় যেয়ে অাপনার এ-পরিস্থিতি দেখেই বুঝতে পারি “You are pregnant!” তাই অামি নিজে থেকেই দ্রুত admit করিয়ে ভ্রুণ নষ্ট করে ফেলি…………
—- (অতি উচ্ছ্বাসিত হয়ে, কথা শেষ হবার অাগেই) ডঃ, অামার প্রাণটা যেন ফেরৎ অাসলো! বুকের উপর থেকে অনেক বড় একটা পাহাড় সরে গেলো!
— কিন্তু জিজ্ঞেস করলেন না, এটা কেন করেছি? তাছাড়া patient বা তাঁর পরিবারের কারো অনুমতি ছাড়াও তো এমনটি করা নিষেধ??
—– অনুমতি? পরিবার?? কি সব যাতা বলছেন??
— যাতা নয়, মিসেস শায়লা! এটাই ঠিক, কারণ অনুমতি ছাড়া অবারশন করানো অনুমোদন নেই! অাইন বিরোধী!
—– (প্রায় কান্না কন্ঠে, গলা বোঝে অাসে) তবে কি সবাই……
— না, চিন্তার কারণ নেই! কেউ জানে না, শুধু অাপনি অার অামি!
—– তবে যে বললেন পরিবার, অনুমতি??
— ঐটা formality, কিন্তু সব ক্ষেত্রে চলে না! এত বছরের একটা সম্পর্ক অামাদের মধ্যে, অামিতো নিজেকে অাপনাদের পরিবারেরই কেউ মনে করি! So অাপনার পরিবারের সম্মান, অামারো সম্মান। প্রথমে ভেবেছি অাপনার কোন অবৈধ সম্পর্কের ফসল এটা, অার যার দরুন ধ্বংস হতে চলছে এমন সাজানো বাগান! এত সুন্দর সুনামের পরিবার অপনাদের!
—– হুমম অাপনিতো পরিবারেরই একজন। ধন্যবাদ ডক্টর পুতুল, অসংখ্য ধন্যবাদ অাপনার এমন সুহৃদের জন্য।
এতক্ষণে অানিকা, অনন্যা এসে হাজির, অানিকা হাফাতে হাফাতে বললঃ
— ডঃ অান্টি, বিলতো পেমেন্ট করা দেখলাম! শুধু শুধু এ ফ্লোর, ও ফ্লোর করে ঘুরে অাসলাম।
— হুমম, বিল পেমেন্ট করা, অামিতো জানি! তোমাদের দু’বোনকে অাগে একদিন বলিছিলাম, Daily হাঁটাহাঁটি করতে, জগিং করতে… কিন্তু না, তোমরা একদমই করোনা, তাই এটা punishment দিলাম! Next time যদি অাবারো অলসতা করো তবে অারো Dangerous punishment দিব। Ok?? 
(কথাগুলো বলেই শায়লা বেগমকে গোপনে চোখ টিপ দিলেন ডঃ পুতুল! কারণ যদি মেয়েরা বিল পেমেন্ট করতো, তবেতো সবই জেনে যেতো)
— (দু’বোন সমুচ্চ স্বরে) Ok Aunt…..
—— (অানিকা হাসতে হাসতে অারো বলল) অান্টি মোবাইলে গেইম খেললে হবেতো??
— (ডঃ পুতুল সমতালে হেসে হেসে) ওরে দুষ্ট মেয়ে! দেখছেন মিসেস শায়লা, অাপনার মেয়ের মাথায় কত পাঁকনা বুদ্ধি??
তারপর একসাথেই সবাই হেসে উঠলো। পরিবেশটা অনেক হালকা হয়ে গেলো। শায়লা বেগমের নিজেকে অনেক Happy মনে হলো, যেন বিশাল একটা ঝড়ের কবল থেকে বেঁচে গেলেন!!
ডঃ পুতুলের কথামতো গোয়েন্দা এজেন্সির মালিক #শুভনের সাথে সাথে দেখা করেন শায়লা বেগম। সমস্ত ঘটনার বর্ণনা শেষে শুভন বলেনঃ
— very interesting thriller case! সত্যিই একটা ভৌতিক গন্ধ পাচ্ছি, তবে অাপনার pregnancy হবার বিষয়টি case টা অারো জটিল করে তুলছে! অাচ্ছা অাপনার বাসার বাহিরে কোথাও সিসি ক্যামেরা লাগানো অাছে??
—– না, কখনো প্রয়োজন হয়নি।
— Ok, No problem. ঐটা অামাদের লোক গোপনে সেট করে দিবে। বাহির থেকে ভিতরে কেউ অাসলে ধরা খেয়ে যাবে! এখন অাপনি বাসায় যান এবং এমনভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম করুন যেন কিছুই হয়নি। অাজ সন্ধ্যায় অামাদের একটা মেয়ে Argent কে পাঠিয়ে দিব অাপনার বাসায়, অাপনি শুধু বন্ধুর মেয়ের পরিচয় দিয়ে সবাইকে বলবেন, ৭ দিন থাকবে।
—– অার কিছু??
— অাপাতত অার কিছু নয়! প্রয়োজন মোতাবেক অামরাই ব্যবস্থা নিব এবং যোগাযোগ করে নিব! অার মনে রাখবেন, অাপনি কখনো অামাদের সাথে ফোনে কথা বলবেন না, কারণ শত্রুকে দুর্বল ভাবা বোকামী! হয়তো অাপনার ফোন, এমনকি জীবনটাও ট্র্যাকিং করতে পারে!!
—– (ভয়ে চোয়াল ঝুলে গিয়ে) হায় অাল্লাহ্, কি ভয়ানক?? তবে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে??
— যে মেয়েকে পাঠাবো ওর নাম #সাদিয়া, যাবতীয় কথা ওকে বলবেন অার ও অামাদের সাথে গোপন যন্ত্রের সাহায্যে যোগাযোগ করবে।
অারোকিছু গোপন দিক নির্দেশনা নিয়ে, শায়লা বেগম বিকালের দিকে বাসায় ফিরেন। অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে শান্ত রাখতে পারছেন না! কোন এক অজানা চাপা উত্তেজনা ফিল করছেন! বিশেষ করে সবশেষের কথা বারবার মাথার মধ্যে ঘোর পাক খাচ্ছে “জীবনটাও ট্র্যাকিং” করতে পারে! সত্যিই কি তাই? অামি কি কোন serious problem ভিতরে অাছি?
হ্যাঁ তাইতো, নয়তো এমন একটি ঘটনা ঘটে গেলো যা কল্পনাতীত! অামাকে অারো অাগেই সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিলো। একজন অাইনের লোকের সাথে share করা উচিৎ ছিলো। মেয়েরা লজ্জায় মুখ বন্ধ রেখে এভাবেই ফেঁসে যায়। অামিও তাঁর ব্যাতিক্রম হলাম না!
— ম্যাম কি ভাবতেছেন?? 
(জেসিয়ার কথাতে ধ্যানভগ্ন হয়ে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলেন, দুই মগ ধূমায়িত কফি হাতে নিয়ে ওর দিকেই অাসছে! মনেমনে বললেনঃ মেয়েটি কত স্মার্ট, অার অামার প্রতি কত যত্নবান। just time এ কফি নিয়ে হাজির।
—– (হাতে কফি নিয়ে) ধন্যবাদ জেসিয়া। সত্যি এমুহূর্তে ১ মগ কফির বড্ড প্রয়োজন ছিলো। তুমি কি করে মনের খবর জানো??
— (মুচকি হেসে) অাপনাকে যে অনেক ভালোবাসি তাই!
—– ohh sweet girl.. Thank you..
— welcome.. কি ভাবছিলেন??
—– (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে) কৈ, কিছু নাতো! এমনিতেই একটু টায়ার্ড ফিল করছিলাম, তাই ইজি চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে একটু ঝিমুচ্ছিলাম!!
জেসিয়া অার কথা বাড়ালো না, দুজনে মিলে নিরবে কফি পান করছে! কিন্তু কফির মগ শেষ করার অাগেই কলিং বেল বাজলো, বেলের শব্দে মগ থেকে কিছুটা কফি ফেলে দিলো শায়লা বেগম! এসবই জেসিয়ার নজর এড়ালো না!
কাজের মেয়ে বুলবুলি দরজা খুলে দিলো, একটা ২২/২৩ বছরের খুব সুন্দরী মেয়ে প্রবেশ করলো। স্লিম ও জীমন্যাস্টীক বডি, জিন্সটপ পরা, কাঁধে ব্যাগ, বুকটা সুউচ্চ, দেখেই হার্টবিট বেড়ে যাবার অবস্থা!
— কেডা অাপনি, কারে চাই?? (বুলবুলির কৌতূহল প্রশ্ন)
— তুমি চিনবেনা, অামি সাদিয়া! শায়লা অান্টি কোথায়??
ততক্ষণে শায়লা বেগম (পিছনে জেসিয়া) সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামছেন, হাসিখুশি মুখে বললেনঃ
—– মা’মনি এত দেরী করলে কেন? তোমার বাবাতো সেই সকালে ফোন করে বলল, “তুমি অাসতেছ!!
তো রাস্তায় কোন সমস্যা??
— অান্টি, অাপনিতো জানেন’ই বর্তমান রোডের কি পরিস্থিতি? বগুড়া থেকে ঢাকা অাসতেই ১২ ঘন্টা লেগে গেলো, Disgusting……
—- Ok, মা’মনি যাও তুমি ফ্রেশ হও, long journey করেছ। পরে অাড্ডা হবে জমিয়ে।
তারপর বুলবুলির উদ্দেশ্যে বললেনঃ তুই কারেন্টের খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে অাছিস কেন? যা তুর অাপুমনিরে গেস্ট রুমটা দেখিয়ে দে??
একক এ ভিলাটা “দ্বিতল ভবন”। নীচ তলাতে বিশাল বড় ড্রয়িং রুম ও ডাইনিং স্পেস, সাথে লাগোয়া কিচেন রুম। তারপর একপাশে মেইড রুম, স্টোর রুম, দুইটা গেস্ট রুম! অার দু’তলাতে দুইটা মাষ্টার বেডরুম, একটাতে শায়লা বেগম অন্যটাতে শ্বশুড় শ্বাশুড়ি থাকেন। অারো তিনটা ছোট বেডরুম অাছে, একটাতে জেসিয়া অার অন্য দুই রুমে, দু’বোন থাকে!
তাই সাদিয়ার স্থান হলো নীচ তলাতে, স্টোর রুমের পাশের গেস্ট রুম টাতে। সাদিয়া দরজা বন্ধ করে, ব্যাগ বিছানোর উপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মেজাজটা ৩৬০° up করে নিজেই নিজেকে বললঃ 
— বাল! কি একটা রুম select করছে! এখান থেকে দু’তলা নজরে রাখা so trapped!
তারপর ফ্রেশ হয়ে, ধাবার ছক কষতে বসে যায় সাদিয়া। রাতের অাঁধারে মেইন গেইট থেকে শুরু করে পকেট গেইট ও অন্যান্য সম্ভাব্য সকল প্রবেশ পথে গোপন মাইক্রো সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। কোন কিছুই যেন নজর থেকে এড়াতে না পারে।
তারপর এজেন্সি অফিসে দেয়া শায়লা বেগমের বাড়ির ম্যাপটা, বসে বসে যত্নসহকারে Study করলো। সবকিছু ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে, রাত ৮ টার দিকে রুম থেকে বের হয়ে সবার সাথে পরিচিত হলো। একসাথে চা’নাস্তা করলো অার বসের নির্দেশনা অনুযায়ী জেসিয়ার উপর extra নজর দিলো।
হুমম, মেয়েটা সন্দেহাতীত নয়! মেয়েটা দেখতে কালো হলে কি হবে? বাকি সবই একশো একশো। কেমন একটা careful & smartness ভাব বিদ্যমান, যা সাধরণত কোন নার্সের মধ্যে দেখা যায় না। তবে কি জেসিয়া কোন গোয়েন্দা এজিন্সির এজেন্ট??
হতেও’তো পারে! বসের কাছে শুনেছি শায়লা বেগমের কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা। যা তিনি একাই নিজহাতে দেখাশোনা করেন। কারো কুনজর, বদ নজর পড়াটাই স্বাভাবিক। যাহোক অারো অনেক কিছুই হতে পারে। খুব সাবধানে ও সতর্কতার সহিত প্রতিটা পদক্ষেপ ফেলতে হবে….
ডিনারের পর গল্পগুজব করে, যে যার রুমে চলে যায়। রাত ১১.৩০! শায়লা বেগমকে অাগেই বলা হয়েছে, পরবর্তী সিগনাল না দেয়া পর্যন্ত জেসিয়ার সাথে বসে গল্প করে যেন ওনার বেডরুমে।
সাদিয়া, বিকল্প চাবি দিয়ে মেইন দরজা খুলে বাহিরের সমস্ত প্রবেশ পয়েন্টে ছোট্র গোপন সিসি ক্যামেরা সেট করে। শরীরটা কেমন ক্লান্ত ও ঘুমঘুম ভাব, মনে হচ্ছে কতদিন ঘুমায়নি। তাই দ্রুত হাতের কাজ শেষ করে রুমে প্রবেশ করে ঘড়ি দেখলো, সময় ১২.৩৫!
সাদিয়া গেস্ট রুমে প্রবেশ করে দরজাটা হালকা খোলা রেখে এমনভাবে চেয়ার নিয়ে বসে যেন বাহিরের সব কিছু দেখা যায় কিন্তু বাহির থেকে সাদিয়ার উপস্থিতি টের পাওয়া না যায়! তারপর শায়লা বেগমকে মেসেজ দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে….
এক-দুই করে তিন মিনিট অপেক্ষা করেও কোন response পেলো না শায়লা বেগমের! সাদিয়ার চোখজোড়াও কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে অাসছে। রাজ্যের ঘুম এসে ভর করছে! তবুও Higher trainer body বলেই হয়তো এতক্ষণেও চোখ বন্ধ হয়েও হয়নি! ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পরও যখন কোন রেসপন্স বা জেসিয়াকে রুম থেকে বের হতে দেখা গেলো না, তখন সাদিয়ার ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় জেগে উঠলো। তবে কি অামি বাহিরে থাকা অবস্থায়, already……..
না, অার ভাবা নয়! এবার হাতেনাতে ধরতে হবে! অনেক কষ্টে চোখ খোলা রেখে, পা টানতে টানতে শায়লা বেগমের বেডরুমে উঁকি দেয় সাদিয়া!
কিন্ত রুমের দৃশ্য দেখে সাদিয়ার চোখ কপালে উঠে যায়………
“চলবে”

#কালো_ছায়া” 
#পর্ব-৩/৪

.
রুমের দৃশ্য দেখে #সাদিয়ার চোখ কপালে উঠে যায়! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, এটা কি করে সম্ভব? তবে কি something is missing??
পরেরদিন সকাল ১০ টা, গোয়েন্দা অফিস বসে সাদিয়া কান্না করেই চলছে! টিস্যু বক্স থেকে একের পর এক টিস্যু নিয়ে চোখের ও নাকের পানি মুছতে মুছতে “use me” ভারাট করে ফেলছে! তবুও যেন কান্না থামার লক্ষণ নেই!!
সাদিয়ার এ অবস্থা দেখে, Intelligent Chief শুভন প্রথমে কড়া দুই ধমক দিলেও.. পরে নিজের ভুল বুঝতে পারে। কারণ সাদিয়ার হাত দিয়ে প্রায় শ’খানেক কেইস সমাধান করা হয়েছে কিন্তু এর অাগে কখনো এমন shocked ও বিধ্বস্ত চেহারা ওর দেখা যায়নি! তারমানে ও বড়ধরণের কোন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভেঙে গুড়িয়ে গেছে। তাই সব কিছু ওর মুখ থেকে শুনার অাগে, সাদিয়াকে self control এর জন্য waiting room এ বসিয়ে রেখে, যাঁর-যাঁর মত নিজস্ব কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে!!
এ ঘটনার ঘন্টাখানেক পরে সাদিয়া নিখোঁজ! নিখোঁজ তো নিখোঁজ, Cell phone, facebook, viber, Whatsapp, এমনকি ওর বাসায় লোক পাঠিয়েও কোন খোঁজ পাওয়া গেলো না(বাহির থেকে দরজা লক করা)! কোথাও খুঁজে না পেয়ে, অাচমকা একটা ভয়ানক বিপদ সংকেতের অাভাস দেখতে পেল বাকি এজেন্টরা!
বিকাল ৫ টা, শায়লা বেগম অফিসে একজন ষাটোর্ধ ভদ্রলোককে প্যান্ট, স্যুট-টাই পরিহিত অবস্থায় বসতে থাকা দেখা গেলো! মুখে কিঞ্চিৎ চিন্তার রেখা বিদ্যমান! অফিসের ভিতরে অার কেউ নেই, ওনি একা বসে ধীরে ধীরে চা খাচ্ছেন!
মিনিট পাঁচেক পর শায়লা বেগম প্রবেশ করলেন! লোকটির দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে অাতকে উঠলেন! এমন অপরিচিত অাজিব লোকটিকে কখনো দেখেননি, অাবার ওনারই অনুপস্থিতি তাঁর অফিসে বসে নির্লিপ্তভাবে চা খাচ্ছেন! কি সব ঘটছে? অফিসের সিকিউরিটি ও অন্যাণ্য ইনচার্জদের উপর রাগে ফুসলে উঠলেন!
পিয়নকে ডাকার জন্য কলিং বেলের উপর যেন চেপে বসলেন! ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই পিয়ন অাবুল মিয়া হাসতে হাসতে ভিতরে ঢুকলো, অার সাতপাঁচ না দেখে ন ভেবেই বললঃ
— ম্যাডাম, কি দিব? ঠান্ডা নাকি গরম??
—- (দাঁতে দাঁত চেপে) তোর মাথা! তোরা কৈ থাকিস? বেল বাজালে অাধঘন্টা লাগে অাসতে??
— ম্যাডাম অামিতো…..
—– (কথা কেড়ে নিয়ে) অাবার বেয়াদবের মত তর্ক করিস! কাকে কোথায় বসাতে হয় সেটাও তো ভুলে গেছিস? ওনাকে waiting room এ নিয়ে বসা অার দেখ, কার কাছে এসেছে??
অাবুল মিয়া এবার সত্যিই অাবুল হয়ে গেলো! ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে খুক খুক করে বললঃ
–ম্যাডাম অাপনিই ফোন করে বললেন, রইসুল সাহেবকে অাপনার অফিসে বসাতে!!
—- রইসুল সাহেব!? 
কথাটা বলেই, শায়লা বেগম জিহ্বাতে কামড় দিয়ে দিলেন। গোয়েন্দারা মানুষ নাকি এলিয়েন? কি করে শুভন সাহেবকে চিনবেন? ৩০ বছরের স্মার্ট, সুদর্শন ছেলেটি, এখন ষাটোর্ধ বুড়া চাচা, চামড়াতে ভাঁজ ধরে গেছে.. অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে বললঃ
—- অাবুল, Sorry ভাই! কাজের চাপে একদম ভুলে গেছিলাম! অাচ্ছা তুমি যাও, প্রোয়োজন হলে ডাকব। অার কেউ ভিতরে অাসতে চাইলে, বলবে ম্যাডাম জরুরী মিটিং করছেন।
অাবুল মিয়া, পানসে মুখে অাবার সূর্য মার্কা হাসি হেসে বললঃ
— “জ্বী, অাইচ্ছা ম্যাডাম!”
কথাটি বলেই বেরিয়ে চলে যায় অার তৎক্ষনাৎ “Auto Door” অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শুভন সাহেব মুচকি হেসে রসিকতা করে বললেনঃ
— ম্যাডাম অাপনার চোখতো মনের কথা বলেনা, এই দৃষ্টি দিয়ে কি করে কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা সামলাচ্ছেন??
—- ভাই, অার লজ্জা দিবেন না pls.. অার যে গেটঅাপ নিয়ে অাসছেন, কার সাধ্য অাছে recovery করবে??
— ম্যাডাম এ লাইনে এমনই সব কার্যক্রম, এত সিক্রেট ভাবে চলার পরো বিপদের শেষ নেই! অামার এজেন্টরা কোথাও না কোথাও অাটকে যাচ্ছে, accident হয়ে যাচ্ছেই, যেমন সাদিয়া…. (বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন)
—– সাদিয়া!?
নামটা উচ্চারণ করে, শায়লা বেগমো বিস্মিত হয়ে কেঁপে উঠলেন! মনে হলো, এমনকিছু ঘটতে পারে পূর্বেই অাঁচ করতে পারছিলেন!
— জ্বী সাদিয়া, অাপনার বাসা থেকে ফিরে এসেই.. অামার সব থেকে সাহসী ও দক্ষ এজেন্ট নিখোঁজ! ভাবা যায় এটা?
শায়লা বেগমের বলার বোধ শক্তি হারিয়ে গেল, চোয়াল ঝুলে যাওয়ার পরিস্থিতি! কোন রকমে থতমত খেয়ে বললঃ
—- এটা কি করে সম্ভব??
— সেটাতো অাপনি বলবেন? কি এমন ঘটেছিলো গত রাতে, যাঁর দরুন এ ঘটনা?? (সর্প শীতল কন্ঠে বলল)
—- সত্যিই বড্ড চিন্তার বেপার, কিন্তু এমন কিছু যে ঘটবে ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি??
— Ok. no problem, ওসব অামি সব বুঝে নিব, এখন অাপনি শুধু বলুন গত রাতে কি ঘটেছিল??
—– (একটু ইতস্তত ও লজ্জিত ভাবে) এর অাগে এমনটি কখনো হয়নি , যেটা গত রাতে হয়েছিলো? সাদিয়া অামাকে বলেছিলো, “অামি যেন জেসিয়াকে গল্পের মাধ্যমে অাটকিয়ে রাখি, পরবর্তী দিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত”! তো জেসিয়া মেসেজ দিচ্ছে, গল্প চলছে! গল্প চলছে মেসেজ দিচ্ছে, তারপর কিছুই মনে নেই।
যখন ঘুম ভাঙে, তখন সময় ৬ টা! চোখ মেলে দেখি জেসিয়া অামাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে অাছে, অার অামার শরীর শুধু চাদর দিয়ে ঢাকা! অামি অন্য কিছু খেয়াল না করেই জেসিয়াকে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয়….(এটুকু বলেই শায়লা বেগম absent mind এ চুপ হয়ে যান, যেন কোথাও হারিয়ে গেলেন)
— (অতি অাগ্রহের সহিত তাড়া দিয়ে) তাহলে কি জেসিয়ায় এসব করতো??
—- (ধম নিয়ে অাবার শুরু করলেন) কিন্তু অাশ্চার্য্য অামার চড় খেয়েও, জেসিয়া দিব্যি ঘুমাচ্ছিলো। অামি ওকে অাবার ধাক্কা দেয়, ওঔ জাস্ট সাইড চেঞ্জ করে ঘুমাতেই থাকে। অামি সংবিৎ ফিরে খেয়াল করলাম অাজ ধর্ষণের শিকার হয়নি, কাল যে অবস্থায় মেসেজ নিচ্ছিলাম সেই অবস্থাতেই অাছি।
— তাহলে……??
—– অামারো এমন প্রশ্ন মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছিলো, পরে ভাবলাম মেয়েটির হয়তো ঘুম বেশি তাই কাল রাতে এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো! 
যাহোক washroom যাবার জন্য বিছানা ছেড়ে নীচে নামছি অার electric shocked……
— ইলেকট্রিক শকড..??
—– হুমম ইলেক্টিক শকটেও এতটা বিধ্বস্ত হতাম না, যতটা হয়েছিলাম ফ্লোরের উপরে মেয়েদের personal short dress(অন্তর্বাস) দেখে, যে গুলো অামার ছিলো না! এমনকি ঐটার আশেপাশে সীমেন(semen) পড়ে ছিল! (বলেই লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন)
— (একটু তোতলানো কন্ঠে) কি, কি বলছেন এসব? কি ঘটেছিলো তবে??
—- অামি জানি না! তবে এটা বুঝতে পারছিলাম, কেউ একজন অামার বেডরুমের ফ্লোরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে!
— কি অাশ্চার্য্য?! জেসিয়া নয়তো??
—- অামিও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম, কিন্তু ঘুমের মধ্যেই ওর বডি চেক করে নিরাশ হয়! কারণ ওর মধ্যে কোন চিহ্ন ছিলো না!
— তবে সাদিয়া! সাদিয়া নয়তো??
—- এটা জানা/দেখার জন্য ওর বেডরুমে চলে যায় কিন্তু অাশ্চার্য্যের বেপার ছিলো “রুমশূণ্য”!! অামি হাঁকডাক দেয় কোন সাড়া নাই, পরে বাহির হয়ে লক্ষ্য করি মেইন দরজা খোলা!
— মেইন দরজা খোলা??
—- হুমম! বাড়ির বাহিরে, অাশেপাশে সব জায়গাতেই খোঁজ নিলাম কিন্তু রেজাল্ট শূণ্য! পরে গেজ করলাম হয়তো অফিসিয়াল কাজে বের হয়েছে, তাই চুপ হয়ে নিজেদের মত কাজ করতে থাকি!
— যতই সময় যাচ্ছে, কেইসটা ততই জটিল হয়ে যাচ্ছে!
তারপর হালকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা বলে, শুভন সাহেব বিদায় নেন! শায়লা বেগমের স্তম্ভিত হয়ে বসেই রইলো! ভেবেই পাচ্ছেন না কি হচ্ছে অার কি ঘটতে চলছে??
সাদিয়ার নিখোঁজ হওয়াটা ও অন্তর্বাস-সীমেন (semen) কেইস বারবার শুভনের মাথাতে ঘোরে বেড়াচ্ছে! তবে কি ওর সাথেই খারাপ কিছু ঘটেছে?? না সেটা কি করে হয়??
তাছাড়া সাদিয়ার লাগানো ডিভাইস(cc cam) Active অাছে কিনা চেক দেয়া দরকার, হয়তো ওখান থেকে কিছু একটা তথ্য পাওয়া যেতে পারে?? কিন্তু মেয়েটির দেখা না পেলে কি করে সম্ভব? কেননা অনেক চেষ্টা করেও ডিভাইস এর কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে না!
উপায়ন্তর না পেয়ে, শুভন অারো দুজন এজেন্ট নিয়োগ দিলো শায়লা বেগমের বাসার দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য! ওরা বাসার বাহির থেকে observe করবে, সারাদিন কে কে বাসার ভিতরে যায় অার কতক্ষণ অপেক্ষা করে বের হয়? অার বিশেষ করে রাতের বেলা, কেউ ভিতরে যাচ্ছে কিনা??
রাত ১১ টা, শায়লা বেগম বেডরুমে একা বসে হাজার রকম ভাবছেন! জেসিয়া oil নিয়ে অাসছিলো, কিন্তু উনি অাজ নিস্প্রভ তাই মেয়েটি কথা না বড়িয়ে চলে যায়।
তারপর কখন ঘুমিয়ে গেছেন মনে নেই, যখন ঘুম ভাঙে ঘড়িতে সময় সকাল ৫.৩০। উঠেই নিজের বডি চেক করেন দ্রুত, না অাজ ধর্ষণের শিকার হননি। খুশি হবেন নাকি ম্লান হবেন বুঝতে পারলেন না, তবে একটু বিচলিত মনে হলো।
দুপুর ২ টা, শুভনের অফিসে বসে কথা বলছেন শায়লা বেগম। গতরাতের ব্যাতিক্রম ঘটনা এবং এভাবে হুটহাট ঘুমিয়ে পড়া সহ নানান বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে!!
— ম্যাডাম, অাপনাদের ঘুম কি হুট করেই বেড়ে গেছে নাকি অাগেও এমন করে ঘুমাতেন??
—- কেন বলুনতো??
— অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, হয়তো অাপনার বাসার খাবার সামগ্রী যেমন পানি, শরবত, চা, কফি এমন সব অাইটেমে ঘুমের ঔষধ মিক্সড করা হচ্ছে!!
—- অাপনি এভাবে বলবেন না please. কারণ অাপনার এমন কথা শুনে অামারই গলা শুকিয়ে অাসতেছে!
— হুম বুঝতে পারছি, কিন্তু ম্যাডাম পরিস্থিতিটাতো বুঝতে হবে অাপনাকে! এই মুহূর্তে অাপনাকেই শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর কোন প্রভাব না পড়ে!!
—- ঠিক অাছে!!
তারপর শুভন হুট করেই এমন একটা কথা বলল, শায়লা বেগমের হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম.. যেন কানের ভিতরে বোমা ব্রাস্ট হলো…
— ম্যাডাম, অাপনার মেয়েদের কি কখনো জিজ্ঞেস করছেন অথবা খোঁজ নিয়েছেন “ওরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিনা??
.
#কালো_ছায়া” 
#পর্ব-৪

— ম্যাডাম, অাপনার মেয়েদের কি কখনো জিজ্ঞেস Or খোঁজ নিয়েছেন “ওরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিনা??
কথাটা শায়লা বেগমের কানে নয় বরং brain এর মধ্য হিট করলো! কিছু সময়ের জন্য abnormal হয়ে গেলেন! মনে হচ্ছিল মাথা ঘোরে পড়ে যাবেন! কোন রকমে তাল সামলিয়ে নিজে নিজেই যেন বললেনঃ
—- ইয়া অাল্লাহ্… অাপনি রক্ষা করুন!
— (সাথে শুভন যোগ করলো) #অামিন।।
—- শুভন সাহেব, অাপনার কথায় যুক্তি, Plus possibility অাছে! কিন্তু অাগে কেন যে এটা অামার মাথায় অাসলো না??
— ম্যাডাম, এখনো সময় শেষ হয়নি, So next time কোন accident ঘটার অাগেই সর্বসাকুল্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
—- হুমম, exactly… but অামিতো ভেবেই পাচ্ছি না, কে বা কাহারা, কেন এমনটি করছে??
— তবে অামি কিছুটা অাঁচ করতে পারছি! অাশা করছি অচিরেই case টা solution হয়ে যাবে!
—- Oh really! কি অাঁচ করতে পারলেন? একটু Share করুন Please…
— এখনই নই ম্যাম, অার একটু advance হয়, then পুরোটাই অাপনাকে বলব।।
—- Ok, bt একটু fast করুন please..
— সেটা নির্ভর করছে, অাপনার সহায়তার উপর??
—– (অবাক হয়ে) অামার সহায়তার উপর?
— হুমম, অাপনার সহায়তা ছাড়া শয়তানটাকে ধরা সম্ভব নয়!
—– শয়তান! তবে কি ভূত প্রেতাত্মা বা জ্বীন জাতীয় কিছু?
— (মিষ্টি করে হেসে) না ম্যাডাম, সেরকম কিছু নয়! এটা মানুষরূপী হিংস্র শয়তানের কাজই! তাছাড়া এখন “শয়তান অার শয়তানি করে না, মানুষের শয়তানি দেখেই অবাক হয়ে অট্টহাসি হাসে অার নৃত্য করে!”
—- তা- যা বলেছেন, মন্দ বলেন নি! নয়তো এমন ঘটনা কেমন করে হয়? অাজ সারা বিশ্ব, হিংস্র জানোয়ার ও হায়েনার দখলে! যেদিকেই চোখ যায় শুধুই শয়তানের খেলা, সেটা দেশের ভিতরে বা বাহিরে…(দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন)
— একদম তাই! সে যাহোক এখন অাপনার ও অাপনার বাবার এবং অানোয়ার সাহেব ও ওনার বাবার ইতিহাসটা একটু বলুন! please অপারগতা দেখাবেন না, যতটুকু জানুন ততটুকুই বিস্তারিত বলার চেষ্টা করুন।
—- Ok..
তারপর, একে একে সবটা শেষ করলেন মিসেস শায়লা বেগম। তবে দু’একটা হালকা ব্যাতিক্রম ছাড়া, বাকি সবই স্বাভাবিক! তো কোনভাবেই মনে হচ্ছে না, এ ঘটনার পিছনে কোন ইতিহাস অাছে… যা থেকে ধারণা করা যায় শায়লা বেগমের পরিবার effected? তবে কি শূণ্য থেকে শুরু করতে হবে? প্রথমে যা ভেবেছিলো সেটাই ঠিক??
শুভনের ৫/৬ বছরের গোয়েন্দা জীবনে অনেক কেইস দেখেছে, অনেক গভীর অব্দি ভেবেও কোন কুল কিনারা পাইনি অথচ যেটা অামলে নেইনি সেটা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে। একদম নরমাল বিষয় থেকে কেইস সমাধান হয়ে গেছে। এখানেও কি তেমনই কিছু ঘটেছে! সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে “এটা কি করে সম্ভব অথচ কাম বানিয়ে বসে অাছে”!!
শায়লা বেগমের সাথে অারো কিছু বিষয়ে আলোকপাত চলে। অফিস ও অফিসের স্টাফদের নিয়ে অার বিশেষ করে বাসার কাজের মেয়ের বেপারটা! যেহেতু ঘুমের মধ্যে সব কিছু ঘটছে, সেহেতু খাবারের মধ্যে কোন poison or ঘুমের মেডিসিন মিক্সড করা হয় কিনা??
তবে কাজের মেয়ের কি লাভ?? কেননা লাভ ছাড়াতো কেউ ই এমন Risk able কাজ করতে ইচ্ছুক হবে না। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেলো বুলবুলি কিশোরগঞ্জের মেয়ে অার অফিসের ম্যানেজার রকিব সাহেবই ওকে ম্যানেজ করে দিয়েছেন।
তবে কি এসব কিছুর পিছনে, ম্যানেজার সাহেবের ইশারা অাছে? না হবার কোন কারণও নেই, কেননা শায়লা বেগমের অঢেল ধন সম্পদের প্রতি লোভ জাগাটাই স্বাভাবিক। তাছাড়াও এমন মিষ্টি ও দুর্দান্ত ফিগারের অধিকারী বসের প্রেমে পড়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। যদিও কয়েকদিনের ধকলে কিছুটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে তবুও চেহেরার অাকর্ষণের কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েনি।।
হুট করেই ইন্টারকম টেলিফোনের শব্দে দুজনেই একসাথে চমকে উঠে! গভীর মনোযোগী অালোচনাতে ব্যাঘাত পড়াতে একটা অপ্রস্তুত অবস্থা তৈরী হয়, একে অপরের মুখের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে! শুভন রিসিভার কানে ঠেকালে, অপর প্রান্ত থেকে office receptionist নির্ঝরা বলেনঃ
— স্লামালাইকুম স্যার।
— ওয়ালাইকুম, নির্ঝরা বলো??
— স্যার, একটা চিঠি অাসছে অাপনার নামে। উপরে লিখা “emergency”..
— Ok.. পাঠিয়ে দাও।
টেলিফোন রেখে দিয়ে, শুভন অতি বিনয়ের সহিত মুচকি হাসি দিয়ে বললঃ
— Sorry ma’am..
—- It’s ok.. তাহলে অামি উঠি। kindly অাপনি case টা দ্রুত সমাধান করুন অার অামাকে বাঁচান।
— obviously ma’am, Why not?? 
তবে অাজ বাসায় ফোন করে বলে দেন, বাসায় কোন রান্না না করতে। কারণ বাসার সবাই “রাতের খাবার” বাহিরে খাবেন এমনকি অাপনি ও মেয়েরা intact বোতলের পানিও পান করবেন। ভুলেও বাসার কিচ্ছু খাবেন না।
—- কেন, সেটা কেন??
— কারণ অার কোন Risk/Time নিতে চাচ্ছি না। কালপিট টাকে দ্রুত অাটক করতে চাচ্ছি। অার অাশা করছি অাজ রাতেই একটা result পাব।
—- Ok..তাই যেন হয়। অার অামি অামার দিকের সব ব্যবস্থা করতেছি।
শায়লা বেগম বিদায় নিলেন, অার শুভন চিন্তার সাগরে ডুব দিলেন। কিন্তু না, সেটা অার হলো না কারণ নির্ঝরা চিঠি নিয়ে হাজির। মেয়েটি যেমনি দেখতে, তেমনই ব্যবহারেও! কখন কি বলতে হয়, একদম ঠোঁটের অাগায় সেটা এসে থাকে! পরিস্থিতির উপর যেন কোর্স করা, যেমন এখন মিষ্টি হাসি হেসে চিঠিটা দিয়ে বললঃ
— স্যার, দেখেতো মনে হচ্ছে “ভাবির warning Letter এটা”!!
—- “ভাবির warning letter” মানে??
— মানে একদম সহজ। এভাবে সকাল সন্ধ্যা অফিসে পড়ে থাকলে, বাসায় থেকে এমন করেই warning অাসে স্যার… হা হা হা….
—- হুম, তোমার পাঁকনা মাথার জিনিয়াস বুদ্ধি। কিন্তু তোমার এমন experience হলো কেমনে? তুমিতো Bachelor??
— Sir, bachelor bt single নই!
—- ওরে বাব্বা! এবার তুমি যাও, কারণ বাকিটা অামার বুঝা হয়ে গেছে অার বেশিক্ষণ থাকলে হয়তো অাজ বিকালের ডেটিং এর ছুটিটা মঞ্জুর করতে হবে!!
— স্যার, অাপনি সত্যিই লিজেন্ড! কি করে বুঝে যান, না বলা কথা??
—- তুমিও কাজে ফাঁকি না দিয়ে regular attending কাজ করো, দেখবে দিব্যি Magician হয়ে গেছ।
— কিন্তু অাজকের দিনটা একটু ফাঁকি দেই স্যার! কাল থেকে অাপনার কথায় যথাজ্ঞা…
—– No…
— Please sir.. ple
—- Ok bt only 2 hrs.
— স্যার, অাপনি না…….
—- হুম বলো বলো থামলে কেন?? অামি একটা heartless জল্লাদ, বাংলা সিনেমার টাকাওয়ালা ভিলেন নয়তো চির কুমার কচি খন্দকার…..
— (নির্ঝরা হাসেত হাসতে দরজা ক্রস করার সময়) tnQ sir. কাল দেখা হচ্ছে।
—- এই কাল দেখা হচ্ছে মানে, অফিস টাইম এখনো ৬/৭ ঘন্টা বাকি…
মনে হয় না, অামার কথা ওর কান অব্দি পৌঁছেছে অার নয়তো শুনেও না শুনার ভান করে চলে গেলো, প্রেম জিনিসটা বড়ই বেহায়া…!! এখন হাসিখুশি ও সুখ ফিল করছে অাবার একদিন দেখতে পাব, shocked খেয়ে…………..
যাহোক খাম খুলে ভেতর থেকে একটা কম্পিউটার টাইপিং চিঠি পাওয়া গেলো। অার চিঠির নীচে নামটা দেখে শুভনের স্বস্তির নিশ্বাসের শব্দ পাওয়া গেলো। প্রথম থেকে পড়তে শুরু করলোঃ
স্যার, প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অার অামি জব বা অাপনাদের থেকে পালিয়ে অাসিনি, বরং নিজের নিকট থেকেই নিজেকে লুকিয়ে রাখছি। কিন্তু এটা ব্যাখা করার সময় এখন নই, তাই একটা জরুরী মেসেজ দিচ্ছি। শায়লা বেগমের case টা শুধুই normal case নই, এটা একটা ”প, ভ”…… কেইস । #সাদিয়া
চিঠিটা পড়ার পর, ২২ হাজার চিন্তাভাবনা এক সাথে ভীড় করলো ব্রেণের ভেতরে। প্রথমে মনে হলো এটা fake (উড়োচিঠি) কেননা এটা ছিলো কম্পিউটার টাইপিং অানাড়ী চিঠি, যা গোয়েন্দা দপ্তরের বহির্ভূত লোকের কাজ। সাধারণ একটা কোড ব্যবহার করা হয়ছে, হয়তো case টা divert করে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার একটা কৌশল।।
পরক্ষণেই অাবার ভাবলো, এমনো হতে পারে সাদিয়া নিজেকে অাড়ালে রাখার জন্য বা কেউ এই চিঠি সন্দেহ করুক সেটা চাইনি। তাই অাম পাবলিকের মত করে চিঠি পাঠাইছে। তবুও কিছু কিন্তু থেকেই যায়।।
তবে চিঠির উপর ভিত্তি করে case advance করলে result কি হবে? প, ভ……?? প,ভ দিয়ে অনেক কিছুই অাসে! না অার ভাবতে পারছে না। অাপাতত এটুকুই থাক, বাকিটা নির্ভর করবে অাজ রাতের ঘটনার উপর ভিত্তি করে…
পরেরদিন সকাল ৭ টা, শুভন বাসার ভেতর বসে বই পড়তে ছিলো এমন সময় নির্ঝরা “emergency message” করলো! মেসেজ টা seen করে, শুভনের Heart bit কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো!!
কারণ মেসেজটা……
“চলবে”
#কালো_ছায়া” 
.
#পর্ব-৫/#শেষ_পর্ব
.
“স্যার” শায়লা বেগমের বড় মেয়ে অানিকা, গত রাতে সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস অাটকিয়ে সুইসাইড করেছে”
মেসেজটি seen করে, শুভনের হার্টবিট কয়েক সেকেন্ডের জন্য অচল হয়ে গেলো! অাবার দ্বিতীয় মেসেজ টিউন বেজে উঠলো, যেন ওর হার্ট সচল করার জন্য… কিন্তু না, এটা অারো ভয়ঙ্কর ছিলো! যেন হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাবে!
পরের মসেজটি হলোঃ
“স্যার, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গেছে অানিকা তিন-মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো”
এটা ভাবা যায়? কি করে, কি হয়ে গেলো? ভাবলাম কি অার হলো কি? শুভনের কান্না চলে অাসলো, হয়তো case solution করতে না পারার ক্রোধে নয়তো শায়লা বেগমের পরিবারকে ভালোবেসে। যেহেতু ঐ পরিবারের হয়ে field intelligence এ কাজ করছে so কিছুটা দ্বায় শুভনেরও!!
ঘটনার একদিন পর, Final investigation শেষে লাশ রিসিভ করে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। শায়লা বেগমের পরিবারের উপর দিয়ে বিশাল বড় ঝড় বয়ে যাচ্ছে! মানসিক যন্ত্রণা, প্রেশার ও কান্নার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে প্রতিটা সেকেন্ড!
ফুলের মত নিষ্পাপ মেয়েটা, কত হাসিখুশি থাকতো! কি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে সব কিছু তছনছ হয়ে গেলো। বাবা অানোয়ার সাহেব মারা যাবার পর থেকে, মায়ের কাছেই দু’মেয়ে বড় হয়েছে। সব অভাবই দূর করে রেখেছেন, হয়তো শুধু বাবার অাদর ভালোবাসা দিতে অক্ষম ছিলেন কিন্তু ওদের কাছেতো শায়লা বেগমই বাব-মা!!
সপ্তাহখানে পরের ঘটনা, অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে জীবন যাপন এবং শান্ত হয়ে অাসছে পরিবেশ। শায়লা বেগম নিয়মিত অফিস করছেন, বাসা সামলাচ্ছেন। অার এখন রাতে একা ঘুমা না, সঙ্গী ছোট মেয়ে অনন্যা.. “বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন”।।
দ্বিতীয় কোন accident হলে, শায়লা বেগম যে মরে যাবেন এটা নিশ্চিত। স্বামীর মৃত্যুর পর, শুধু সন্তানের কথা ভেবেই ২য় বিয়ে করেন নি। কত-শত ছেলেরা বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে এসেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই! শায়লা বেগমের একটাই জবাব, “স্বামী চলে গেছেন একা অথচ রেখে গেছেন দু’জনকে”!!
অানিকার মৃত্যুর একমাস অতিবাহিত হলো, না অার কোন অঘটন ঘটেনি। মেয়েটার মৃত্যুর সাথে সাথে সব কিছুই কেমন যেন স্বাভাবিক হয়ে গেলো। এখন অার পূর্বের মতো অস্বাভাবিক ঘুম নেই, শরীরের ক্লান্তি নেই, সব কিছুই কেমন অদ্ভুত ভাবে পরিবর্তন হয়ে গেলো।
শুভনের কানেও কথাটা পৌঁছালো, কিন্তু কোনও সুরাহা বের করতে পারলেন না। এই পরিবর্তনের পেছনে কি থাকতে পারে? অানিকার life history study করে কোনও সন্দেহজনক কিছু find out করা সম্ভব হয়নি।
অানিকা যেমন রূপবতী ছিল, তেমনই গুণবতী! ভার্সিটি লাইফ থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধবী সবার কাছে reputation up ছিলো। কোন বাজে বন্ধু, বাজে নেশা, এমনকি কোন boy friend ছিলো না!
তবে কি করে অন্তঃসত্ত্বা হলো? শায়লা বেগম যেভাবে শিকার হয়েছেন, ঠিক সেভাবেই কি অানিকাও অাক্রান্ত? পুলিশ ও হসপিটালের Final investigation এর সমস্ত report পড়ে দেখেছে, অানিকা গত ৩/৪ মাস ধরে রেগুলার ধর্ষণ হয়ে অাসছিলো! শুধু লাস্ট ১ মাস কোন ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি!
এটা অারো বেশি shocked করেছিলো শুভনের টীমকে। কারণ এর মানে দাঁড়ায়, অানিকা Pregnancy হবার পরেও ২ মাস ধর্ষণ কার্য চলে, তারপর এটা dibert হয়ে শায়লা বেগমের উপর চলে যায়! হয়তো তখন অানিকা physical fit ছিলো না, নয়তো ইচ্ছে করেই সেক্স করতে চাইনি ঐ মুহূর্তে!!
তারমানে এখানে ২ টা অপশন অাছে,, এসমস্ত কিছুর পেছনে অানিকাই দায়ী নয়তো _________?________!! প্রথম চান্সটা সত্যি হলে অারো deeply think করতে হবে অার যদি chance miss হয়, তবে তীরটা কার উপর যাবে? বাসার ভেতরের কেউ নাকি বাহিরের কেউ??
বাহিরের কেউ হবার চান্স খুব কম, ভেতরের হবে এটা ৯৯% সঠিক! তবে কে সে?? জেসিয়া, no chance! শ্বশুড়, no chance! বুলবুলি, half chance! হয়তো ম্যানেজারের সাথে link অাছে so এটাকে possibility তে রাখলাম।
next শায়লা বেগম নিজেও master planner হতে পারে? কারণ এসব অনেক দেখা, নিজের অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এমন জঘন্যতম নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না! so এটাও possibility এর ভেতর রাখা যায়!
তাছাড়া #সাদিয়ার দেয়া মেসেজটাও মনে পড়ে গেলো, “প, ভ কেইস” মানে… প্রেতাত্মা বা ভূত হুম সেটাই তবে এটা #প্রেম_ভালোবাসার___প্রেত_ভূত!! এটা ভেবেই শুভন এক চিলতে হাসি দিয়ে নিজেকেই নিজে বললঃ শুভন সাবাশ!
তারপর যেন বাতাসকে বলে দিলোঃ শায়লা বেগম তোমার দিন শেষ, এবার শুভন অাসছে তোমাকে caught করতে!!
দ্রুত investigation চালাচ্ছেন শুভন সাহেব। অধিক এজেন্ট নিয়োগ দিলেন। চতুর্দিকে মাকড়সার জালের মত ফাঁদ পেতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে দিলো,, কিন্তি দিনশেষে যেন বৃত্তের মধ্যে ঘোরপাক খাচ্ছেন!
হুট করেই শুভন জানতে পারলেন, শায়লা বেগমের বাসাতে কি একটা ঝামেলা চলছে! কুইক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ওদিক থেকে শায়লা বেগম কোন সদুত্তর দিলেন না। তখন সন্দেহের তীরটা অারো অধিক গতিতে ওনার দিকে ঠেলে নিয়ে গেলো।।
তবে গোয়েন্দা চোখ বা তৃতীয় সূত্রে জানা গেলো, অনন্যা ওর অাম্মুর সাথে রাতে ঘুমানো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়! অার এটা নিয়েই মা মেয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে, অনন্য রেগে গিয়ে বলেঃ
— অাম্মু, অামি তোমার সাথে রাতে ঘুমাবো ন!
—- (অবাক হয়ে) কেন অাম্মু?
— কারণ অামি বড় হয়ে গেছি, তোমার সাথে ঘুমাতে লজ্জা করে।
—- মেয়ের কথা শুনছ? মায়ের কাছে অাবার বড় কি??
— না অাম্মু! সেটা নয়, অামারো কিছু privacy থাকতে পারে! তাছাড়া অামার সব বন্ধুরাই অালাদা ঘুমায়!
—- তোরাও’তো এতদিন… 
এটুকু বলেই, শায়লা বেগম কান্না করে দিলেন….
অনন্যা অার কথা বাড়ায়নি, হয়তো মায়ের চোখের পানি, নয়তো বোনের স্মরণে, অাবার এমনও হতে পারে.. নিজের সেফটির জন্যেই চুপ হয়ে, অাজকের রাতে অাম্মুর সাথে ঘুমায়!!
তারপর হয়তো নতুন কিছু ঘটলে অাবার জানা যাবে, এখানেও কিছু লুকিয়ে অাছে কিনা?? যেদিকে চোখ যায় শুধু সন্দেহ অার সন্দেহ………
শুভ অারো ভাবছে, পুলিশও চেষ্টা করেছিলো case টা solution করতে! পরে ব্যর্থ হয়ে অন্য অাট/দশটা কেইসের মতো ফাইলের নীচে চাপা পড়ে যায়। যেমন চাপা পড়েছে বিগত সময়ের কেইস গুলি, তারমধ্য উল্লেখযোগ্য….
হুট করেই শুভনের মাথাতে “ঐশি হত্যা মামলা” বিষয়ে সবুজ বাতি জ্বলে উঠে! বাস Automatically সব clear হয়ে গেলো, এক সেকেন্ডের ভেতরে শায়লা বেগমের case theme ready হয়ে গেলো!
অনন্যা একটু খাটো ও মুটকি, চেহেরাও বেঢপ। হয়তো বাবার ধাঁচ ওর চেহেরাতে, নয়তো অন্য কারো হবে কিন্তু to the point হলো.. এটাই ওর depression. রাতে নিশ্চয়ই ঘুম কম হয়, তাইতো সব সময়ই চোখ লাল দেখায়।
অার সে সূত্রে এগোলে, অনন্যার মেজাজটাও খিটমিটে হবে অার বন্ধুর সংখ্যা নেই বললেই চলে! যেমন পদ্মফুলে গোবর, যদিও কথাটা নিজের কানেও শুনতে খারাপ লাগলো!
পক্ষান্তরে অানিকা যথেষ্ট সুন্দরী ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলো, ওর body ও face structure শায়লা বেগমের ধাঁচে অার বন্ধুদের মহলে ওর ব্যাপক ডিমান্ড ও কদর ছিলো। তাই সব সময়ই হৈ হুল্লোড় ও অাড্ডাতে মেতে থাকতো….
শুভনের চোখ খুশিতে চিক করে উঠলো, অার নিজেও খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললঃ #ইউরেকা…….
.
.
#কালো_ছায়া” 
#শেষ_পর্ব
.
.
শুভনের চোখ খুশিতে চিক করে উঠলো, অার নিজেও খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললঃ #ইউরেকা…….
পরেরদিন সকাল ১০ টা, শুভনের intelligence office…. শায়লা বেগম অপরাধীর ভঙ্গিতে মাথা নীচু করে বসে অাছেন। এত কিছু ঘটে যাওয়ার পেছনে ওনি নিজেই দ্বায়ী ভাবতেই শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে অাসতেছে। এই সামান্য ভুলের জন্য, এত বড় ক্ষতি হয়ে যাবে কখনো ভাবতেই পারেন নি! অতি কষ্টে নিজেকে সামলে শুধু বললেনঃ
—– শুভন সাহেব, অামি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না! সত্যিই কি অামার ভুল ছিলো??
— অবশ্যই ম্যাম, যখন অামি অাপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “অাপনার পরিবারের ইতিহাস বলুন”? অাপনি সবই বললেন শুধু এই “to the poin” কথাটা এড়িয়ে গেলেন! অার এটাই কাল হয়ে দাঁড়ালো!!
—- এখনতো সেটাইতো দেখতে পাচ্ছি! তবে অামি ভেবেছিলাম অনন্যা সম্পূর্ণ বদলে গেছে কারণ মেইন দরজা বন্ধ করে, চাবি অামার নিকট রাখার পর থেকে অনন্যা অার কোন ঝামেলা পাকাইনি।
— তবে হুট করেই এমন অস্বাভাবিক জীবন থেকে ঝট করে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়াটা কিন্তু সন্দেহজনক??
—- অামিতো বুঝতে পারিনি, অার সেজন্যেই নিজেকে দ্বায়ী মনে হচ্ছে!
— প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে দ্বায়ী! কারণ যখন অাপনি জানতে পারলেন, অনন্যা রাতের বেলা বাসা থেকে চুপিচুপি বের হয়ে বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দেওয়া, ড্রাগস্ নেওয়া এবং শেষরাতে বা কখনো কখনো ভোরে বসায় ব্যাক করে, তখনই একটা strong treatment & regular checking দেয়া উচিৎ ছিলো!!
—- কিন্তু অামিতো এটা টের পাইছি অারো ৫/৬ মাস অাগে, তারপর ওকে প্রচুর গাইড করেছিলাম, এবং ও স্বীকার করে next time এটা করবে না! তাছাড়া তখন থেকেই main door lock করে চাবিটা অামার কাছে রেখে ঘুমাতাম!
— সাথে এটাও নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন, মেইন ডুর লক মানেই ভিতর থেকে কেউ বাহিরে যেতে পারছে না? So all safe??
—- হুমম ঠিক তাই!
— কিন্তু এটাতো একবার ভাবা উচিৎ ছিলো, যে মেয়েটি regular drugs নিচ্ছে… সে এত সহজে এ লাইন ছাড়তে পারবে না! বিশেষ করে, ও ছাড়লেও নেশা ওকে ছাড়বে না! So যে করেই হোক drugs manage করে শরীরে নিবেই!
—- অামিতো ভাবতেই পারছি না? একই ছাদের নীচে বাস করে টের পেলাম না!
— ওদের planing টাই ছিলো ঘুমের ঔষধের, so টের পাওয়াটা so trapped ছিলো!
—- কিন্তু অাপনি কিভাবে recovery করলেন??
— এটাই intelligence magic ma’am….
—– একটু ব্যাখ্যা করুন pls…
— অামি পূর্বেই কিছুটা অাঁচ করেছিলাম, সেটা গতকাল পূর্ণতা পেলো! অাপনার বাসার ভিতরের প্রতিটা সদস্যকে নিয়ে deeply think করি, তারপর একমাত্র depression & deferent person find out করি অনন্যাকে।
কারণ গত ৫/৬ মাস থেকে ওর চাল চলন একটু ভিন্ন প্রকৃতির, class absent টি প্রচুর, weekly test, monthly test poor condition… বাহিরে খুব কম থাকে, কিন্তু বাসায় উপস্থিতি হরদম।
Then ওর ফোন কল ট্র্যাক করে সব তথ্য বের হয়ে অাসে! অনন্যার সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িতে ছিলো, ওরই classmate রাহুল ও বিদ্যুৎ।
ওদের দু’জনকে অাটক করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে অাসে। অাপনি অনন্যাকে ঠিকই বাসার ভেতর অাটকে রাখতে সামর্থ্য হোন, কিন্তু ওর দুই সহচরী ওকে এমন master plan দেয়, so strange.. ওদের statement শুনে অামার মাথা just hang..
অনন্যাকে ঘুমের medicine supply দিয়েছে ওর দুই সহচরী! অনন্যা কৌশলে খাবারের মধ্যে, পানির জগ, পানির বোতল, কোল্ড ড্রিংক্সে medicine মিশাতো……
—- (শুভনের কথা কেড়ে নিয়ে, শায়লা বেগম) তাইতো মেয়েটা ডিনারে regular bread/রুটি খেয়েছে, অার সেটাও শুধু ডিম্পোচ, জেলি অার বাটার দিয়ে…!!
— হুমম ম্যাম! তারপর যখন সবাই বিভোর ঘুমের মধ্যে, ঠিক তখন অনন্যা অাপনার রুম থেকে চাবি collect করে এবং দরজা খুলে বাসার ভিতর storeroom এ নেশার বার বসায়তো। অাপনারা কখনো ইহা খুলেন না, অার তারই অসৎ-ব্যবহার হয়েছে!!
প্রথম কয়েকদিন শুধু নেশাতে সীমাবদ্ধ ছিলো পরে তা সেক্সে রুপান্তরিত হয়। দুইটি ছেলের সাথে একটি মেয়ে so বুঝতেই পারছেন? regular sex চলতো ওদের মধ্যে তাই অনন্যা birth control injection গ্রহণ করে।
কিছুদিন পরে friend সংখ্যা বেড়ে ৩ জন হয়, তখনই sex divert হয়ে অানিকাকে touched করে। ওর দরজাও খোলা থাকতো, সাথে ঘুমের রাজ্যে ডুবে… যা rapist দের জন্যে plus poit ছিলো।
২ মাস পরে, অানিকা হয়তো বুঝতে পারে ওর ভিতর পরিবর্তন হচ্ছে, কারণ তখন ও অন্তঃসত্ত্বা! অথবা কোনও কারণে গত ১ মাস ওঔ দরজা বন্ধ রাখে, অার জেসিয়াও দরজা লক করে ঘুমায়! অার ঠিক তখনই ওরা উপায়ান্ত না পেয়ে, নেশার ঘোরে বিবেক বুদ্ধি খোয়ে অাপনার সাথে……. (শুভন দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে)
শায়লা বেগম, লজ্জা, ঘৃণা ও নিজের ভুলের অনুতাপে অনেক সময় থেকেই কান্না করে যাচ্ছেন, শুভনের কিইবা করার অাছে এই মুহূর্তে?? তবুও বললঃ
— ম্যাডাম ঠিক অাছেন??
শায়লা বেগম অারো ফুঁপিয়ে উঠলেন! কান্নাটা করতে দিলো শুভন, হয়তো বুকের কষ্টটা দূর হবে নয়তো পাতলা হবে??
অনেক্ষণ চুপচাপ, পুরো অফিসটাতে একদম নিরবতা! পিন পতনের শব্দও ভুমিকম্পর মতো শোনাবে! তারপর শায়লা বেগম বললেনঃ
—– অামার বড় মেয়েটা সুইসাইড করলো কেন??
— ম্যাডাম, ও বেঁচে থাকলে হয়তো coreect answer পেতাম, bt…….!! 
তবুও অামি যতটুকু guess করছি, অাপনি ওদের অভিভাবক ছিলেন ঠিকই কিন্তু বন্ধু নয়! ওদের চাহিদাগুলো পূরণ করছেন ঠিকই কিন্তু ভালোবাসা, মায়া- মমতা, স্নেহের অভাব দূর করতে পারেন নি! সারাদিন অফিস, বিজনেস, অার টাকার পেছনে ছুটে, যখন রাতে বাসায় ফিরতেন তখন অাপনি চরম tired.. হয়তো ডিনার করে ঘুমিয়ে গেছেন! অার অাপনার মেয়েদেরকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করেছেন!
তাই হয়তো অনন্যা নেশাতে জড়িয়ে যায়, অার অানিকা good girl থাকলেও… পরিবারের সদস্যদের মাঝে এই গ্যাপটির জন্য, ওর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি অাপনাকে বা পরিবারের অন্য কাউকে share করতে পারেনি, যার দরুন অতি depression থেকে suicide করতে বাধ্য হয়!! (শুভনের অাবারো দীর্ঘশ্বাস)
—- কিন্তু অামারতো, ওদের প্রতি যথেষ্ট অাত্মা বিশ্বাস ছিলো, কি করে পারলো এমনটি করতে?? ওদের জন্যেই এত কষ্ট করে টাকার পাহাড় গড়লাম! নিজের সুখের দিকে বিন্দুমাত্র তাকালাম না, অথচ….
— ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া- মমতার কাছে টাকা তুচ্ছ, অাজতো প্রমাণ পেলেন??
—- হাড়ে হাড়ে!!
মিসেস শায়লা বেগম ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ালেন এবং মাথা নীচু করে কান্না চোখে বের হয়ে গেলেন! যদিও এসব অঘটন থেকো একটা শিক্ষা পেলেন কিন্তু অনেক কিছু হারিয়ে,, তাই চোখ কান খোলা রেখে সাবধানে advance হতে হয়! “যত গতি তত ক্ষতি”! প্রয়োজনে ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়েও মাঝেমধ্যে পথ চলতে হয়।।
শায়লা বেগম চলে যেতেই, নির্ঝরা হাজির। সেই বাঁকা ঠোটের মিষ্টি হাসি সাথে কথার চমকঃ
— স্যার অভিনন্দন!
—- thank you, bt কোন ছুটি হবে না!
— (লম্বা ও মিষ্টি স্বরে) স্যার অামি কি সব সময়ই ছুটি নিতেই অাসি?? অামিতো মাঝেমধ্যেই অাপনার magic power এর গল্প শুনতে অাসি।
—– তারমানে এতক্ষণ আড়িপাতা হচ্ছিল??
— অাবার জিগায়?? কিন্তু স্যার ছোট্র একটা doubt??
—- কি সেটা??
— সাদিয়া ম্যাডামের বিষয়টি অামার মাথায় অাসতেছে না?? উনার নিখোঁজ, চিঠি পাঠানো, “প-ভ” সূত্র??
—- চিঠিটা রাহুল অার বিদ্যুৎ পাঠাইছিলো সাদিয়ার নাম করণ করে, যাতে case divert হয়ে অন্যদিকে মোড় নেয়!
— কি সাংঘাতিক?! কিন্তু সাদিয়া ম্যাডামের নিখোঁজ??
—- অাচ্ছা বস, বুঝতে পারছি! তুমি পুরো ফিল্ম না দেখে যাবে না!!
— (বসতে বসতে) Thank you sir..
—- শোন তবে! সাদিয়াও ঘুমের মেডিসিনে অাক্রান্ত হয়, তবে ওর strong body হওয়াতে কাবু করতে একটু বেশি সময় নিচ্ছিলো। cc cam সেট করে যখন বাসায় ঢুকে ততক্ষণে ওর মধ্যেও ৮০% ঘুম ও ক্লান্তভাব চলে অাসে।
সাদিয়া ঘুমের ঘোরে ছিল বিদায় বিদ্যুৎ ও রাহুলের বাসার ভিতরে প্রবেশ এবং প্রায় ৩০ মিনিটের মত অবস্থান টেরই পাইনি।
সাদিয়া, যখন শায়লা বেগমের রুমে প্রবেশ করে, তার কিছু পূর্বেই রাহুল ও রাজনও(৩য় ব্যক্তি) প্রবেশ করেছে। ওকে দেখে এবং সাদিয়া ওদের দেখে হতভম্ব হয়ে যায়, তবে সাদিয়া ঘুমের ঘোরে ছিল তাই ওরাই অাগে সতেতন হয়ে ওর উপর এ্যাটাক করে পালাক্রমে ধর্…….(শুভনের দীর্ঘশ্বাস ও অশ্রু সিক্ত চোখ)
— sorry sir..
—- (টিস্যু পেপারে চোখ মুছতে মুছতে) It’s ok. কিন্তু তোমারো জানা উচিৎ field intelligence কত টা পরিশ্রম ও ত্যাগের উপর duty করে??
— জ্বী স্যার, কিন্তু সাদিয়া ম্যা’ম নিখোঁজ হলেন কেন??
—- ওরা রেপ করার সময়, সাদিয়া অবচেত মনে বিড়বিড়িয়ে বলেছিলো “অামি intelligence এর agent, তোদের অামি ছাড়ব না! ফাঁসিতে ঝুলাবো”
বাস, শুয়ারের বাচ্চা গুলো ওর ন্যুড ভিডিও করে, এবং ওকে রুমে ছেড়ে চলে যায়। পরেরদিন যখন সাদিয়া অামাদের অফিসে অাসে ঠিক তখনই ওরা(রাহুলরা) সাদিয়ার মোবাইলে ভিডিও send করে হুমকি দেয় দেখা করার জন্য, নয়তো ভিডিও ভাইরাল করে দিবে!!
সাদিয়া ঘাবড়ে যায়, অার ভুলটি করে…..
— (কাঁদো কাঁদো কন্ঠে) স্যার, অার বলবেন না please..
মনের অজান্তেই, দু’জনের চোখই অশ্রুসিক্ত হলো……..
অাসামীদের বিচার কার্যক্রম চলছে, অার সাথে rehabbing centre এ চিকিৎসাধীন অাছে…. কল্পনা করা যায়, এমন অল্প বয়স অথচ মরণ নেশাতে মেতে জীবনটা সমাধি সমতূল্য করে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে…
#নোটঃ সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের confidence থাকা ভালো, তবে over confidence নই। সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে?? Real & virtual life এর friend’s list check করা সহ নানাবিধ খেয়াল রাখা উচিৎ।।
অার সন্তানদেরও উচিৎ, বাবা-মায়ের বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ন রাখা। এত ত্যাগ ও মহিমার খিয়ানত না করা।
সর্বোপরি অামাদের সন্তানদের ইসলামের অালোতে অালোকিত করে কোরঅান ও হাদিসের পথে পরিচালনা করবো। #ইনশা_অাল্লাহ্,
——#সমাপ্ত

0Shares

Count currently

  • 174662Visitors currently online:

Counter Total

Facebook Pagelike Widget

Desing & Developed BY EngineerBD.Net