বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, রাত ২:১৪

বর্ষার জলের সৌন্দয্যের সাথে যোগ হয়েছে পেয়ারার ভাসমান বাজার

বর্ষার জলের সৌন্দয্যের সাথে যোগ হয়েছে পেয়ারার ভাসমান বাজার

বর্ষার জলের সৌন্দয্যের সাথে যোগ হয়েছে পেয়ারার ভাসমান বাজার

 মোঃ গোলাম মোস্তফা পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

চলতি সময়   বর্ষা মৌসুমে যে দিকে দু’চোখ যায় সে দিকে কেবলই দিগন্ত মাঠ জোড়ে সবুজ- হলদের সংমিশ্রনে চৈত্রের বাহারী মৌসুমি ফল পেয়ারার সমারোহ। বিস্তৃর্ণ ক্ষেতে এখন চলছে কৃষান-কৃষানীদের পেয়ারা তোলার হিড়িক। বাগান থেকে তরতাজা পেয়ারা পানসি নৌকায় করে চাষীরা নিয়ে আসে আটঘরকুড়িয়ানা ও ভিমরুলীর পেয়ারার ভাসমান হাটে। বিস্তৃর্ণ বাগান আর বর্ষার জলের সৌন্দয্যের সাথে যোগ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার বাজার।পিরোজপুরের ভিমরুলী ভাসমান বাজার থাইল্যন্ড ও ব্যাংককের ভাসমান বাজারগুলো সাথে তুলনা করা যায়। তবে শত বছরের পুরোনো এই জল বাজারের ঐতিহ্য বাগান থেকে নিয়ে আসা টাটকা পেয়ারা ভোরের আলো একটুখানি তেজ ছড়াতেই মিটে যায় বেচা-কিনার লেন-দেন। তরতাজা পেয়ারার স্বাধ নিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক পয্যর্টক এখানে পরির্দশণে আসেন।দক্ষিণাঞ্চলের শেষ সীমা বরগুনার পার্শবর্তী এলাকা বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা  স্বরুপকাঠি(নেছারাবাদ) উপজেলা। এ অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাতে প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। শতাব্দী ধরে কথিত আছে ধান,নদী খাল এই তিনে বরিশাল।এঁটা বরিশাল সম্পর্কে সবথেকে প্রচলিত প্রবাদ হলেও পেয়ারা ও আমড়া এই অঞ্চলের অনেক দিনের প্রসিদ্ধ।পেয়ারা সমৃদ্ধ মানুষ নৌকাতেই বাজার,নৌকাতেই ব্যবস, নৌকাই যেন ওদের সব সম্বল। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ও বিখ্যাত পেয়ারার বাগান স্বরুপকাঠি (নেছারাবাদ), ঝালকাঠি ও বানারীপড়ার আটঘর-কুড়িয়ানা এসব জেলা উপজেলাগুলোর ইউনিয়নের জিন্দকাঠি,আতা,আটঘর কুড়িয়ানা, ভিমরুলী ও মাহামুদকাঠিতে। এসব এলাকায় যতদুর দুই চোখ যায় থোকায়-থোকায় শুধু পেয়ারা আর পেয়ারা। তবে পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর-কুড়িনার পেয়ারা সব চেয়ে বেশী সু-স্বধূ। স্থানীয় পেয়ারা চাষীরা জানান, প্রতিদিন গাছ থেকে পেয়ারা পেরে ভাসমান হাটে প্রায় লাখ টাকার পেয়ারা কেনা-বেচা হয়। এসব পেয়ারাবাগানে ছোট-ছোট লেকের মত খালে ডিঙী নৌকায় বাগানের দুই পাড়ের

পেয়ারা তুলছেন চাষী ও কৃষানী স্বম্পা মন্ডল। বরিশালের বানারীপড়া, পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি ও ঝালকাঠির ভিমরুলীর পেয়ারার কদর শতবছর ধরে।বরিশালের এ ৩টি জেলা সদরে ৪১টি গ্রামে ৮৫৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ হাজার ২২০টি পেয়ারার বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৭ হেক্টর জমিতে ২০২৫টি পেয়ারার বাগান স্বরুপকাঠিতেই।গত বছরের চেয়ে এ বছর বাংলার আপেল নামে পরিচিত পেয়ারার ফলন ভাল। বর্তমান পেয়ারার বাজার দরে ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে অনেকটাই র্দুচিন্তায় মুক্ত চাষীরা। তবে পেয়ারা মৌসুম শুরুতে চওড়ামূল্য পেলেও শেষ দিকে এর সূল্য কমে যাওয়ায় চাষীদের পড়তে হয় চরম র্দুচিন্তায়। তার পরেও বাপ-দাদার এ পেশা দরে রেখেছে এখান কার চাষীরা। পেয়ারাকে সম্ভাল করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের আত্মকর্মসংস্থান পেয়ারা চাষের উপর নির্ভরশীল। চাষীদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত পচনধরায় নাম মাত্র মূল্যে কিনে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। একই অবস্থা জানালো ভিমরুলী ভাসমান হাটের পেয়ারা বিক্রয়তারা।প্রায় ১শত ৩০ বছর আগের কথা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ভদ্রাক গ্রামের পূর্ণমন্ডলভারতের কয়ায় তীর্থে গিয়েছিলেন, ফেরার পথে কিছু পেয়ারার বীজ নিয়ে এসেছিলেন তিনি।সেই বীজ রোপন থেকেই ধীরে-ধীরে পেয়ারার চাষ ঐ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে যা বিশ্ববাজারে ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান নামে পরিচিত । স্থানীদের ধারনা গয়া থেকে পেয়ারার বীজ আনা হয়েছিল বলে এ এলাকার পেয়ারা স্থানীয় চলিত গয়া নামে পরিচিত।পেয়ারা চাষী লাল চন্দ্রপাল বলেন, আমাদের এখান কার পেয়ারা দেশের চাহিদা পুরণ করে বিদেশেও রফতানী হয়। দক্ষিণ এশিয়ার এ পেয়ারা বাগান পরির্দশণ ও এর পেয়ারারা স্বাধ নিতে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে আসেন পর্যাটক এ বছরের মৌসুমের শুরুতেই ১২ জুলাই ভাসমান হাটেই জলপথে যাতায়েতের ট্রালারে বিক্রিয় পেয়ারার হাটের চাঞ্চল্যতায় মিশে গেলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আল রবার্ট মিলার। এর আগে আসলেন আমেরিকার ফটোগ্রাফার মারফিয়া । এখানকার পরিবেশ ও বেলে দো-আঁশ আর নিচু জমির মাটির কারনে পেয়ারার চাষ অত্যন্ত উপযোগী, যকারনে প্রতিবছর এসব এলাকায় জনপ্রিয় ফসলে পরিনত হচ্ছে পেয়ারা।এ বছর পেয়ারার লাভের মুখ দেখবেন বলে ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ ও এনজিও থেকে আনা চড়া সুদের ঋনের বোঝাও সহজেই মেটাতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন চাষীরা। কিন্তু উৎপাদিত পেয়ারার ইপ্সিত বাজার দর না পাওয়া নিয়ে কিছুটা সংকিত রয়েছেন তারা।

0Shares
Categories

Desing & Developed BY EngineerBD.Net