বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, রাত ২:৫৭

সুন্দরগঞ্জে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধী: বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সুন্দরগঞ্জে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধী: বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সুন্দরগঞ্জে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধী: বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
স্টাফ রিপোর্টার ঃ  
★ সুন্দরগঞ্জে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি  দেখা দিয়েছে। নদীদ্বয়ের অববাহিকায় বসবাসরত হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে সব্জি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের। এছাড়া, শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের ডাকুয়ার ভিটা, সাহার ভিটাসহ কয়েকটি স্থানে তীব্র নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি।  
 বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর ২৯ দশমিক ২০ সেন্টিমিটারের স্থলে ২৯ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হওয়ায় বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৯ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটারের স্থলে ২০ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হওয়ায় বর্তমানে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসব পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ন কেন্দ্র, বন্যা শিবির, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে গৃহপালিত পশু-পাখি, শিশু, বয়োবৃদ্ধদেরসহ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি। এসব বন্যার্ত মানুষদের খাবারের ব্যবস্থাও নেই। এমনকি তাঁরা এক কাপড়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাধ। তারাপুর ও বেলকা ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শনে বন্যর্তদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, ত্রাণ তৎপরতা নেই। চাল-চুলা নেই। এমনকি, নিরাপত্তা নিয়েও তাঁরা শঙ্কিত। রবিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম আব্দুস সোবহানকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নে বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁদের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঔষধ বিতরণ করেন। বন্যার্তদেরকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আশ^াস প্রদান করেন এবং তাঁর মোবাইল নম্বর উন্মুক্ত করেন। এরআগে বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশ্রিত বন্যার্তদের খোঁজ খবর নেন। এব্যাপারে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে সবজি ক্ষেত, মৎস্য চাষের। তবে এখনও কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি। বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ্ জানান, তাঁর ইউনিয়নে সাড়ে ৬  সহ¯্রাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এ পর্যন্ত পাওয়া ত্রাণ সামগ্রী চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজরের বেশি  পরিবার পানিবন্ধী রয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, বন্যার পানিতে ১’শ হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা ৮০ হেক্টর, সবজি ৮২ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া, ১০ হেক্টর জমির পাট ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন-অর রশিদ জানান, চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার পানি ঢোকায় ৪২টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোলেমান আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, পানিবন্ধী মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকলেও তাদের মাঝে এ পর্যন্ত ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে ৩’শ ৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৭০ মে.টন চাল বরাদ্দ পেয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ১’শ মে.টন চালের জরুরী বরাদ্দ চেয়ে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,গত ৯ দিন থেকে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির ঢলে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আশঙ্কাতীত বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বেলকা, হরিপুর, কাপাশিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
0Shares
Categories

Desing & Developed BY EngineerBD.Net