বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, রাত ২:৪৮

” বলিউড অভিনেত্রী কিশোরী জায়রা ওয়াসীম ও ইসলামি দর্শন “

 

বলিউড অভিনেত্রী ১৮ বছরের জায়রা ওয়াসীম যিনি কাশ্মিরের একটা সাধারণ মুসলিম পরিবার বেড়ে উঠা একজন মেয়ে, যিনি বলিউডের সিনেমা জগতে পা রেখে মাত্র পাচ বছরেই জনপ্রিয়তা আর খ্যাতির তুঙে পৌছে গিয়েছিলেন, (দংগল ও সিক্রেট সুপারস্টার ছবির প্রধান চরিত্র), হঠাৎ করেই তিনি তার এই জনপ্রিয়তা, সাফল্য, খ্যাতি তুচ্ছ করে সিনেমায় অভিনয় ছেড়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

তার এই হঠাৎ করে সাফল্যমন্ডিত রূপালী জগৎ থেকে নিজেক দূরে সরিয়ে নেওয়াতে শুধু বলিউডের চোখধাঁধানো রূপালী জগৎই নয়, আমাদের পার্থিব সমৃদ্ধি, খ্যাতি, ক্ষমতা আর বিত্তবৈভব ও তুচ্ছ আর ঠুনকো ঠেকেছে তার চিন্তা ও দর্শনের কাছে। মূলত যেই বয়সে ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলে, কোন একটি ভালো চাকুরী পেলে কিংবা তার চাইতে বেশী বয়সের হয়ে ও আমরা যখন আমাদের নিজস্ব পরিমন্ডলে ব্যাক্তিগত কোন অর্জনের জন্য সবাইকে জানান দেই, অথচ কিশোরী জায়রা ওয়াসীম কিনা মাত্র ১৮ বছর বয়সে সাফল্য আর খ্যাতির চূড়ায় উঠে ও সেগুলোকে তুচ্ছ জ্ঞান করে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন কেবলমাত্র নিজের দর্শনকে সমুন্নত রাখার জন্য। আর এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি তার ধর্ম ইসলামের দর্শনকেই সামনে নিয়ে এসেছেন এবং উচ্চকিত করেছেন। তিনি বলেছেন ঃ

“আমি হয়ত এখানে (বলিউড) পুরোপুরি ঠিক আছি। কিন্তু আমি এখানকার মানুষ নই। পাচ বছর আগে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। বলিউডে পা দেয়া মাত্রই আমার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তার দরজা খুলে গিয়েছিল। আমি জনগণের কাছে আকর্ষনের কারন হয়ে উঠতে শুরু করি। আমাকে তরুণদের আদর্শ মডেল হিসেবে ও তুলে ধরা হতে থাকে। কিন্তু আমি কখনো এরকম হতে চাইনি। সাফল্য বা ব্যার্থতাকে কখনো এভাবে দেখিনি। আর এটা আমি এখন বুঝতে শুরু করেছি।

আমার এই পরিচয় নিয়ে আমি খুশি নই। যেন আমি অন্য কেউ হয়ে উঠার চেষ্টা করছিলাম, যা আমি নই। এখানে আমি প্রচুর ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, প্রশংসা ও পেয়েছি। কিন্তু একই সাথে এটি আমাকে অজ্ঞানতার পথে নিয়ে যাচ্ছিল। এ ধরনের পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম যে এটা আমার ঈমানে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, ধর্মের সাথে আমার সম্পর্কের ক্ষেত্র হুমকি হয়ে উঠেছে। এত ছোট জীবনে এই বিশাল লড়াই আমি লড়তে পারবো না। ”

জায়রা ওয়াসীম তার দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ঈমান অটুট রাখতে তিনি নিজের আত্মার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছেন এবং এতে তিনি ব্যার্থ হয়েছেন। বলেছেন ” একবার নয়, শত শতবার চেস্টা করে ও আমি তাতে জিততে পারিনি। কুরআনের মহৎ জ্ঞানের মধ্যেই আমি পূর্ণতা ও শান্তি খুজে পেয়েছি। হ্রদয় যখন স্রস্টার জ্ঞানের অর্জন করতে পারে তখনই সে শান্তি খুজে পায়। ”

জায়রা লিখেছেন এখন থেকে তিনি নতুন জীবন শুরু করতে চান। অন্যদের পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি আরো লিখেছেন ” সাফল্য, খ্যাতি,যশ, ক্ষমতা কিংবা বিত্ত কখনো মানুষকে শান্তি দিতে পারে না ‘

জায়রা ওয়াসিম আরো লিখেছেন, বলিউড আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে। ভালবাসা, সমর্থন, জীবনযাপনের পদ্ধতি – সবকিছু। কিন্তু আমি যেভাবে কাজ করছি, তাতে আমার ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ইসলামের সাথে আমার সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে। আল্লাহর সাথে আমার দূরত্ব বেড়েছে। আমার মানসিক শান্তি নস্ট হয়েছে। আমি আমার জীবন থেকে বরকত হারিয়েছি। আমি ভুলতে বসেছিলাম, পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর উদ্দেশ্য। আর সফলতা সেখানেই যখন যে উদ্দেশ্যে আমাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে আমরা তা পূরণ করতে সমর্থ হবো। ”

শেষ বাক্যে জায়রা জানিয়েছেন, ” মনের শান্তি আর ঈমানের বিনিময়ে এসব সফলতা, তারকাখ্যাতি, কর্তৃত্ব, সম্পদ কিছুই চান না তিনি। ”

তাই তার যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তে ইন্ডিয়ান বলিউড সিনেমা জগৎ সহ অন্যান্যরা যতটা না বিস্মিত হয়েছে তার চাইতে বেশী বিস্মিত ও কৌতুহলী এই কিশোরী মেয়ের নিজ ধর্ম ইসলাম ও ইসলামি দর্শনে তার চিন্তার গভীরতা দেখে। মূলত ভোগবাদী আর বস্তুবাদী দর্শনে প্রভাবিত হয়ে মুসলমানরা যখন নিজস্ব দর্শন থেকে দূরে সরে গিয়ে বিজাতীয় ভোগবাদী আর বস্তুবাদী পাশ্চাত্যের তথাকথিত উন্নতির অনুসরণ ও অনুকরণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, সেই ক্রান্তিলগ্নে কাশ্মিরের ১৮ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরী জায়রা ওয়াসীম ইসলামী দর্শনকে সামনে নিয়ে এসেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলা জীবনদর্শন হিসাবে। তার এই ইসলামি জীবনাদর্শ ধর্ম বিশ্বাসী তরুণ তরুণীদের ধর্ম বিশ্বাসকে দৃঢ় করার পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের চিন্তায় ও গভীরভাবে রেখাপাত করবে।

আল্লাহ জায়রা ওয়াসীমকে তার বিশ্বাসে অটল থাকতে সহায়তা করুক। আমিন। [ Kazi Joynal এর ওয়াল পেপার থেকে সংগৃহীত ]

0Shares
Categories

Desing & Developed BY EngineerBD.Net