বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, রাত ১:৫০

কাশ্মীর কি ভারতের হাতছাড়া হতে চলেছে?

ভারতের সবচেয়ে অশান্ত এলাকা কাশ্মীরে আবারও এসেছে গ্রীষ্মকাল। ভাষ্যকাররা যাকে দেখছেন “সহিংসতার আরেকটি গ্রীষ্মকাল” হিসেবে। আর একই সাথে আবার ফিরে এসেছে সেই প্রশ্নটি: আর এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন বিবিসি নিউজ অনলাইনের ভারত সংবাদদাতা সৌতিক বিশ্বাস:

মুসলমান-অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গ্রীষ্ম ছিল গতবারেরটি।

জুলাই মাসে ভারতীয় বাহিনীর হাতে প্রভাবশালী জঙ্গিনেতা বুরহান ওয়ানী খুন হওয়ার পর সেখানে চার মাস ধরে যে অচলাবস্থা চলেছে, তখন সংঘাতে ১০০ জনেরও বেশী বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

চলতি গ্রীষ্মকালটিও খুব একটা ভালো যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

এই মাসে শ্রীনগরে সংসদীয় যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে সহিংসতা হয়েছে আর ভোট পড়েছে রেকর্ড পরিমাণ কম।

এমন কিছু ভিডিও বেরিয়েছে যাতে দেখা গেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভারতীয় শাসনের বিরোধী তরুণদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে – ফলে আগুনে আরও ঘি পড়েছে। বিক্ষোভ আরও ছড়িয়েছে, ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছে।

আর খুব বিরল একটা দৃশ্যও চোখে পড়ছে – স্কুলের মেয়েরা পাথর ছুড়ছে, আর তা আঘাত করছে পুলিশের গাড়িকে।

মূখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বেখাপ্পা ধরণের একটি জোট সরকার চালাচ্ছেন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি দলের সঙ্গে। সোমবারে তিনি দিল্লি ছুটে যান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই আর্জি নিয়ে যাতে “একটি সংলাপের ডাক আর মিটমাটের ইঙ্গিত দেয়া হয়”।
ছবির কপিরাইট Abid Bhat
Image caption রাজনীতিবিদরা বলছেন কাশ্মীরের জন্য সামরিক নয় বরং একটি রাজনৈতিক সমাধান দরকার

খবরে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাকে বলেছেন যে প্রচণ্ড সহিংসতা এবং জঙ্গি আক্রমণ চলতে থাকা অবস্থায় তাঁরা “উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অবাধ্য গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোন আলোচনায় সম্মতি” দিতে পারেন না।

সাবেক মূখ্যমন্ত্রী ও আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ভারত “কাশ্মীর হারাচ্ছে”।

মি. আবদুল্লাহ যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা দারুণ প্রশংসনীয়। তার পরামর্শ হলো, ভারতের উচিত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা – পাকিস্তান, বিচ্ছিন্নতাবাদী, মূলধারার রাজনৈতিক দল, কাশ্মীরের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় – এবং কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে “সামরিক নয় বরং একটি রাজনৈতিক পথ” খুঁজে বের করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করা।

কাশ্মীর অঞ্চলে এখন ভারতের ৫০০,০০০ সৈন্য রয়েছে, ফলে এলাকাটি তাদের হাতছাড়া হবে না।

কিন্তু বিশ্লেষক শেখর গুপ্ত বলছেন যে কাশ্মীর “ভূখন্ডগত ভাবে নিরাপদ, কিন্তু আমরা একে অনুভূতি-গত আর মানসিকভাবে হারিয়ে ফেলছি”।

শ্রীনগরের নির্বাচনে মাত্র ৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে কাশ্মীরের “ভূখণ্ডের ওপর আপনার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও আপনি এর মানুষদের হারাচ্ছেন” – বলছিলেন মি. গুপ্ত।
ছবির কপিরাইট Bilal Bahadur
Image caption ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তাড়িত করছে কাশ্মীরের তরুণদের

তাহলে কাশ্মীরে এমন নতুন কী ঘটছে যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করছে, আর সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের এটা স্বীকার করতে বাধ্য করছে যে পরিস্থিতি সেখানে সত্যিই ভঙ্গুর?

একটি হলো, আরও বেশী বেপরোয়া ও বিচ্ছিন্ন একটি তরুণ প্রজন্ম এখন কাশ্মীরে ভারত বিরোধী প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছে। উপত্যকার ৬০ শতাংশেরও বেশী পুরুষের বয়স ৩০-এর নীচে। এদের বেশীরভাগই বিক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত।

আয়জাজ – বাডগামের ১৯ বছরের তরুণ। তিনি বলছেন যে “ভারতীয় নিপীড়নের মুখে” তাদের প্রজন্ম সব আশা হারিয়েছে, আর তিনি ও তাঁর বন্ধুরা “মত্যুকে আর ভয় করেন না”।

তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো যে তাঁর জীবনের লক্ষ্য কী ছিলো, তখন তিনি জানালেন যে তিনি একজন আমলা হয়ে কাশ্মীরকে সেবা করতে চেয়েছিলেন।

“এটা বলা ভুল যে কাশ্মীরের ঐ যুবক নির্ভীক হয়ে উঠেছে, সে আসলে বিচ্ছিন্ন বোধ করছে, অপমানিত বোধ করছে। তিনি যখন এমনটা বোধ করেন, তখন ভয় আর কাজ করে না। তিনি হয়ে ওঠেন অপরিণামদর্শী। এটা বিচার-শক্তিহীন আচরণ,” ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা জুনায়েদ আজিম মাত্তু বলছিলেন বিবিসি সংবাদদাতাকে।

0Shares
Categories

Desing & Developed BY EngineerBD.Net