বিজ্ঞপ্তি: চোখ রাখুন দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকায় , নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সারা বাংলাদেশে নিয়োগ চলছে জেলা-উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগ চলছে বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নিউজ আপনার এলাকায় ঘটে যাওয়া যেকোন ধরনের আমাদের এখানে মেইল করতে পারেন , daily.bangladesh.bani@gmail.com এবং বিস্তারিত যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। 01933609075



দুর্নীতিগ্রস্থ আর দুষিত নোবেল পুরস্কার –শফিক রহমান, অষ্ট্রেলিয়া ।

ভিপি মোঃ মঈন তুষার

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২০ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
Print Friendly and PDF

দুর্নীতিগ্রস্থ আর দুষিত নোবেল পুরস্কার !!!!!

শফিক রহমান- অষ্ট্রেলিয়া ।

নেলসন ম্যান্ডেলা ,দক্ষিন আফ্রিকার মুক্তিকামী মানুষের নেতা ।শ্বেতাঙ্গ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ম্যান্ডেলাকে ২৫ বছর আটক রেখেছিল রোবেন আইল্যান্ডে ।তখন তাকে বলা হত আফ্রিকার এক নম্বর সন্ত্রাসী ।পরবর্তী সময়ে দক্ষিন আফ্রিকা যখন বর্নবাদী সরকার থেকে মুক্ত হলো তখন দক্ষিন আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হলেন নেলসন ম্যান্ডেলা ।এরপর নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তিতে নোবেল পুরুস্কার পেলেন ।আর তিনি নতুন কোনো কাজের জন্য শান্তি পুরস্কার পাননি ।সেই একই কাজ যার জন্য তাকে সন্ত্রাসী বলা হয়েছে ,কয়েকবছর পর তার জন্যই তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ।এটি খুবই আশ্চর্যজনক ।একই কাজ যার অপরাধে তিনি ২৫ বছর জেলখানায় ছিলেন ,যার জন্য তাকে সন্ত্রাসী বলা হলো ,সেই কাজের জন্যই তিনি পরবর্তীতে শান্তিতে নোবেল পরুস্কার পেলেন ।এভাবেই মহৎ এই পুরস্কারটিকে রাজনীতিকরন করা হয়েছে । আমেরিকার Secretary of States হেনরী কিসিঞ্জারের বেলায় নোবেল প্রাইজ কমিটি ছিল আরো দুর্নীতিগ্রস্থ্ ।আমেরিকার একজন সমালোচক কৌতুক করে বলেছিলেন ,আমি যদি একটি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলি এবং কয়েকবছর পর সেই ভাঙ্গা গ্লাসটিকে সুপারগ্লু দিয়ে জোড়া দেই ,আমি কি এই কাজের জন্য পুরস্কার পেতে পারি ?অন্তত আমি তা মনে করিনা তবে তাই হয়েছে কিসিঞ্জারের বেলায় । ১৯৭৩ সালে কিসিঞ্জার ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরুপ নোবেল পুরুস্কার দখল করেছিলেন ।যদিও কিসিঞ্জারই ছিল ভিয়েতনামের ভয়াবহ যুদ্ধ এবং হত্যামিশনের নায়ক ।যখন তিনি পুরুস্কার গ্রহন করছিলেন তখনও তিনি কম্বোডিয়া ,চিলি ,প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়েতে রাজনৈতিক হত্যা আর যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সর্বাত্বক সহযোগীতা দিয়েছিল আমেরিকার এই কুখ্যাত কুলাঙ্গার কিসিঞ্জার ।আমেরিকার বিখ্যাত কমেডিয়ান ,লেখক ,দার্শনিক ষ্টিভেন রাইট তাই বলেছিলেন – আমি একটা নোবেল পুরুস্কারের জন্য হত্যাও করতে পারি । একজন আবিস্কারক অর্থ সঞ্চয় এবং তা ব্যয় করেন নিত্যনুতন উদ্ভাবনের পেছনে ।শান্তির জন্য অন্বেষা -এর চেয়ে বড় আবিস্কার আর কি হতে পারে , যে শান্তি মানবসভ্যতাকে ধ্বংস না করে বরং এগিয়ে নিয়ে যাবে ।বিজলী বাতির আবিস্কারক এডিসন গর্ব করে বলেছিলেন , ‘আমি হত্যা করার জন্য কিছু আবিস্কার করিনি’ ।তিনি আগে ভাবতেন তার আবিস্কার মানুষের কি কাজে আসবে ।মানুষের প্রয়োজন গবেষনা করে তবে তিনি আবিস্কারের পেছনে ছুটতেন ।অথচ তিনি নোবেল প্রাইজের যোগ্য হতে পারেন নি ।বিজলী বাতির আবিস্কারক নোবেল প্রাইজ পাননি তাই বলে কি আমরা অন্ধকারে বসে টিভি দেখছি ? নিকোলা টেসলা ,আরেক অস্ট্রিয়ান বিঞ্জানী ।এডিসন যে ডিসি কারেন্ট আবিস্কার করেছিলেন নিকোলা সেটাকে এসিতে রুপান্তরিত করেছিলেন ।ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ফিল্ড এবং ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের উদ্ভ্বাবন করে পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছেন ।এ দুজনকে ছাড়া আমাদের আজকের সভ্যতার এই প্রান্তে বাস করা শুধু স্বপ্নই থেকে যেত ।আশ্চর্যের বিষয় হলো এ দুজন মহান বিঞ্জানীর একজনও নোবের প্রাইজ পাননি ।ভাল কাজের জন্য যারা কাজ করেন তারা কথনই হারিয়ে যাননা যদি আমরা তাকে স্বীকার নাও করি ।তারা বেচে থাকে সবার মাঝে ফিরে আসে বারবার সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টির প্রেরনা দিতে । শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পেতে হলে যে কাউকে শান্তির জন্য কাজ না করলেও চলে ।যেমন তিব্বতের দালাইলামা সমগ্র চীনের জন্য অশান্তির কারন ।কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে তিনি শান্তির দুত ।কারন অখন্ড চীন ,সফল অর্থনীতি এবং তার সমাজতন্ত্র কোনটিই পশ্চিমাদের অনুকুলে নয় ।কিন্তু দালাইলামা তাদের অনুকুলে ।তার পুরুস্কারস্বরুপ দালাইলামা পেয়েছিলেন শান্তির জন্য নোবেল পুরুস্কার ।মহাত্বা গান্ধী ছিলেন সত্যিকার শান্তির প্রবক্তা ।তার মিশনের নামই ছিল “অহিংসা নীতি “ এবং পুরো ভারতবর্ষে তা ছিল কার্যকরী ।নোবেল প্রাইজ কমিটি পাচবার তার তার নাম মনোনয়ন করলেও পুরস্কার তিনি পাননি ।কারন তিনি পশ্চিমাদের পছন্দের ছিলেননা ।২০১১ সালে চায়নার লুই জিয়াবো শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন ।তার আগে চায়নাতে অস্তিতিশীল পরিস্তিতি সৃষ্টির জন্য চাইনিজ সরকার তাকে ১১ বছর কারাদন্ড দিয়েছেন ।চায়নার কমিউনিষ্ট পার্টি ,ভেনেজুয়েলার শ্যাভেজের বিরুদ্ধে ,কিউবার ক্যাষ্ট্রোর বিরুদ্ধে কথা বলে কারাদন্ড হলে তার নোবেল প্রাইজ পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । আরেকজনের শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে ।তিনি হচ্ছেন লাদেন হত্যামিশনে সিআইএ কে সহায়তা কারী পাকিস্তানের ডাঃশাকিল আফ্রিদি ।পাকিস্তানের সরকার এবং জনগনের কাছে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী কিন্তু আমেরিকার কাছে শান্তির গোলা।তাই আগামীতে শাকিল নোবেল পেলে তাতে অবাক হবার কিছু নেই ।পশ্চিমারা আধিপত্য বিস্তারের জন্য সারাবিশ্বে তাদের অনুগত একজনকে মনোনীত করে এবং শান্তি পুরস্কার দিয়ে তাকে সেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় ।১৯৭১ বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে আমেরিকার কাছে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন আর কিসিঞ্জার বাংলার মুক্তিসংগ্রামের বিরুদ্ধে গোলাবারুদ সরবরাহ করে শান্তিতে নোবেল জিতে নিয়েছিলেন । একজন আমেরিকান নাগরিক তার কাছে প্রশ্ন করেছিলেন ,কেমন লাগছে শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর ।জবাবে বলেছিলেন ,এখন তার প্রায়শ্চিত্য করছি । মানুষ আলফ্রেড নোবেল তার ভয়ংকর আবিস্কারের প্রায়শ্চিত্ত স্বরুপ নোবেল পুরস্কার দেয়ার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন কিন্তু তার ভিতরের যে ভয়ংকর হিংস দানবটি ডিনামাইট আবিস্কার করেছিল তা এখন বংশবিস্তার করেছে আশংকাজনক হারে।ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন । তার মধ্যে অন্যতম ছিল রাষ্ট্রকে জাতিগত সহিংসতা নিরসনে উদ্ধুদ্ধ করা ,সেনাবাহিনীর উপর ব্যয় কমানো এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি বিস্তারে কাজ করা ।এই আলোকে মাদার তেরেসার নোবেল পুরস্কার নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো বিতর্ক হয়নি ।তা হলে ইউনুসের ক্ষেত্রে কেন এই বিতর্ক ?নোবেল প্রাইজ পেয়ে তিনিও কি প্রায়শ্চিত্ত করছেন?ইউনুসের নোবেল বিতর্ক শুরু হয়েছিলো ২০০৯ সালে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ডকুমেন্টারীর মাধ্যমে ।এই ডকুতে ইউনুসকে গ্রামীন ব্যাংকের শেয়ার এবং গ্রামীন ব্যাংক সংক্রান্ত কার্যক্রমকে financial fraud হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল ।সেখানে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং সিষ্টেম অনুসরন না করার জন্য মন্ত্রনালয় সেটাকে অভিহিত করেছিলো financial violation হিসেবে ।সাধারন মানুষ যদি ইউনুসের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে অনুধাবন করত তবে তারা গ্রামীন ব্যাংকের ঋন আদৌ গ্রহন করত কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ ।অষ্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ুয়া একজন ছাত্র নিজেকে ভাগ্যবান বলেছেন কারন তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার পরে তার গ্রামে গ্রামীনব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল । ২০০৭ এ শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন আলগোর ।বিশ্বব্যাপী উঞ্চ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে তিনি অনেক মুল্যবান বক্তব্য রেখেছেন বিভিন্ন সেমিনারে ।কিন্তু তিনি তার বাসায় একমাসে ২২,৬১৯ কি.ও বিদ্যুত ব্যবহার করেন যা সাধারন আমেরিকান একবছরের যে বিদ্যুত ব্যবহার করে তার দ্বিগুন ।স্বভাতই প্রশ্ন জাগে আসলেই কি তিনি জ্বালানী শাশ্রয়ী ? যদি তা না হয় তবে তাকে পুরস্কৃত করা কতখানি যুক্তিসংগত ছিল ! কারন কানাডিয়ান বিশেষজ্ঞ মার্শাল ম্যাকলাহান বলেছেন -There are no passengers on spaceship Earth .We are all crew. প্যালেসটাইনের ইয়াসির আরাফাত ,ইসরাইলের শিমন প্যারেজ আর আইজাক রবিন শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন ১৯৯৪ সালে । ইয়াসির আরাফাত আজীবন সংগ্রাম করেছেন ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আর শিমন প্যারেজ জুটি কাজ ছিল প্যালেস্টাইনীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া ।এই পুরস্কারে কিছুতেই আরাফাতের সাথে শিমন প্যারেজ জুটির সামঞ্জস্য হয়না ।পৃথিবীর ১০ জন বিতর্কিত শান্তিতে নোবেল অর্জনকারীর ৪ জনই মধ্যপ্রাচ্যের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে আলোচিত ।এরা হচ্ছেন মেনাচেম বেগিন ,শিমন পেরেজ ,আইজাক রবিন আর কিসিঞ্জার । স্কুলে পড়েছি বিশ্বব্যাপী অসাধারন মেধাবী আবিস্কারকদেরই কেবল নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় যারা আমাদের আরো কল্যান আর আবিস্কারের পথে প্রেরনা যোগায় ।কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্বরাজনীতিতে এখন নোবেল শান্তি পুরস্কারও অন্যান্য বিষয়ের মত দুষিত আর দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে । অনেক সমালোচক নোবেল পুরস্কারের তালিকায় শান্তি পুরস্কার না রাখার পক্ষে তাদের যুক্তি দেখিয়েছেন ।কারন এত শান্তি পুরস্কারের পরেও শান্তি যেন প্রজাপতির মতই দুর্লভ ,না তাকে ধরা যায় ,না যায় অর্জন ।বিশ্ব শান্তির জন্য এত বড় পুরস্কারের পরেও যদি যুদ্ধ আর অশান্তি হ্রাস না পায় তবে এই প্রহসনের পুরস্কার কেন?

খবরটি 269 বার পঠিত হয়েছে

সম্পাদক-প্রকাশক আলহাজ্ব ভিপি মঈন তুষার । যোগাযোগ +880 01933609075 মেইল করুন daily.bangladesh.bani@gmail.com