বিজ্ঞপ্তি: চোখ রাখুন দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকায় , নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সারা বাংলাদেশে নিয়োগ চলছে জেলা-উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগ চলছে বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নিউজ আপনার এলাকায় ঘটে যাওয়া যেকোন ধরনের আমাদের এখানে মেইল করতে পারেন , daily.bangladesh.bani@gmail.com এবং বিস্তারিত যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। 01933609075



সায়েন্স ফিকশন: মহাকাশে কৃত্রিম এলিয়েন—মোঃমেহেদী হাসান

ভিপি মোঃ মঈন তুষার

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২০ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly and PDF

#সায়েন্স_ফিকশন:

মহাকাশে কৃত্রিম এলিয়েন ;

আমার নাম রাব্বি|বয়স ১৭ বছর|আজ থেকে চার বছর আগে গ্যালাক্সির চারজন কিউরেটর আমাকে তাদের গ্রহে নিয়ে গিয়েছিল|তাদের প্রয়োজন ছিল পৃথিবীর একজন বুঝমান ও আবেগহীন প্রাণী|তারা কয়েকমাস পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাণীর উপর গবেষণা করে ; অবশেষে আমাকে বাছাই করে নিয়ে যায় তাদের গ্রহে|
গ্রহটা পৃথিবী থেকে 121352কোটি কিমি দূরে|
আমি প্রথমত ওদেরকে অবিশ্বাস আর ঘৃণা করতাম|কিন্তু তাদের ব্যবহারে আমি ওদেরকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি|এখন আমি তাদের কলোনির একজন সদস্য|আমি স্পেসশীপ চালানোর ওপর মাত্র একমাস ট্রেনীং নিয়েছি|আর আমাকে নিয়ে তারা গর্ব করে|কারণ আমি একজন দক্ষ স্পেসশীপ চালক|আমার দুইটা স্পেসশীপ আছে|একটা আমার একেবারেই পার্সোনাল|আমি গ্যালাক্সির বিভিন্ন গ্রহ নিয়ে গবেষণা করি|বর্তমানে আমি পৃথিবীকে নিয়ে গবেষণা করছি|আর ভাবছি কিভাবে আমার নিজ গ্রহে ফিরব|আর একজন পৃথিবীর স্পেসশীপ চালককে খুঁজছি|ইতিমধ্যে তারা আমার দেহের ওপর দুইটা সার্জারি করেছে|এর ফলে আমি প্রায় একটা এ্যালিয়েনে পরিণত হয়েছি|সামনে আমার দেহে আরও কিছু সার্জারী করা হবে|এদের একটার ফলে অমি মহাকাশে কোন রকম অক্সিজেন ছাড়াই চলাচল করতে পারব|
আমি ইচ্ছা করলে যখন-তখন পৃথিবীতে চলে যেতে পারি|কিন্তু আমি আমার কলোনীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ|যতদিন না তারা আমাকে পৃথিবীতে যেতে না বলবে ততদিন আমি তা করতে পারবনা|আমি জানি তারা আমাকে একটা আপারেশনের জন্য এখানে এনেছে|কিন্তু কী সেই অপারেশন আমি জানিনা|আর আমি এই অপারেশনের রহস্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি|
এখন আমি আমার গ্রহ থেকে 279 কোটি কিমি দূরে আছি পৃথিবীকে নিয়ে একটা গবেষণার জন্য|বেশ কয়েকদিন ধরে আমি এখানে আছি|আমার কলোনীর কেউ জানেনা আমার এই গবেষণার কথা।
এমন আবস্থায় হঠাৎ একটা সিগনাল পেলাম|আমার গ্রহকে ধ্বংস করতে এসেছে মহাকাশের অন্য এক গ্রহের এলিয়েনরা|আমি গবেষণা ছেড়ে দ্রুত ছুটে গেলাম আমার গ্রহে|আমি জানি ওরা হাজার জন এলেও ওদের জন্য আমি একাই যথেষ্ট|কারণ আমার শরীর এক মহাশক্তির ক্ষেত্র|আমি চোখের পলকে শত শত স্পেসশীপ ধ্বংস করে ফেলতে পারি|মাত্র তিন মিনিটে ওদেরকে আমি শেষ করে ফেললাম|
ওদেরকে আমি চিনি|ওরা চায় কেবল ওরাই হবে এই মহাকাশের একমাত্র প্রাণি|কিছু দিন আগে ওদের একটা দল পৃথিবীকে ধ্বংস করার জন্য গিয়েছিল|কিন্তু মঙ্গল গ্রহ প্রর্যন্ত যেতে না যেতেই পৃথিবির একজন স্পেসশীপ চালক সিগন্যাল পেয়ে ওদেরকে শেষ করে ফেলে|আর এই সিগন্যাল আমিই পাঠিয়েছিলাম|
কিছু দিন হল আমার শরীরে সার্জারি করা শেষ|এখন আমি আক্সিজেন মাক্স ছাড়াই মহাকাশে চলতে পারছি|আর আমার চোখ দুইটা নীল বর্ণ ধারণ করেছে|আমার শরিরে আর মাত্র একটা সার্জারি করা হবে|
মহাকাশে আমি একাই চলেছি|আমি এখন একটা বিপদজনক স্থানে আছি|এই এলাকার এলিয়েনরা খুব ডেন্জারাস|তবু আমি সাহসের সাথেই চলেছি|এমন সময় আমি একটা সিগনাল পেলাম|সিগনালের দিকে তাকাতেই আমি আনন্দে নেচে উঠলাম|আমার আসেপাশে কোথাও পৃথিবীর স্পেসশীপ চালক আছে!আমি তাকে খুঁজতে লাগলাম|বেশ কীছুক্ষন খোঁজার পর হঠাৎ আমি এক গুহার সামনে একটা স্পেসশিপ দেখতে পেলাম|আমি ওটার কাছে এগুতে লাগলাম|কাছে যেতেই একজন স্পেসশীপ চালক গুহা থেকে বের হয়ে আসল|ও আগেই আমার এখানে আসার সিগনাল পেয়েছে|
আমি আবাক হয়ে গেলাম ওকে দেখে|কারণ ও একটা মেয়ে ছিল|এমন একটা ডেন্জারাস এলাকাতে একটা মেয়ে কি করতে এসেছে?আমি ওকে কিছু বলার আগেই ও বলল_
-কে তুমি?
-আমি যেই হয়|তার আগে তুমি বল এমন একটা ডেন্জারাস স্থানে কি করছ?
-সেটা পরে জানলেও হবে|আর আমি জানি তুমি একটা এলিয়েন|কারণ এখানে শুধু এলিয়েনরা থাকে|
-তোমার ধারণা ভুল|কারণ আমি একটা মানুষ|
-আমি বিশ্বাস করিনা|
মেয়েটার প্রচন্ড সাহস।তা ওর কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে|…

কিন্তু আমার জানা প্রয়োজন মেয়েটা এখানে কোন কারণে এসেছে|তবে মেয়েটাকে আমার প্রয়োজন|অচমকাই মেয়েটা বলল__
-তোমার পিছনে তাকাও|
ওর কথা শুনে আমি সাথে সাথে আমি পিছনে তাকালাম|তবে ওর দিকে কিছুটা খেয়াল রেখে|তখনি খেয়াল করলাম মেয়েটা তার ব্যাগ থেকে একটা বোমা বের করেই আমার দিকে ছুড়ে দিল|আমি সরে যাবার আগেই বোমাটা সোজা আমার ওপর এসে বাস্ট হলো|আমি জানি পৃথিবীর কোন অস্ত্র,গোলা বারুদ আমার কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা|কিছুক্ষন পর সব স্বাভাবিক হয়ে এলো|আমি মেয়েটার সামনে গিয়ে দাড়ালাম; ও কিছুটা ভয় পেয়ে গেল|
আমি বুঝলাম মুখের কথাতে হবেনা|অন্য পদ্ধতিতে আসতে হবে|আমাকে পৃথিবীতে যোগাযোগ করতে হলে মেয়েটাকে লাগবে|
তাই কোন রকম সতর্কতা ছাড়াই ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পরলাম|আর ও কোন কিছু করার আগেই ওর অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললাম|ও কষ্টে ছটফট করতে লাগল|আমি জোরে ওর মাথায় একটা আঘাত করলাম|সাথে সাথে ও জ্ঞান হারালো|এবার ওর মুখে অক্সিজেন মাস্কটা লাগিয়ে দিলাম|
ওকে নিয়ে এলাম আমার গোপন গবেষণাগারে |একটা চেয়ারে বেঁধে রাখলাম |শরীর থেকে অক্সিজেন বক্স আর মাক্সটা খুলে রাখলাম|এখনোও জ্ঞানহারা অবস্থায়ই আছে|আর আমি ওর জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় রইলাম|

প্রায় দুই ঘন্টা পর মেয়েটার জ্ঞান ফিরল|আমি ওর থেকে দশ ফিট দূরে বসে আছি|হঠাৎ ও নড়েচড়ে উঠল|কিন্তু ওকে বেঁধে রাখার কারণে খুব সমস্যা হচ্ছে|ও আমাকে কিছু বলতে চাইছে|কিন্তু ওর মুখে আমি টেপ দিয়ে রেখেছি|আমি ওর মুখের টেপটা খুলে দিলাম|ও প্রচন্ড রেগে আছে আমার ওপর|
-যদি নিজের কোন ক্ষতি না চাও,তো আমাকে ছেড়ে দাও(মেয়েটা)
-আমার ক্ষতির চিন্তা তোমাকে করা লাগবেনা|আগে নিজেরটা কর|কারণ তুমি আমার হাতে বন্দি|(আমি)
-তোমার কোন ধারণাই নেই যে আমি কি করতে পারি|তাই বলছি আমাকে ছেড়ে দাও|
-ওকে|কিন্তু একটা শর্ত আছে|
-কী সেই শর্ত?
-তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে আমি একজন মানুষ|
-অসম্ভব|তোমার ঐ নীল বর্ণের চোখই প্রমান করে যে তুমি একটা এলিয়েন|আর পৃথিবীর বাইরে কোন মানুষই অক্সিজেন ছাড়া চলতে পারেনা|আর এটা পারে একমাত্র এলিয়েনরা|এমন কি এলিয়েনদের রক্তও নীল বর্ণের|
আমি সাথে সাথে একটা ছুরি দিয়ে ওর সামনে আমার হাত কেটে ফেললাম|আর তখনি আমার ক্ষত স্থান থেকে লাল রক্ত বের হতে লাগল|রক্ত দেখে মেয়েটা এবার সত্যিই আবাক হয়ে গেল|
-এর পরেও তুমি আমাকে এলিয়েন ভাববে?
ও একবার আমার দিকে আর একবার আমার ঝরে পরা রক্তের দিকে তাকাচ্ছে|
-এটা কীভাবে সম্বব হতে পারে….!?
-সম্ভব অসম্ভব কিছুই না|কারণ সত্যিই আমি একজন মানুষ|
-কিন্তু তোমার চোখ এলিয়েনদের মত কেন?কেমন করেই বা একজন মানুষ পৃথিবীর বাইরে অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে!?
-তুমি জানতে চাও কি, -কি কারণে আজ আমি একজন মানুষ হয়েও একটা এলিয়েনে পরিণত হয়েছি?শুনতে চাও সব কাহিনী?
-তোমাকে বিশ্বাস করতে হলে জানতেই হবে
-তাহলে শোন……
আজ থেকে তিন বছর আগে আমার সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনী,আমার দেহের ওপর করা প্রতিটা সার্জারির কাহিনী ওকে শোনালাম|সব বলার পর আমি একটু থামলাম|ওকে দেখে মনে হচ্ছে ও এবার আমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে|
-কি কারণে ওরা তোমার সাথে এমন করল|তোমার দেহের ওপর সার্জারি করে তোমাকে একটা এলিয়েনে পরিণত করেছে,কী পাবে ওরা?(মেয়েটা)
-তা জানিনা|তবে আমাকে বিশেষ অপারেশনের জন্য ওরা আমাকে এনেছে|
-তুমি আমার সাথে পৃথিবীতে ফিরে যেতে পার|
-না|তুমি যাও|তবে তার আগে তুমি বল,এখানে কী কারণে এসেছিলে?
-আমি এসেছি তিনটা সিগনাল স্থাপন করতে|
-সিগনাল?!!!!
-হুম সিগনাল|যাতে এখানকার সব খবর আমি সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে যাই|
-কেন?(আমি জানি মেয়েটা এবার কী বলবে)
-কয়েক মাস আগে কিছু এলিয়েন পৃথিবীকে আক্রমন করার জন্য গিয়েছিল|কিন্তু মঙ্গল গ্রহ প্রযন্ত আসতেই আমি ওদের শেষ করে ফেলি…
-কারণ তুমি একটা সিগনাল পেয়েছিলে|
মেয়েটা আরোও আবাক হয়ে গেল|
-তুমি জানলে কীভাবে!?
-কারণ সিগনালটা আমিই পাঠিয়েছিলাম|যাতে ওরা পৃথিবী পর্যন্ত পৌছানোর আগেই কেউ ওদেরতে শেষ করে ফেলে|
-আর সেই কাজটা আমিই করেছি তোমার সিগনালটা পেয়ে|
-হুম তাই|
এখন আমার ওপর মেয়েটার কোন সন্দেহ নেই|এখন আমি নিঃশন্দেহে মেয়েটার সাথে পৃথিবীতে যোগাযোগ করতে পারব|আমি মেয়েটাকে সবকিছু বুঝিয়ে দিলাম|যাতে আমরা দুজন ছাড়া পৃথিবী বা মহাকাশের অন্য কেউ আমাদের যোগাযোগের কথা না জানতে পারে|
এবার মেয়েটার বিদায় নেবার পালা|ও ওর স্পেসশিপে চড়ে বসল|যাবার আগে আমি ওর নাম জিজ্ঞাসা করলাম|ওর নাম জিপসী|আর আমার নাম ও আমার কাহিনীর মধ্যেই জেনেছে|ও চলে গেল পৃথিবীতে|
পৃথিবীকে নিয়ে আমার এত দিনের গবেষণার ফলাফল পেলাম আজ|আজ আমার গবেষণা সার্থক|এখন শুধু অপেক্ষা আমাকে দিয়ে করানো ওদের পরিকল্পনায় তৈরি বিশেষ অপারেশন জন্য|

কিছুদিন পর।
আজ আমার শরীরের শেষ সার্জারি।গবেষণাগারে আমাকে রাখা হয়েছে।আমার আশেপাশে সব বড় বড় যন্ত্রপাতি।
কিছুক্ষণ পর আমার বস এসে বলল_
_Are you ready?
_Yes boss.
আমার শরীরকে অবস করা হলো।শুরু হলো অপারেশন।আমার হতে কেটে ফেললো।তারপর শরীরের মধ্যে কি যেন একটা তরল পদার্থ পুশ করাল।
কিছুক্ষণ পর আমার বুক চিরে ফেলে একটা ছোট্ট মেশিন বসিয়ে আবার আগের মত সব সেট করে দিল।
এবার আমাকে ওরা সেন্সলেস করিয়ে দিল।তারপর আর মনে নেই।
জ্ঞান ফিরতেই দেখলাম একটা বেডে শুয়ে আছি।উঠে বসতে গেলাম, হঠাৎ মাথার মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠল।মাথার মধ্যে কিছুটা ব্যাথা অনুভব করলাম।বুঝলাম আমার মাথাতেও সার্জারি করা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর আমার এক সঙ্গী রুমের মধ্যে এলো।হাতে একটা বাক্স।ওটা টেবিলের ওপর রেখে বলল_
_ তুমি এখন সম্পূর্ণ পারফেক্ট।আমাদের কাজ শেষ।এই বক্সটা খুলে দেখ।এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার শেষ সাহায্য।আর আমাদের এতো দিনের বন্ধুত্বের উপহার।
ও চলে গেল।ওর নাম L9k0।
***
আমি বক্সটা খুলার জন্য হতে নিলাম।যখনই খুলতে যাব, ঠিক তখনি একটা সিগনাল পেলাম।সিগনালটা এসেছে পৃথিবী থেকে আর পাঠিয়েছে জীপসি।
সিগনালটা দেখেই আমি চমকে গেলাম।ও ইমার্জেন্সি ভাবে সিগনালটা পাঠিয়েছে।
এই মূহুর্তে আমার সাহায্য ওর প্রয়োজন।একদল এলিয়েন পৃথিবী দখল করতে আসছে।আর ওরা এতটা শক্তিশালী যে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের পক্ষে কোন ভাবেই ওদেরকে প্রতিহত করা সম্ভব না।
এই মূহুর্তে কেউ কিছু না করতে পারলে পৃথিবীর মানব সভ্যতা ওরা মাটিতে মিশিয়ে দিবে।
আমি খুব দ্রুত রুমের বাইরে বেরিয়ে গেলাম।কিন্তু একি?
আমার কলোনির সকল এলিয়েন একত্রিত হয়েছে আমার রুমের সামনে।একটা স্পেসশীপ চোখে পড়ল।আমার বস ওটার পাসে দাড়িয়ে আছে।
আমি কাছে গেলাম।বস বলল_
_তোমার ওপরে আমাদের সকল সার্জারি শেষ।এখন তুমি এক বিশেষ ক্ষমতার অধিকারি।তোমার শরীরের শেষ সার্জারিতে তোমাকে এক বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছি।আর সেটা হলো, তুমি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১বিলিয়ন আলোকবর্ষ পথ অতিক্রম করতে পারবে।তুমি এখন পৃথিবী থেকে ৬হাজার বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে আছ।এই মহাকাশ দিন দিন একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাওয়াই আমার এখন এতটা দূরে চলে এসেছি।
তুমি হয়ত জেনে অবাক হবে, একদল এলিয়েন পৃথিবী দখল করতে গেছে।পৃথিবীর কেউ তাদেরকে প্রতিহত করতে পারবেনা।আর ওদেরকে একমাত্র তুমিই প্রতিহত করতে পারবে।আর সেভাবেই তোমার শরীরে আমরা সার্জারি করেছি।এখন তুমি যাও রক্ষা কর তোমার গ্রহকে।

আমি পৃথিবী থেকে মাত্র কয়েক’শ আলোকবর্ষ দূরে আছি।শত্রুপক্ষ পৃথিবী থেকে মাত্র কয়েক লক্ষ কিমি দূরে আছে।
আমাকে খুব সাবধানে এগোতে হবে।কারণ ওরা যদি আমার উপস্থিতি একবার বুঝে ফেলে, তাহলে ওরা পৃথিবীর ভিতরে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালানো শুরু করে দেবে।কারণ ওরা আমাকে চেনে।

এখন আমাকে একটি কৌশল বের করতে হবে।কারণ হাতে সময় খুব কম।আর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ওরা পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে যাবে।আর পৌঁছালেই… …

নাহ্, কিছু একটা করতেই হবে।হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ল।আমার বন্ধু আমাকে একটা বাকশো উপহার দিয়েছিল।আমার বিশ্বাস ওটাতে এমন কিছু আছে যা শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে সাহায্য করবে।

বক্সটা আমার স্পেসশীপেই আছে।আমি ওটা বের করে বাক্সটা খুললাম।ভিতরে একটা ঘড়ি আর একটা টাইম মেশিন।আমার বুঝতে বাকি রইলা নে যে একটা টাইম বোমা।তবে এটা সাধারণ কোন ক্ষমতার বোমা না।
এটা প্রধানত কাজ করে মধ্যকর্ষণ শক্তিতে।এটা এমন ভাবে তৈরা করা হয়েছে যা নিজের মধ্যকর্ষণ শক্তির বলে কোন গ্রহকে মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে নিজের কাজে টেনে আনতে সক্ষম।আর কাছে টেনে আনতে পারলেই টাইম বোমাটি ব্লাস্ট হয়ে যাবে।

তবে শুধু গ্রহ না।মহাকাশের সবকিছু ধ্বংস করতে সক্ষম।

এখন আমাকে ওদের দলে ঢুকতে হবে।

আমি এখন শত্রুদেরকে দেখতে পাচ্ছি।ওরা পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে গেছে।

এখন ওদের দলে আমাকে ছদ্মবেশে ঢুকতে হবে।আমার কাছে একটা পিস্তল আছে।যেটার বুলেট তৈরি করা আলোর ফোটন কণা দিয়ে।আমাকে এটাই ব্যবহার করতে হবে।
আমি শত্রুপক্ষের আরও কাছে গেলাম।একটা ভাসমান উল্কা পিন্ডের আড়ালে থেকে ঐ বুলেট উপরের দিকে ছুড়লাম।কিছুদূর গিয়ে একটা গোল আলোর সৃষ্টি হল।আর তা নজরে পড়লো শত্রুদের একজনের।সে আলোর উৎস ধরে আমার দিকেই এগিয়ে আসল বিষয়টা দেখার জন্য।আর ওদের দলে ঢুকার জন্য এটাই আমার ফাঁদ ছিল।

আমি ওকে মেরে ফেলে ওর পোশাক পরে আর স্পেসশীপটা নিয়ে ওদের দলে ঢুকলাম।

আর এর আগে টাইম বোমটা আমার স্পেসশীপ রেখে পৃথিবী থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে একটা গ্রহের দিকে ছেড়ে দিলাম।
এখন শুধু আমার হাতের ঘড়িটার খেল বাকি।

আমি ওদের দলে ঢুকে পড়েছি।এখন শুধু ওদের ডোমের মধ্যের প্রাণ ল্যাবরেটরিটা খুঁজে পেতে হবে।আর ঐ ল্যাবরেটরিটা শেষ করতে পারলেই সব শত্রু শেষ।

আমি ওদের নজর এড়িয়ে ডোমের মধ্যে ঢুকলাম।এখন কোনটা প্রাণ ল্যাবরেটরি সেটা খুঁজতে লাগলাম।ওটা খুঁজতে খুব বেশি সময় লাগলনা।আমি হাতের ঘড়িটা খুলে যেই ল্যাবরেটরির দেয়ালে লাগাতে যাব হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন আমার জোরে পিঠে আঘাত করল।

আমি ছিটকে দূরে গিয়ে পড়লাম।দেখলাম শত্রু পক্ষের একজন আমাকে দেখে ফেলেছে।আমি চোখের পলকে একটা পিস্তল বের করে ওর হৃৎপিন্ড ভেদ করে দিলাম।কিন্তু ওর কাছেই ছিল একটা বাটন।ওটা চাপতেই পুরো ডোম জুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করে দিল।বুঝলাম এখন শত্রুপক্ষ আমার উপস্থিতি টের পেয়ে গেছে।ঠিক এই মুহূর্তে কিছু না করতে পারলে ওরা পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলবে।ইতঃমধ্যে ওরা পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছে।
আমি খুব দ্রুত ঘড়িটা ল্যাবরেটরির দেয়ালে সেট করে দিয়ে ১০সেকেন্ড সময় তুলে দিয়ে ঘড়িটা Start করে দিলাম।

আর আমি দ্রুত আমার গতি বাড়িয়ে দিয়ে মার্স এর কক্ষপথে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ওদিকে আমার স্পেসশীপটি প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ আলোকবর্ষ পথে পৌছে গেছে।আর এদিকে ঘড়ির সেকেন্ড কমে আসছে।এখন শুধু ঘড়ির সেকেন্ড গুনছি আমি।
9.8.7

6

5

4

3

2

1

0
_
বুম করে একটা শব্দ হল।
প্রবল মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে শত্রু পক্ষের সকল স্পেসশীপ সহ পুরো ডোমকে টেনে নিয়ে গেল ঘড়িটি ঐ টাইম বোমটির দিকে।

আর কিছুক্ষণ পর বিকট একটা শব্দে পুরো শত্রুপক্ষের অস্তিত্ব মহাশূণ্যে বিলিন করে দিল।

**
আমার কাজ শেষ।পৃথিবী এখন শত্রুমুক্ত।
ওদিকে জীপসি অপেক্ষা করছে।
প্রায় ৫ বছর পর আমি আমার গ্রহ পৃথিবীতে ফিরে যাচ্ছি।

খবরটি 337 বার পঠিত হয়েছে

সম্পাদক-প্রকাশক আলহাজ্ব ভিপি মঈন তুষার । যোগাযোগ +880 01933609075 মেইল করুন daily.bangladesh.bani@gmail.com