শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

সেই শিক্ষকের বাড়িকে পাখির অভয়াশ্রম ঘোষনা

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া
অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিং বিডি. কম এ সংবাদ প্রকাশের পর কলাপাড়ায় সেই শিক্ষকের বাড়িকে পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষনা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের শিক্ষক আখতারুজ্জামানের বাড়িতে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির কলোনী নামের একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে বাড়িটির নাম করন করা হয় ‘বিহঙ্গ বিলাস’। এসময় কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক, পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ নয়ন কারকুন ও অ্যানিমেল লাভার্স অফ কলাপাড়া শাখার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপদ আশ্রয় ও পরম মমতার কারনে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পূর্ব মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বাড়িতে বাসা বানিয়ে বসবাস করছে হাজারো পাখ-পাখালি। প্রতিনিয়ত সাদা বক, পান কৌঁড়ি আর বাদুরের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে বাড়িটি। পাখির এ অবাসস্থল নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাইজিং বিডি.কম এ সংবাদ প্রকাশের পর এমন পদক্ষেপ নেয় সরকার। পূর্ব মধুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ আমাদের বাড়িতে পাখপাখালী বসবাস করে আসছে। পাখিগুলো বাড়িতে বাস করায় আমরা বিরক্ত না হয়ে বরং পাখিগুলোকে যাতে কেউ বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সবসময় নজর রাখি। এছাড়া অনেক সময় পাখি অসুস্থ হয়ে পড়লে সেগুলোকে চিকিৎসা করি। পাখির মলমুত্রে অনেক দুর্গন্ধ। বাড়িতে প্রায় সময়ই সুগন্ধি সিটিয়ে থাকতে হয়। তারপরও আমার ঘরের সব সদস্য পাখি প্রেমী হয়ে উঠেছে। আজ আমার বাড়িকে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এতে আমি নিজে গর্বিত। প্রায় সময়ই দর্শনার্থীরা আমার বাড়িতে পাখি দেখতে আসে। সবাইকে আমি সাধুবাদ জানাই। অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ আহসান বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রচারের পর এ বাড়িটি আমাদের নজরে আসে। পরে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করি। আজ বাড়িটিকে স্বীকৃতি স্বরূপ পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। শিক্ষক আখতারুজ্জামানকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করব। কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদিক বলেন, শিক্ষক আখতারুজ্জামানের পাখির প্রতি ভালোবাসা সত্যিই বিরল। বিভিন্ন পত্রিতায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে এবং আমি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করি। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িটিকে পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করার জন্য বলা হয়। আজ আমরা সেই বাড়িতে গিয়ে এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যদের সহায়তায় সেই বাড়িতে একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে দিয়েছি। সরকারিভাবে তাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরো পড়ুন

ভোলায় ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম

ভোলা প্রতিনিধি ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ছয় পা বিশিষ্ট একটি বিরল গরুর বাছুরের জন্ম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *