মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬

নেছারাবাদে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৬ নম্বর দৈহারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সার্থক সুতার (২) নামে এক শিশুর ডোবায় পড়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃ/ত্যু হয়েছে। সে ওই এলাকার সৌরভ সুতারের ছেলে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় সবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর তাকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রায় দুই ঘন্টা গ্রামের চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ডোবা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. তাওহীদ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

আরো পড়ুন

লালমোহনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

আজিম উদ্দিন খান, লালমোহন, ভোলা  “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে …

One comment

  1. মাত্র দুই বছরের শিশু সার্থক সুতারের মৃত্যু আমাদের সামনে আবারও এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে আমাদের অসচেতনতা আর সামান্য অসতর্কতা কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। একটি পরিবারের হাসি-খুশির মুহূর্ত কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই শোকে পরিণত হয়, এই ঘটনাই তার নির্মম উদাহরণ।

    গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ডোবা, পুকুর, খাল এসব যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এগুলোই ছোট শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা। সার্থকও তেমনই সবার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসে গল্প করছিলেন একটি স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বিপদ।

    এই ঘটনা আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা কি শিশুদের যথেষ্ট নজরদারিতে রাখছি? আমাদের বাড়ির আশেপাশে থাকা জলাশয়গুলো কি নিরাপদ? শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কতটা সচেতন?

    বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ডুবে যাওয়ার ঘটনা শোনা যায়, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। অথচ সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন বাড়ির আশেপাশের ডোবা বা পুকুর ঘেরা দেওয়া, শিশুদের একা বাইরে যেতে না দেওয়া, এবং সবসময় প্রাপ্তবয়স্কদের নজরে রাখা।

    এছাড়া, সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগও জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উচিত ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়গুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার, সতর্ক হওয়ার যাতে আর কোনো সার্থকের জীবন এভাবে থেমে না যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *