ফাহিম ফিরোজ //
দরজায় কড়া নারছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ। চলছে প্রত্যাহারের পর্ব। এরই মধ্যে প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হচ্ছে কানাগুশা। কে কেমন প্রার্থী। কার ধন সম্পদ বেশি। কে কত মামলার আসামী। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)-এর হলফনামা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, বরিশাল-২ আসনে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামী হচ্ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তিনি ইতিপূর্বে ফৌজদারী ৮ মামলায় খালাস হয়েছেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা ৫ টিসহ ৬টি মামলা চলমান রয়েছে।
বরিশাল-২ আসনে এই প্রার্থী নিজেকে ‘রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক’ দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে ঝুলে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৫টি গুরুতর মামলা। এছাড়া রাজনীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও জমি জমা করা নিয়ে জনমনে নানা নেতিবাচক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দুদকের মামলার বেড়াজালে প্রার্থী:
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরদার সান্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ৫টি মামলাই দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা এই মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এতো মামলা থাকায় সচেতন ভোটারদের মধ্যে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, জনগণের সেবক হতে চাওয়া ব্যক্তির নিজের বিরুদ্ধেই যখন সম্পদ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তখন তিনি কতটুকু স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন।
‘সমাজসেবায়’ আলাদিনের চেরাগ:
হলফনামায় সরদার সান্টু তার পেশা হিসেবে লিখেছেন ‘রাজনীতি এবং সমাজসেবা’। কিন্তু কোনো লাভজনক ব্যবসা ছাড়াই তার ও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দেখে খোদ এলাকাতেই শুরু হয়েছে হাস্যরস।
কোটি টাকার সম্পদ:
তার ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, সান্টুর নিজের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৭৭৩ টাকার বেশি। আর তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৯৬ টাকারও বেশি সম্পদ। সন্তানের নামে ১ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ২৮৫ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে।
ব্যাংকে মাত্র ৬ হাজার, হাতে ৯১ লাখ টাকা!
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সরদার সান্টুর ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চরম অনাস্থা লক্ষ্য করা গেছে। তার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে মাত্র ৮ লাখ ৫১ হাজার ৫১৫ টাকা। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে তার নিজের কাছে নগদ জমা রয়েছে ৯১ লাখ ৬২ হাজার ২৫৮ টাকা। একইভাবে তার স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৫ টাকা। নির্বাচনী এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে-ডিজিটাল লেনদেনের যুগে একজন রাজনীতিবিদ কেন ব্যাংকের বাইরে এতো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ঘরে মজুত রেখেছেন?
জমির পাহাড়: তার ১৬ বিঘা কৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ২ হাজার ২৮০ টাকা এবং ১টি ভবনের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ৮টি দালান বা অ্যাপার্টমেন্টসহ একটি প্রেট্রলপাম্পের মালিকও তিনি ও তার পরিবার।
জনমনে প্রশ্ন:
উজিরপুর ও বানারীপাড়ার স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে, যিনি সারাক্ষণ মামলার চাপে থাকেন এবং যার আয়ের উৎসের সাথে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাকে ভোট দেওয়া কতটা নিরাপদ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির ৫টি মামলা মাথায় নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর জন্য ভোটারদের আস্থা অর্জন করা বেশ কঠিন হবে।
উল্লেখ্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরিশাল-২ আসনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যদি কেউ প্রত্যাহার না করেন তবে এই ৯ জন প্রার্থীর মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন জনতার এমপি।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।