শনিবার, মে ২৩, ২০২৬

চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার ছয় তলা থেকে পড়ে ছাত্রী গুরুতর আহত

খান আব্বাস : বরিশাল চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার ছয় তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে এক মাদ্রাসা ছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এটি একটি সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে ভিন্ন কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি; বরং রহস্যের গভীরতা আরও বেড়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি-ছাত্রীটি নিজেই ওপর থেকে লাফ দিয়েছে; অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ-সহপাঠী ও মাদ্রাসার অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ও দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর মা রেশমা আক্তার কান্না কণ্ঠে জানান, ঘটনাটি ঘটেছে চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার ৬ তলায়, যেখানে তার মেয়ের ক্লাস চলতো। তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন,আমার মেয়ে কি ৬ তলা থেকে নিজে পড়ছে, নাকি কেউ ওরে ফেলে দিছে-সেটা আমি জানি না। মাদ্রাসার বুয়া ও হুজুররা আমার মেয়েকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি ফোন পেয়ে হাসপাতালে আসি। ও আমার একমাত্র মেয়ে, এখন আমার মাথায় কিছু কাজ করছে না। আমি এখন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে ঘটনাটিকে স্রেফ ‘আত্মহত্যা’ বা ‘স্বেচ্ছায় লাফ দেওয়া’ হিসেবে মানতে নারাজ তাদের পরিবার। হাসপাতালে উপস্থিত ওই ছাত্রীর এক নারী আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসার ভেতরে সহপাঠী  ও মেয়েদের সাথে ভুক্তভোগীর তীব্র দ্বন্দ্ব ও মানসিক চাপ চলছিল।
তিনি অভিযোগ করেন,ওদের রুমে যারা থাকে, সেই মেয়েদের সাথে ওর দ্বন্দ্ব ছিল। এমনকি মাদ্রাসার ম্যাডামের সাথেও কিছু একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। ম্যাডাম ওকে একটা দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য মেয়েরা সেটার বিরোধিতা করছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই কোনো ঘটনা ঘটেছে। এটা হত্যাচেষ্টা কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর কথা বলে হাসপাতালের বাইরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই মাদ্রাসা পক্ষে থেকে এক শিক্ষক তাকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যান।
তবে একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, বাস মে রাত আনুমানিক ৯ টার পর ঐ শিক্ষার্থী রিমি চরমোনাই মহিলা মাদ্রাসার ছয় তলা র ব্যালকনিতে এসে লাফিয়ে নিচে পড়ে। সেখানে নিচে থাকা বালির উপর থেকে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে রাত সাড়ে দশটার দিকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সকাল ৯ টার পর বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসলে চরমোনাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিউজ না করার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি আসার পর হঠাৎ ওই রোগী হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যায়।
তবে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং কৌশলে মূল ঘটনা আড়াল করতেই রোগীকে তড়িঘড়ি করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সরা জানান, সাধারণত কোনো রোগীকে ঢাকায় স্থানান্তর (রেফার) করতে হলে হাসপাতালের চিকিৎসকরাই সেই প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে বাইরে নিয়ে আর ফিরিয়ে আনা হয়নি। যেহেতু এটি একটি পুলিশ কেস (আইনগত বিষয়), তাই  কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য না দিয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালের দাপ্তরিক খাতায় ওই রোগীকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন জানান, মাদ্রাসা থেকে লাফিয়ে পড়া ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকায় রেফার করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি কেন বা কীভাবে ঘটেছে, তা আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।

আরো পড়ুন

নলছিটিতে শ্রমিক দল সভাপতি মিজানের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সূর্য্যপাশা গ্রামের এক গৃহবধূকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *