বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
oplus_2

টিসিবি পণ্য কিনতে মানুষের ভিড়: নিম্নমানের পণ্য দেয়ার অভিযোগ

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ 
নারী পুরষের দীর্ঘলাইন প্রায় প্রতিটি টিসিবি পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রে। দোকানঘর ও ভ্রাম্যমান ট্রাকের সামনে পিছনে মানুষের পণ্য কেনার প্রতিযোগিতা ক্রমশ দীর্ঘ  হচ্ছে। আর এ সুযোগে অত্যন্ত নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দিচ্ছে টিসিবি বা ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ নামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিষ্ঠানটি। গত জানুয়ারী থেকেই চলছে চাল ও ডাল নিয়ে কারসাজি। মার্চে যুক্ত হয়েছে খেজুর ও চিনি।
গত ৩ মার্চ থেকে বরিশালের প্রায় ১৫০টি স্থানে ডিলার ও ভ্রাম্যমান ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে টিসিবি। বরিশাল নগরীতে মোট ১১১ জন ডিলারের মাধ্যমে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি করে ছোলাবুট ও খেজুর ৭৬০ টাকার প্যাকেজে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও নগরীতে ১৫টি ও বিভাগের পাঁচ জেলায় ৫টি করে ২৫ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে সরজমিনে ৪ মার্চ বরিশালের ১৩,  ১৫ ও ২১ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির ডিলারদের মাধ্যমে যেসব চাল, চিনি, ডাল ও খেজুর দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। গত জানুয়ারীতেও এই ডাল দেওয়া হয়েছে জানিয়ে একজন ক্রেতা বলেন, এই চিকন ও গুড়িদানার ডাল খুচরা দোকানে ৯০ টাকা কেজি, এটি সেদ্ধ হতে অনেক সময় নেয়।
আবার খেজুর ও ছোলাবুট গতমাসে পেলেই উপকার হতো, এখনতো রোজা অর্ধেক পার হয়ে গেছে দাবী করে কেউ কেউ মহিলা ক্রেতা বললেন, এবার এতো বাজে খেজুর, যে ঘরে বাচ্চারা খায়না। গতবছর ভালো মানের খেজুর ছিলো। গত জানুয়ারীর পর মার্চেই পুনরায় টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানান ডিলারদের অনেকে। সাধারণ মানুষ যাদের কার্ড রয়েছে তারা ডিলারের দোকনঘর থেকে এসব পণ্য নিচ্ছেন অনেকটা মুখবন্ধ রেখেই। আবার যাদের কার্ড নেই তারা ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে পারছেন বলে জানালেন টিসিবি কর্মকর্তা শতদল সরকার মণ্ডল । মান খারাপ, ওজনে কম ইত্যাদি গুঞ্জন থাকলেও সরাসরি কারো মধ্যে কোনো প্রতিবাদ নেই। যেন অজানা একটা আতঙ্ক সকলের চোখেমুখে। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে চাল, ডাল, চিনি, তেল, ছোলাবুট ও খেজুর দেওয়া হচ্ছে, প্যাকেজ ৭৬০ টাকা। অথচ গতবছর ছিলো ৫৫৯ টাকা। গতবছরের তুলনায় ২০০ টাকা বেশি। তারউপর গত রমজানের প্রতিটি পণ্য ছিলো ভালো মানের এবং স্বাস্থ্য সম্মত। এবারের টিসিবি পণ্য দেখেই চোখ আঁতকে উঠে। মনে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক।
একজন ক্রেতাতো বলেই বসলেন- তেল আর চাল নিতে এসেছি। এসে দেখি খেজুর, ছোলাবুটও নিতে হবে। তাই নিচ্ছি। প্রতিবাদ কি করবো, সবাই নিচ্ছেতো। এই কার্ডটিও যদি বাতিল হয়ে যায় তাহলে ফ্যামিলি কার্ড দেবেনা। যতটা না ফ্যামিলি কার্ডের ভয়, তারচেয়ে বেশি ভয় পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জোর গুজব চলছে চারিদিকে। বিশেষ করে ইরান ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধে তেলের বাজার এখন অস্থির। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাতছানি চীন ও কোরিয়ার অবস্থানে স্পষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার দর বৃদ্ধিতে বিএনপি সরকারের খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তার দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করছেন। নিজ লোকদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ তারেক রহমান গতকালই চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। পলাতক শেখ হাসিনার মতোই সবকিছুতে এই মুহূর্তে তারেক রহমানকেই বক্তব্য দিতে হচ্ছে। এটিকে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। টিসিবি পণ্য কিনতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকসময় অপেক্ষা করছিলেন বৃদ্ধ নাজমুল সিদ্দিকী। ক্ষোভের সাথেই বললেন আরো অনেক কথা।
এদিকে টিসিবির ডিলাররা জানালেন, গত জানুয়ারীর পর ৩ মার্চ থেকে পুনরায় টিসিবির পণ্য পেয়েছেন তারা। টিসিবি বরিশাল থেকে৷ যেসব পণ্য দেওয়া হয়েছে তা এগুলোই। এখানে তাদের কিছু করার নেই।
তবে সকলেই একবাক্যে স্বীকার করলেন গত বছরের রমজানে যে খেজুর ও ডাল দেওয়া হয়েছে তা এর তুলনায় অনেক মানসম্মত ছিলো। খুচরা বাজারে গত বছর বিতরণ করা খেজুরের দাম ছিলো ৮০০ টাকা। এবছর যে খেজুর দেওয়া হয়েছে তা খুচরা বাজারে ২০০/৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মুসরি ডাল, এটি গুড়িদানা, সহজে সেদ্ধ হয়না, খোলা বাজারে এর দামই সবচেয়ে কম। গতবছর রমজানে টিসিবি থেকে লাল চিনি দেওয়া হয়েছিল। এবছর সাদা নিম্নমানের চিনি দিতে দেখা গেছে টিসিবি কেন্দ্রগুলোতে। এ বিষয়ে বরিশালের সংশ্লিষ্ট  প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে টিসিবি কর্মকর্তা শতদল সরকার মণ্ডল বললেন, সরকার থেকে যখন যেভাবে আসে, আমরা সেভাবেই বিতরণ করছি। খেজুর যেটি দেওয়া হচ্ছে এটি অত্যন্ত উন্নতমানের। আপবি বাজার যাচাই করে দেখুন।  খোলা বাজারে এটি ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ৪৬০/৫৬০ টাকার স্থানে ৭৬০ টাকার চমৎকার ভাবে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি, ডাল, ১ কেজি চিনি, ২ লিটার তেল, সোলাবুট ও খেজুর ১৫০/- টাকার হিসাব মিলিয়ে দিলেন শতদল মণ্ডল।
তার পরামর্শ মতো খোলা বাজারে গিয়ে টিসিবি থেকে পাওয়া খেজুর বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। কেউই কিনতে রাজী নয় এই নিম্নমানের খেজুর। তবে খোলা বাজারে একইরকম দেখতে আরও একটু উন্নতমানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজিতে।

আরো পড়ুন

 মেয়েদের অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারনের অভিযোগ ববি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে- শাস্তি দাবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তূর্য্য প্রিনাম বাড়ৈর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া নারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *