সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিতে উত্তাল ববি, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ, সমঝোতায় যান চলাচল স্বাভাবিক

খান আব্বাস, বরিশালঃ 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম হোসেন তেলবাহী লরির চাপায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার ও স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িসহ ৪ দফা দাবিতে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। টানা দুই ঘণ্টা অবরোধের ফলে দক্ষিণবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিবহন মালিকপক্ষের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি দ্রুতগামী তেলবাহী গাড়ি শিক্ষার্থী তামিম হোসেনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘাতক গাড়ির মালিকপক্ষ ১৯ এপ্রিল আজ সকাল ১০টার মধ্যে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বেলা ২টা থেকে মহাসড়ক আটকে দিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকেন। তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো:
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা।দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক চালককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা।মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা।আহত শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের চিকিৎসার ব্যয়ভার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের সহপাঠী হাসপাতালে লড়ছে, অথচ মালিকপক্ষ সময় দিয়েও আসেনি। প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, বাস্তবায়ন করে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।আরেক শিক্ষার্থী আকিবুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, সড়কে আর কত রক্ত দিলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?
তীব্র গরমের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা ও বরিশাল-পটুয়াখালী রুটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। কুয়াকাটাগামী যাত্রী আব্দুল হালিম জানান, দীর্ঘক্ষণ রোদের মধ্যে বাসে বসে থাকা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবহন মালিকপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক হিসেবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান,শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা মালিকপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে বসেছি। সব পক্ষের মধ্যে একটি আন্তরিক সমঝোতা হয়েছে। মালিকপক্ষ চিকিৎসার খরচ ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়ে মহাসড়ক ছেড়ে দেয়।
বিকেল ৪টার পর থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে তারা পুনরায় কঠোর

আরো পড়ুন

কলাপাড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে চারা, বীজ ও সার বিতরণ 

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু , কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *