নিজস্ব প্রতিবেদক : মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং অনবরত মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে ইসরাত জাহান পলি (১৬) নামের এক কলেজ ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হলে গত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালের মর্গে নিহতের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত পলি রাজাপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সে উপজেলার মীর এড়াহাট (উটিয়া হাট) এলাকার ফকির বাড়ির বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন ও প্রবাসী রিনা আক্তার বিউটির মেয়ে। মা প্রবাসে থাকার কারণে পলি তার মামা বাচ্চু হাওলাদারের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওইদিন পলি তার মামাতো ভাইকে নিয়ে উঠানে নামলে প্রতিবেশী সাকিব, তানিয়া, সাথী বেগম, হৃদয়, মাসুম এবং লাইজু সহ প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে নানা আপত্তিকর ও আজেবাজে মন্তব্য করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা পলি এবং তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। মারধরের একপর্যায়ে পলি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে এবং তার গলার চেইন ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা উল্টো নিজেদের মাথা ফাটিয়ে পলি ও তার পরিবারের নামে থানায় মামলা করার ভয় দেখায়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষরা প্রতিনিয়ত পলিকে দেখে উস্কানিমূলক আচরণ, গালিগালাজ ও নানাভাবে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করে আসছিল। এমনকি লাইজুর ছেলে বিদেশ থেকে ফোন করে পলিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা খরচ করার অহংকার দেখায়। মা বিদেশে থাকা এবং মামার বাড়িতে আশ্রিত থাকার কারণে প্রতিপক্ষের এই অনবরত মানসিক নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পেরে গতকাল রাতে আনুমানিক ১০টার দিকে পলি ইঁদুর মারার বিষ পান করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই শিক্ষার্থী।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পলির সাথে ঝালকাঠির নলসিটি উপজেলার কালিজিরা এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ এপ্রিল প্রতিপক্ষরা পলির মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে সে ওই যুবকের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে পলির পরিবারের দাবি, প্রেমের কোনো জটিলতা নয়, বরং ১৮ এপ্রিলের হামলা, মোবাইল কেড়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও লোকলজ্জার কারণেই পলি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
এই ঘটনায় পলির মামার পরিবার প্রতিপক্ষ লাইজু ও তার পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।