শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

প্রাণ ফিরে পেলো মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনায় মৃত লেক

ফাহিম ফিরোজ : একসময় যেখানে বিকেলের বাতাসে স্বস্তি খুঁজতেন স্থানীয়রা, সেই লেকপাড়ই পরিণত হয়েছিল দুর্গন্ধ আর ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী এলাকার ডি-ব্লক সংলগ্ন লেকটি দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্যে ভরে থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আশপাশের মানুষ। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল, মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বের হওয়াও যেন ছিল দুর্ভোগের আরেক নাম।

দিনের পর দিন এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করতে থাকা এলাকাবাসী অবশেষে আশ্রয় নেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অনলাইন হেল্পলাইনের। সরাসরি অভিযোগ পৌঁছে যায় বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের কাছে। আর সেই অভিযোগের পরই দ্রুত নড়েচড়ে বসে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন।

প্রশাসকের নির্দেশে বিসিসির প্রকৌশল বিভাগের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লেক ও আশপাশের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তারা সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা নেন।

এরপর শুরু হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন ব্যবহার করে টানা দুই থেকে তিন দিন ধরে লেক থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ করেন। দীর্ঘদিনের পচা বর্জ্যে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়া লেকটি এখন অনেকটাই ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক রূপ।

স্থানীয়রা জানান, আগে লেকপাড় দিয়ে চলাচল করাই ছিল কষ্টকর। দুর্গন্ধে পথচারীরা নাক চেপে চলতেন। মশার উপদ্রবের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। এখন লেকটি পরিষ্কার হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে।

রূপাতলীর বাসিন্দা ফারুক হাওলাদার বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে লেকটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে বাচ্চা ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পেয়েছে। অনলাইন হেল্পলাইনে অভিযোগ দেওয়ার পর এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা সত্যিই খুশি।”

একই এলাকার বাসিন্দা নয়ন বলেন, “আগে এই সড়ক দিয়ে হেটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। লেকের পাশে গেলেই দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যেত না। বিসিসি টানা কয়েকদিন কাজ করে পুরো লেক পরিষ্কার করেছে। এখন পরিবেশ অনেক সুন্দর লাগছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের পরিষ্কার কার্যক্রম চালু থাকুক।”

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন,“নগরবাসীর সমস্যা দ্রুত সমাধানে সিটি কর্পোরেশন সবসময় আন্তরিক। অনলাইন হেল্পলাইনে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখি এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমরা গোটা নগরীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবো”

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অনলাইন হেল্পলাইনে অভিযোগ জানালে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক আস্থা তৈরি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের এমন তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আরো পড়ুন

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে অফিসে আসার দায়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *