মেহেরাব হোসেন রিফাত : ঢাকায় শিশু শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পরে বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মসজিদ গেট থেকে শুরু হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নথুল্লাবাদ গোলচত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বিএম কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল কলেজ অমৃত লাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। তারা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান। বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান নাঈম বলেন, “গত বছরও আমরা মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলাম।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার কার্যকর হয়নি। তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারও আজ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির শিকার হয়েছে শিশু রামিসা। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক।” তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাহেদ খান তার বক্তব্য বলেন, বিগত কয়েকটি মাস যাবত বাংলাদেশে ধর্ষণ চাঁদাবাজি হত্যা সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে সমাজ ছয়লাব হয়ে গেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি গত একটি মাসে পাঁচ জনের মত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অসংখ্য ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং এসবের একটিরও দৃশ্যমান কোন বিচার লক্ষ্য করা যায়নি, এসবের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে একটি বিচারহীনতার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বসবাস করছি যেখানে শহীদ ওসমান হাদীর প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড হওয়ার পরেও বিচারের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না, পাশাপাশি ধর্ষণের দায় স্বীকার করা আসামিকেও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রসমাজ বলতে চায় অতি শীঘ্রই বিচারহীনতার নামে এই জঘন্য সংস্কৃতি পরিবর্তন করে এবং আইন ও সংবিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় দ্রুত বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। যাতে করে বিচারহীনতার কারণে বাংলাদেশের আরেকটি শিশু বা আরেকটি মানুষের প্রাণ না যায়।
পাশাপাশি আমরা এও ঘোষণা দিচ্ছি আমাদের মা বোনদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে ব্যর্থ এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয় ভবিষ্যতে মানুষ আইনের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং জনগণ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। পরিশেষে বলতে চাই বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ এখনো সদা জাগ্রত আছে বাংলাদেশকে একটি ইনসাফ পূর্ণ রাষ্ট্র করার আগ পর্যন্ত ছাত্র সমাজ রাজপথে থেকে তাদের দাবি আদায় করবে ইনশাআল্লাহ।
বিএম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, গত ১৯ মে মিরপুর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই নির্মম ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে বাংলাদেশে আইন থাকলেও তার সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। বর্তমান সরকারের সময় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। শতাধিক আসামি গ্রেফতার হলেও এখন পর্যন্ত একটি মামলারও চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, যা প্রশংসনীয়। তবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছি।
ধর্ষকদের পক্ষে শুধুমাত্র অর্থের জন্য আদালতে দাঁড়ানো কিছু আইনজীবীর ভূমিকাও নিন্দনীয়। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কোনো ধরনের সহানুভূতি নয়, কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই ধর্ষণ মামলার বিচার সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিশ্চিত করতে হবে। এসময় বক্তারা শিশু রামিসার হত্যাকারীসহ সকল ধর্ষকের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।