বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পল্লীবিদুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান’র কার্যকলাপে অফিসের কর্মচারীসহ উপজেলাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ উপজেলাবাসী। রয়েছে ভৌতিক বিলসহ অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ। এছাড়া, সরকারি নিয়মানুযায়ী সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও তার স্বেচ্ছাচারীতায় রাত ১০ টা পর্যন্ত চলছে পল্লীবিদুৎ অফিস। এতে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে। গভীর রাত অবধি অফিস চলায় বিশেষ বেকাদায় পরতে হচ্ছে মহিলা কর্মচারীদের। যেকোন সময়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পথে নামতে পারে অফিসের কর্মচারীসহ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এমন গুঞ্জনই উঠেছে উপজেলার সর্বত্র।
জানা যায়, পটুয়াখালী পল্লী বিদুৎ সমিতি’র কলাপাড়া জোনাল অফিসের নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে যোগদান করেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। অন্যান্য সময়ের চেয়ে গত জুন মাসে লোডশেডিংয়ের কারনে উপজেলাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রয়েছে ভৌতিক বিলসহ অতিরিক্ত বিলের একাধিক অভিযোগ। পুরোমাস জুড়ে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ না করলেও অফিসে বসেই তৈরী করছে ভৌতিক বিল। এদিকে, অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে একাধিক গ্রাহক। শীঘ্রই প্রতিকার না হলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে রাজপথে।
এছাড়া, সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করায় কর্মচারীদের মধ্যেও বিরাজ করছে নিরব ক্ষোভ। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও খামখেয়ালিভাবে রাত ১০ টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে বাধ্য করছে সকল কর্মচারীদের। এতে দূর-দূরান্তে থেকে আসা মহিলা কর্মচারীরা পরছে ব্যাপক বেকাদায়। অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে অনিয়মের কাজ চলছে কিনা এমন প্রশ্নও উঠছে জনমনে।
সূত্রে জানা যায়, নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদানের আগে বরগুনা সদর অফিসে ডিজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে ওই অফিসের কর্মচারীরাও বিদ্রোহ করেছে। কর্মচারীরা অতিরিক্ত অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর করেছিলো বলেও জানা যায়। এখন কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদান করেও তার পূর্ববর্তী কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। এখানেও যেকোন সময়ে বড় ধরনের বিদ্রোহ হতে পারে বলে অফিসের একাধিক কর্মচারীরা জানিয়েছেন। তবে, চাকরির ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না কেউ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলাপাড়া পল্লী বিদুৎ অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে তারা এই অফিসে চাকরি করছেন। এরআগে যেসকল ডিজিএম আসছে তারা কেহই এতো রাত পর্যন্ত অফিস চালায়নি। তাদের মতে, জুন ক্লোজিং এর আগেও হয়েছে কিন্তু বর্তমান ডিজিএম স্বেচ্ছাচারীভাবে অফিস চালাচ্ছে। তারা অতিশীঘ্র এই ডিজিএম’র বদলী চায়। অন্যথায় যেকোন সময়ে বিক্ষোভ করবে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন তারা।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রাহক সোনিয়া আক্তার জানান, তিনি নতুন ঘরের কাজ করায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবরের বাসায় ছিলেন। এজন্য গত মে মাসে তার মিটারটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিলো। অথচ তার নামে ভৌতিক বিল করেছে পল্লী বিদুৎ অফিস। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে তার সমাধান হয়। কিন্তু এই গ্রাহকের প্রশ্ন, ভৌতিক বিলের সমাধানের জন্য অফিসে যাতায়ত করতে যে খরচ হয়েছে সে টাকাগুলো কি অফিস কর্তৃপক্ষ দিবে? এধরণের হয়রানি থেকে রেহাই পেতে চায় এই গ্রাহকসহ সকল ভুক্তভোগীরা।
অপর এক ভুক্তভোগী টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ হ্যাট্রিক মেম্বর সোবহান বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার দোকানে আগে ৫-৬’শ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্তু এখন প্রায় দুই আড়াই হাজার টাকা বিল আসে। অফিসে অভিযোগ করলেও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। তিনি এধরনের অতিরিক্ত বিলের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
এসকল বিষয়ে পল্লীবিদুৎ সমিতি কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান বলেন, পল্লীবিদুৎ অফিসের লোকবল কম থাকায় ছোটো খাটো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে। তবে, অভিযোগ পেলে তা সমাধান করা হয়। অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, গতমাসে ঈদ মৌসুম হওয়ায় সবাই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করেছে তাই বিল বেশি হয়েছে। এছাড়া, জুন ক্লোজিংয়ের কারনে কর্মচারীরা নিজের ইচ্ছেতেই অধিক রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করছে। তবে, অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলেও তিনি স্বীকার করেন।
পটুয়াখালী পল্লীবিদুৎ সমিতি’র জিএম আবুল কাশেম বলেন, অতিরিক্ত কিংবা ভৌতিক বিলের বিষয়ে তিনি খতিয়ে দেখবেন। এছাড়া, অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার নিয়ম নেই। কারো হাতের কাজ বকেয়া থাকলে তা পরের দিন শেষ করবে। এসকল বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।