ফাহিম ফিরোজ : দিনের ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যা নামলে বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেককে ঘিরে মানুষের আনাগোনা বাড়ে। সেই চেনা লেকটিকেই এবার রাতের জন্য নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। লেকের চারপাশে ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে পদ্মফুলের আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ‘লোটাস লাইট’। বাতিগুলো স্থাপনের পর থেকেই নগরবাসীর কৌতূহল তৈরি হয়েছে—আলো জ্বললে কেমন হবে চৌমাথা লেকের রাতের দৃশ্য?
পদ্মফুলের আদলে তৈরি এসব বাতি লেকপাড়ের সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। পরিকল্পনা অনুযায়ী লাইটগুলো চালু হলে লেকের পানিতে আলোর প্রতিফলন, পাশের মিউজিক্যাল ফোয়ারা ও চারপাশের পরিবেশ মিলিয়ে চৌমাথা লেক পেতে পারে নতুন এক রাতের রূপ।
বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) জানিয়েছে, চৌমাথা লেককে ধাপে ধাপে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১৬টি লোটাস লাইট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পার্ক সংস্কার, বটগাছে ঝাড়বাতি স্থাপন, দর্শনার্থীদের বসার স্থান তৈরি, চারপাশে সবুজায়ন এবং ফুলের গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ মানবকণ্ঠকে বলেন, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতির এমন ব্যবহার অনলাইনে দেখে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন চৌমাথা লেককে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, ‘চৌমাথা লেকে পর্যায়ক্রমে ১৬টি লোটাস লাইট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পার্ক সংস্কার, বটগাছে ঝাড়বাতি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান, চারপাশে সবুজায়ন ও ফুলের গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মুরাদ হোসেনের দাবি, ঢাকার পর বাংলাদেশে বরিশালেই প্রথম এ ধরনের লোটাস লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
চৌমাথা লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনায় লোটাস লাইটের আগে যুক্ত হয়েছে মিউজিক্যাল ও ড্যান্সিং ফোয়ারা। গত মে মাসে ফোয়ারাটি চালু করা হয়। বর্ণিল আলো, সংগীত ও পানির নৃত্য দেখতে তখন থেকেই লেক এলাকায় মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়।
এবার ফোয়ারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে লোটাস লাইট। তবে এগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। লাইটগুলো চালু হলে চৌমাথা লেকের রাতের দৃশ্যপটে আরও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।
গৃহবধূ সানজিদা আক্তার বলেন, ‘চৌমাথা লেককে সুন্দর করে সাজানোর উদ্যোগটি ভালো। লাইটগুলো চালু হলে জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হবে। তবে এর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।’
হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, ‘লোটাস লাইটগুলো দেখতে সুন্দর। এগুলো চালু হলে লেকের পরিবেশ আরও ভালো লাগবে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
নগরবাসীর মতে, নাগরিক জীবনে বিনোদনের পাশাপাশি নান্দনিক পরিবেশেরও প্রয়োজন রয়েছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর মতো নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন স্থান নগরীতে খুব বেশি নেই।
তাই চৌমাথা লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। তবে তাদের প্রত্যাশা, শুধু লাইট ও ফোয়ারায় সীমাবদ্ধ না থেকে লেকের পানি পরিষ্কার রাখা, হাঁটার পথ উন্নত করা, বসার ব্যবস্থা বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে।
নগরবাসীর একটি অংশ চৌমাথা লেকের পাশাপাশি বিবির পুকুরপাড় ও পদ্মপুকুরকেও সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব স্থান উন্নয়ন করা গেলে বরিশাল নগরীতে নাগরিক বিনোদনের পরিসর আরও বাড়বে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘নগরবাসীর বিনোদন ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চৌমাথা লেককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লেক ও এর আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বিনোদন পরিবেশ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’
চৌমাথা লেকের চারপাশে এখন দেখা যাচ্ছে পদ্মফুলের আকৃতির সেই বাতিগুলো। এখনো তাদের আলো জ্বলেনি। কিন্তু স্থাপনের মধ্য দিয়েই যেন জানান দিচ্ছে—খুব শিগগিরই বরিশালের রাতের নগরদৃশ্যে যোগ হতে পারে নতুন এক অধ্যায়।
সৌন্দর্যবর্ধনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চৌমাথা লেক হয়ে উঠতে পারে বরিশাল নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।