ফাহিম ফিরোজ : বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগীয় শহর বরিশালে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো চিড়িয়াখানা। ফলে নগরীর শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও প্রাণিজগত সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নির্মল বিনোদনেরও তেমন সুযোগ তৈরি হয়নি। নগরীতে কয়েকটি পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র থাকলেও সেখানে প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য দেখার সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় বরিশাল নগরীতে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব চিড়িয়াখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। গত ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই চিঠিতে বরিশাল নগরীতে চিড়িয়াখানা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ প্রচারবহুল কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশাল সিটি করপোরেশন। প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮ লাখ মানুষের বসবাস। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, নদী-খালবেষ্টিত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাণবৈচিত্র্য বরিশালকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।
তবে এত বড় একটি বিভাগীয় শহরে এখনো কোনো চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত না হওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে যেখানে বিভিন্ন বিনোদন ও শিক্ষামূলক স্থাপনা গড়ে উঠেছে, বরিশালে তেমন কোনো চিড়িয়াখানা নেই। ফলে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীরা প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ক্ষেত্রেও একটি আধুনিক চিড়িয়াখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা তৈরি, পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
বরিশালের গ্রীন সিটি পার্কে ঘুরতে আসা গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বলেন, “শিশুদের নিয়ে পার্কে আসি। এখানে তারা খেলাধুলা করতে পারে, সময় কাটাতে পারে। কিন্তু প্রাণী ও পাখি দেখার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি চিড়িয়াখানা হলে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি তারা অনেক কিছু শিখতে পারত।” তিনি বলেন, বরিশালে পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো আরও আধুনিক ও শিক্ষামূলক বিনোদনকেন্দ্র প্রয়োজন।
বেলস পার্কে ঘুরতে আসা বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন বলেন, “বরিশাল বড় একটি বিভাগীয় শহর। অথচ এখানে চিড়িয়াখানা নেই। ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে চিড়িয়াখানায় গিয়ে প্রাণী সম্পর্কে জানার সুযোগ পাওয়া যায়। বরিশালে এমন একটি চিড়িয়াখানা হলে শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “বরিশাল নগরীতে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চিড়িয়াখানা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের পাশাপাশি প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে তাদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, বরিশালের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদী-খাল ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত বিনোদন ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে একদিকে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে বরিশালের পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পাবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।