বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের ৪০ লাখ টাকার কাজে নয়-ছয়, ফাইল গায়েব

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের ৪০ লাখ টাকার ফাইল গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সি.এ মো: ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পের নামকাওয়াস্তে কাজ করে শিংহভাগ টাকাই আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সি.এ আরাফাতের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ডরমেটরি ভবনের সংস্কার দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক বন্ধু শফিকুল ইসলাম শফিক এর লাইসেন্স (শফিক এন্টারপ্রাইজ), উপজেলা ইউএনও অফিসের বাসভবনের সম্মুখ রাস্তায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে সহযোগী ব্যবসায়ী মো: মোজাম খান, মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ (সদর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি), ইউনএনও অফিস সংস্কারের নামে ১০ লাখ টাকা পাশ্ববর্তী উপজেলা কাউখালীর বন্ধু মেসার্স আল মাহামুদ এন্টারপ্রাইজ (কাউখালী ছাত্রদলের আহবায়ক) এর নামের ঠিকাদারী লাইসেন্সে মোট ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প বানিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌলশী মো: রাইসুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ও তৎকালীন ইউনএও (ফজলে রাব্বি)’র যোগশাযোশে ইউএনও (ডিভিও) এর একাউন্টে নেন এবং ইউএনও এর একাউন্টে বিল নিয়ে চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। তবে ঠিকাদারদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের সি.এ ইয়াসির আরাফাতের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক, লাইসেন্স চাইছে দিছি, তবে কি কাজ করছে বা করে নাই তা আমরা জানি না, আমাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন চেক নেয় নাই, বিল উত্তোলন করছে কিনা তা জানি না।

এদিকে বিধান উপেক্ষা করে উক্ত লাইসেন্সগুলোতে আর এফ কিউ দেখিয়ে চাপা টেন্ডার দিয়ে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ওই সব লাইসেন্স এ কাজ নেয় সি.এ আরাফাত। তবে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, এইসব কাজের নথিপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে গায়েব করেছে। কয়েকদিন আগে উপজেলা পরিষদে অডিট টিম আসলে তাদের কোন ফাইল দেখাতে পারে নাই,এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে অডিটর নূরে আলম বলেন, আমি তো একা যাইনি, তদন্ত করতে আমার টিম গিয়েছিল, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গিয়াছে, যেমন নাজিরপুর সদরে অবস্থিত পাকমঞ্জীল মাদরাসায় বরাদ্দ দেখিয়ে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছ, বৈরাগী এলাকায় প্রজেক্ট দেখিয়ে কাজ না করে বিল নিয়ে গেছে এছাড়া বহুবিধ অনিয়ম রয়েছে তার বিরুদ্ধে এসব নিয়ে আমি তদন্ত রিপোর্ট স্বাক্ষর করে আমাদের প্রধান কার্যালয় দাখিল করেছি, স্বাক্ষর হলে আপনাকে কপি পাঠিয়ে দিব।

এদিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফজলে রাব্বি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নাজিরপুর উপজেলা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে মনপুরা যান, বর্তমানে ফরিদপুরে কর্মরত রয়েছেন, তিনি বলেন, অফিস থেকে ফাইল গায়েব হওয়ার কথা না, আমার মনে হচ্ছে আপনাকে ফাইল দিবে না বলে ফাইল নাই এ কথা বলেছে, তবে আমি কেন ফাইল সাথে নিয়ে যাব, এটা তো অফিসের ফাইল, বেশ কয়েকদিন আগের কথা তো মনে নেই, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর ছাড়া তো আমি কোন ফাইলে স্বাক্ষর করি নাই, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাব।

এত সব অনিয়ম আর দূর্ণীতির অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সেই উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ মো. ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে মানুষিক ভাবে অসুস্থ দাবী করে বলেন এসব বিষয়ে আপনার সাথে এখন কোন কথা হবে না আপনি অফিসে আসেন বলে ফোন কেটে দেন।

তবে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, আমি নতুন এসেছি, এ কাজগুলো আমার যোগদানের পূর্বে, এসম্পর্কে আমার কিছুই জানা নাই।

আরো পড়ুন

’৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানে শহীদ বরিশাল একে স্কুলের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ’৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানে বরিশাল বিভাগের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *